এ সুরাটিতে মূলত: মু'মিন হবার পরে মুসলিম হবারই তাগিদ দিয়েছেন আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তাআলা।
প্রথমে সবাইকে ঈমান আনতে হবে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (স

১. দুনিয়ার যে বিপদই আসে তা আল্লাহতাআলার অনুমতিক্রমেই আসে. এরূপ অবস্থায় যে ব্যক্তি ঈমানের উপর অবিচল হয়ে থাকবে, আল্লাহ তাআলা তার দিলকে হেদায়াত দান করেন। নতুবা ঘাবড়ে গিয়ে বা হতাশাগ্রস্থ হয়ে যে ব্যক্তি ঈমানের পথ হতে বিচ্যুত হবে, তার বিপদ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া দূর তো হতে পারে না, অবশ্য সে এরূপ করে অপর একটি অতি বড় বিপদ ডেকে আনে. আর সে বিপদ হলো- তার দিল আল্লাহর হেদায়াত হ'তে বঞ্চিত হয়ে যায়.
২. মু'মিন ব্যক্তির কাজ কেবল ঈমান আনাই নয়, ঈমান আনার পর কার্যত: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের(স


৩. মুমিনের ভরসা, নির্ভরতা নিজের শক্তি সামর্থ্য বা দুনিয়ার কোন শক্তির উপর থাকে না. মু'মিনকে ভরসা এবং নির্ভর করতে হবে কেবল এক আল্লাহর উপর.
৪. মু'মিন ব্যক্তির জন্য তার ধন-মাল এবং বংশ-পরিবার একটা বহু বড় পরিক্ষার ব্যাপার। কেননা সাধারনত: এসব জিনিসের মায়ায় পড়েই মানুষ ঈমান ও খোদানুগত্যের পথ হতে বিরত থাকে ও বিপরীত পথে চলতে বাধ্য হয়. এ কারণে ঈমানদার লোকদের কর্তব্য নিজের নিজের পরিবারবর্গ সম্পর্কে বিশেষ সতর্কতা করতে অবলম্বন করা, যেন কোন আপনজন তাদেরকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে খোদার পথ হতে বিভ্রান্ত করতে না পারে। তাদের ধনমাল খোদার পথে ব্যয় করতে থাকা কর্তব্য, যেন তাদের মন অর্থপুজার কঠিন রোগে নিমজ্জিত হতে না পারে এবং তা হতে সুরক্ষিত হতে পারে।
৫. প্রত্যেকটি মানুষ তার সামর্থনুযায়ী শরীয়ত পালনের জন্যে দায়িত্বশীল। মানুষ নিজের শক্তি সামর্থে বাইরে কাজ করবে, এটা আল্লাহতা'আলা চান না. অবশ্য প্রত্যেককে নিজের শক্তি-সামর্থ অনুপাতে খোদাকে ভয় করে চলতে হবে. সে জন্যে প্রত্যেককে প্রাণ-পণে চেষ্টাও করতে হবে. যতদূর সম্ভব খোদাকে ভয় করেই জীবন-যাপন করা তার কর্তব্য। এ ব্যাপারে এক বিন্দু ত্রুটি করা উচিত নয়. তার কথা বলা, কাজ-কর্ম করা ও নৈতিক ভুমিকা পালনে নিজের ত্রুটির কারণে খোদা নির্ধারিত সীমা যেন লংঘিত না হয় - সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে.
শব্দার্থে আল কুরআন মজিদ, অনুবাদ মতিউর রহমান খান অবলম্বনে।