(আমার বাবার কাছ থেকে শোনা অনেকগুলো যুদ্ধের বর্ণনা থেকে একটি)
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১, আমার ছোটচাচা সহ ৭ জন গিয়েছিলেন বুড়িগঙ্গা নদী পার হয়ে যুদ্ধ করতে। উনাদের মদ্ধে একজনের নাম ছিলো আবুল হোসেন (আমাদের বাসার পাশেই থাকতেন), বাকি পাঁচ জনের নাম আমার মনে নাই।
যখন ওনারা বিজয়ের কথা শুনলেন তখন ৭ মুক্তিযোদ্ধা নৌকা করে বাসার ফেরার পরিকল্পনা করলেন। ফেরার পথে বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকা নিয়ে সাতজন রওনা দিলেন। বিজয়ের উল্লাসে তারা খুব নাচানাচি আর গানবাজনা করতে থাকলেন। খুব ঝাকুনিতে হঠাৎ করে নৌকাটি ডুবে যায়।
সবার শরীর ভারী ছিলো গোলাবারুদ থাকায়। মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন, উনি সাঁতার জানতেন না। বাকি ছয়জন সাঁতার কেটে বেঁচে গেলেও আবুল হোসেন অনেক চেস্টা করেও সেদিন সাঁতার কেটে বাঁচতে পারেননি। পরে সবাই মিলে খুজে বের করার চেষ্টা করেও লাভ হয়নি, খুজে পেয়েছেলেন উনার লাশ।
১৬ ডিসেম্বর বিজয়, মুক্তি আর উল্লাসের দিন হলেও তাদের বাসায় ছিলো কিছুটা স্তব্ধতা, এক মুক্তিযোদ্ধা ছেলেকে হারানো বাবা-মার কষ্ট...
তারপর থেকে এলাকাবাসীর দেয়া নামে ঐ লেনের নাম হয় "শহীদ আবুল হোসেন লেন।" কিন্তু সরকারী হিসাবে এখনো এর নামকরন হয় নাই। শুধু ঐ গলিতে ঢোকার সময় ছোট একটা টিনে ছোট একটু করে লেখা আছে "শহীদ আবুল হোসেন লেন" যা এখন প্রায় অস্পস্ট...
উনি সেই আবুল হোসেন, যিনি অন্য সবার মতো চেয়েছিলেন বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে। উনি সেই আবুল হোসেন, যিনি স্বাধীন করেছিলেন ঠিকই কিন্তু তার স্বাদ তিনি গ্রহন করতে পারেননি। উনি সেই আবুল হোসেন, যিনি তাঁর বুলেট দিয়ে ধ্বংশ করেছিলেন হাজারীবাগ এলাকার অসংখ্য পাক-আর্মি আর রাজাকারদের।
শহীদ আবুল হোসেন, এক বীর মুক্তিযোদ্ধা, আপনাকে হাজারীবাগ এলাকার প্রতিটি মানুষসহ বাংলাদেশের সব মানুষের পক্ষ থেকে জানাই সালাম...
সেই সাথে সকল শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা
১. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:২০ ০