ঈদের সকালটা শুরু হতো "ঈদ মোবারক মা",একটা চিৎকার শুনে।আমাদের বাসায় এই ব্যাপারটা খুব মজার।ঈদের দিন কে আগে ঈদ মোবারক বলতে পারে।আমি প্রতিবার ভাবি ঈদের দিন সকাল সকাল উঠবো,কিন্তু কোনবারই পারিনা

। এই ক্ষেত্রে আব্বু প্রতিবার ফার্স্ট হয়(এখনো

)।সকালে নামাজ পড়ে হর্টিকালচার থেকে এত্তোরকম ফুল নিয়ে আব্বু বাসায় ফিরে সবাইকে ঘুম থেকে তোলে।আম্মু অবশ্য আব্বুর এই মজাটা দেখবার জন্য কোনদিনও আমাদের কে আগে ঘুম থেকে তোলেনা

।
আমাদের বাসায় কেউ ছোট হোক বা বড়,সবাইকেই কোন না কোন কাজ করতে হতো।কেউ ফুলদানিতে ফুল সাজাতাম।কেউ বসার ঘরের বিছানায় ফুলতোলা নতুন বেডসীট বিছাতাম।কেউ বা আম্মুকে রান্নাঘরে সাহায্য করতাম।
আম্মু সকাল থেকেই ব্যস্ত থাকতো ঈদের জামাতের আগেই সেমাই-টা রেডি করার জন্য।আব্বু সেমাই খেয়ে নতুন পান্জাবী গায়ে জায়নামাজটা হাতে নিয়ে নামাজে যেতেন।
আব্বু নামাজে যাবার পরে মাত্র মোড়কখোলা সাবান দিয়ে গোসল করে নতুন জামা পড়তাম।ছোটবেলায় প্রতি ঈদে ২/৩ টা করে ড্রেস নেয়া হতো

।আর ড্রেসের সাথে ম্যাচ করে জুতা,ক্লিপ তো থাকতোই ,আরো থাকতো ম্যাচ করা ব্যাগ

।সেজেগুজে রেডী হয়ে আব্বু আম্মু কে সালাম করতাম।সালামীটাই আসল উদ্দেশ্য ছিলো ।বয়সে একদিনের বড় কাওকেও সালাম করা বাদ দিতাম না

।খেলার সন্গীরা চলে এলে আড়চোখে দেখে নিতাম তাদের ড্রেস,চুড়ি,ব্যাগ।কারো সাথে জামার ডিজাইন বা ক্লিপ-টা মিলে গেলে মুখটা বাংলার পাঁচ এর মতো হয়ে যেতো।ঈদটাই মাটি হয়ে যেতো

।যাই হোক একটু খাওয়া দাওয়া করে বেড়াতে বের হতাম।টার্গেট থাকতো সেইসব বাড়ি যেখানে আন্টিরা বেশি বেশি সালামী দেয়।বাড়ি বাড়ি গিয়ে বেড়াতাম দল বেঁধে।জরদা-সেমাই খাওয়া শেষ করে আমরা যখন হাঁটা ধরতাম,মনে মনে অপেক্ষা করতাম।দরজার কাছে গিয়ে আন্টি বলতেন একটু দাঁড়াও,মুখগুলো তখন আমাদের ঝলমল করে উঠতো খুশিতে।আন্টি সালামী এনে আমাদের দিতেন,আমার তখন একটু আঁইগুই করতাম

।ভাবখানা এমন "কি দরকার ছিলো"

..এরপর দে ছুট..পাড়ার দোকানে ।দোকানের সব কিছু যেন কিনে ফেলবো সেই দিন।একটাকা দামের তেঁতুলের আচার,টিকটিকির ডিমের মতো দেখতে বুনবুনি বলতাম আমরা,তার চাইতেও একটু বড় সাইজের বলগাম।সব কিনে ব্যাগে ভরে আইসক্রিম ওয়ালার কাছে যেতাম।সেইসময় পাইপ আইসক্রিম পাওয়া যেতো।এখন অবশ্য দেখিনা এই জিনিষ।একেক জন একেক রং এর পাইপ কিনে খাইতে খাইতে বাসায় ফিরতাম।দুপুরে একটু রেস্ট নিয়ে চান্গা হয়ে আবার বিকেলে বেড়ানোর জন্য