হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে তৃতীয় বারের মত হাত খুব ভালো করে ধুলো রুদ্র । হাত থেকে কাঁচা মাংসের গন্ধ সে একদমই সহ্য করতে পারে না । অথচ এই বিরক্তিকর ভ্যাপসা গন্ধেই চারপাশ ভরে আছে , আর এই গন্ধে একটা বড় অংশে অবদান রাখছে , তার ঘরে রাখা তিনটা বিশাল মাংসের স্তপ । প্রতিবছর খুব বেশী আকারের বড় গরুই কুরবানি দেয় রুদ্র , পিতার কাছ থেকে যে পরিমাণ টাকা পয়সা পেয়েছে তাতে সে কেন আগামী তিন পুরুষের কোনো চিন্তা করতে হবে বলে মনে হয় না ।
চতুর্থবারের মত হাতটা ধুল রুদ্র । ওর গরুর মাংস কাটার পদ্ধতিটা একটু কেমন । খুব ভোরে নামাযের সাথে সাথেই সেই পুরানো পরিচিত কসাই মতি গরুটা জবাই দিয়ে চামড়া টামড়া ছিলে মাংসের বড় বড় টুকরা গুলো আলাদা করে , রুদ্রের পোর্চে রেখে যায় , বাকি যেই কাটাকুটি আছে সেটা রুদ্রই করে । পুরোটা শেষ হতে ওর লাগে চার-পাচ ঘন্টা ।
লাশের মাংসের শেষ টুকরাতে আরেক কোপ দিয়ে একটু ছোট করলো রুদ্র । হ্যা লাশ , লাশের কোনো নাম হয় না । রুদ্র লাশগুলোকে তার শিকার বলতে বরং বেশী পছন্দ করে । আর থাকে ক্রমিক নম্বর । এখন তার সামনে শিকার ৮ এর শুধু কংকালটাই পড়ে আছে । ডাক্তারী পাস করা রুদ্র অত্যন্ত নিপূনতার সাথে সমস্ত মাংস কেটে নিয়েছে । কুচি কুচি করে মাংসগুলো মিশিয়ে দিয়েছে সামনে রাখা কয়েকমণ গরুর মাংসের সাথে । শিকার ৮ এর ওজন ছিল ৬৭ কেজি , হাড্ডি বাদ দিলে শুধু মাংস আনুমানিক ৩৫ কেজি । ৪০০ কেজির সাথে তা মিশিয়ে দিলে চোখে পড়ার আশংকা খুবই ক্ষীণ ।
কংকালটাকে হাইড্রফ্লুরিক এসিডের ডুবিয়ে রাখলো বেশ কিছুক্ষণ আর কংকালটা রুপ নিল সাদা পাতলা তরলে । রুদ্রদের বাসা থেকে যখন ড্রেনে একগাদা রক্ত আর অনেক পাতলা সাদা তরল গেল , কেউ তা লক্ষ্য করারও প্রয়োজন বোধ করলো না , কারণ আজ সবখানেই রক্ত অনেক বেশীই স্বাভাবিক । এভাবেই করেই শিকার ৮ মিশে গেল আবর্জনায় , তার অস্তিত্ব সবার সামনে দিয়েই বিলীন হয়ে গেল , কেউ লক্ষ্য করার প্রয়োজনএও বোধ করলো না ...
হাতটা আবার ধুল সে , সামনে বছর আবার ধরবে আরেক শিকার , নাম দিবে শিকার ৮ এবং দিনের শেষে হাত ধুবে পাঁচবার । এরকমটিই করছে সে বিগত ৭ বছর ধরে ...........
ps : পুরোটাই কাল্পনিক
