আসামের অরণ্যে: পর্ব-১: গৌহাটি
আসামের অরণ্যে: পর্ব-২: কামাক্ষ্যা মন্দির দর্শন
আসামের অরণ্যে: পর্ব-৪: কারবি অংলং জেলার ডিফু হেডকোয়ার্টার
মেঘপিয়নের দেশ মেঘালয়ে: পর্ব-৫: চেরাপুঞ্জী
মেঘপিয়নের দেশ মেঘালয়ে: পর্ব-৬: শিলং শহরের আশেপাশে
ছবি ব্লগ: পর্ব-৭: গৌহাটীর কামাক্ষ্যা মন্দির
২৯ আগস্ট, ২০১১, সোমবার।
পুরো নাম তার পিঙ্কু হাজারিকা। হ্যাংলা পাতলা এক লোক। মারুফের অফিসের ড্রাইভার। আগের রাতে মারুফ তাকে বলে রাখাতে সে সকাল ঠিক সাড়ে ছ'’টায় এসে হাজির।
পিঙ্কুর টাটা ইণ্ডিকা গাড়িতে রওনা হলাম ন’গাঁও থেকে কাজীরাঙ্গা সাফারি পার্কের উদ্দেশ্যে। কিন্তু কপাল যে খারাপ হবে, সেটা আগে বুঝিনি। যাহোক, সে প্রসঙ্গে পড়ে আসছি।
পিঙ্কুর গাড়িতে কাজীরাঙ্গার পথে
কাজীরাঙ্গার রাস্তায়
ন’গাঁও থেকে কাজীরাঙ্গা সাফারি পার্ক পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ১১০ কিলোমিটার। রাস্তার কার্পেটিং খুবই ভালো। পিঙ্কু তার গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিল। যাবার পথে রাস্তা থেকেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর '’মিসা’ অস্ত্রগুদাম' দেখলাম। পিঙ্কু জানালো প্রায় ৫০০ বিঘার উপরে বিশাল এলাকা নিয়ে এ অস্ত্রগুদাম আসামের সবচাইতে বড় অস্ত্রগুদাম এবং খুবই '’রেস্ট্রিকটেড'’ এলাকা। সুতরাং এখানে একেবারেই ছবি তোলা যাবেনা।
কাজীরাঙ্গা সাফারী পার্ক এলাকায় ঢুকলাম
কাজীরাঙ্গা সাফারী পার্ক-এর মূল গেট
ওয়াচটাওয়ার
বিলবোর্ড
ধীরে ধীরে রাস্তার দু’পাশের দৃশ্য বদলে যেতে লাগলো। আমরা কাজীরাঙ্গার বনে ঢুকে পড়লাম। কাজীরাঙ্গার এ সাফারি পার্কটি মূলত: ন’গাঁও, গোলাঘাট এবং কারবি অংলং জেলার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত। সাফারী পার্কের মূল গেট দিয়ে ঢোকার পথে জানতে পারলাম, ১ নভেম্বর থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এ পার্কটি খোলা থাকে। বাকী সময় বন্ধ। অর্থাৎ, এই খোলা থাকা ৭ মাস সময়ে বন্য জীব-জন্তুগুলো পাহাড় থেকে উপত্যকায় নেমে বিচরণ করে। তখন সাফারী পার্কের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় গাড়ি অথবা হাতির পিঠে করে বনের গহীনে যাওয়া সম্ভব। এখানে মূলত: এক শৃঙ্গী গণ্ডার (আসামের জাতীয় প্রতীক), হাতী, বাঘ, বুনো ষাঁড় এবং হরিণ বেশি দেখতে পাওয়া যায়।
কাজীরাঙ্গা সাফারী পার্ক-এর ভিতরে
কাজীরাঙ্গা সাফারী পার্ক
বন্য জবি-জন্তুর বিচরণভূমি
ওয়াচ টাওয়ার
ওই দূরে কাজীরাঙ্গার বন
মনটা সত্যিই খারাপ হলো আমার। এ্যাত দূর থেকে এ্যাত কষ্ট করে এলাম দেখতে, অথচ শুনি, আপার আসামে পাহাড়ী ঢল নামার কারণে জন্তু-জানোয়ার সব মিডল আসামের পাহাড়ে চলে গিয়েছে।
এই বিচরণভূমিতেই গণ্ডার-হাতী চড়ে বেড়ায়
অতএব ফিরতি পথ ধরলাম। ফেরার পথে অবশ্য কাজীরাঙ্গার চা-বাগান দেখে আসতে ভুললামনা।
চা বাগান
আর আসার পথে সৌভাগ্যবশত: বেশকিছু হরিণ এবং একশৃঙ্গী গণ্ডারের সাথে দেখা হয়ে গেল। পাহাড়ে লুকিয়ে থাকার বদলে অনেক দূরের বিচরণ ভূমিতে দেখলাম তারা লতাপাতা খাচ্ছে। আমিও আমার ক্যামেরা তাক করে তুলে নিলাম তাদের কিছু দুর্লভ ছবি। পিঙ্কুর থেকে জানলাম, স্থানীয় অহমীয়া (অসমীয়া) ভাষায় রাইনোসরাস বা গণ্ডারকে ’'গড়'’ বলা হয়।
ওই যে, একটা রাইনো দেখা যাচ্ছে দূরে!
ওয়াচ টাওয়ারে দাঁড়িয়ে জীব-জন্তুর খোঁজে পিঙ্কু
কাজীরাঙ্গার বন
ন’গাঁও শহরটি কলং নদীর পাশে অবস্থিত। রাতে সার্কিট হাউজের বিপরীতে কলং নদীর পার্শ্বস্থ ’'কলং’' রেস্টুরেন্টে অহমীয়া খাবার খেলাম। আগামীকাল সকালে রওনা দেব আসামের পাহাড়ী এলাকা কারবি অংলং জেলার ডিফু-এর উদ্দেশ্যে।
কলং রেস্তোরায় রাতের ডিনার
ডিনারে তন্দুরী রুটি আর চিকেন
আসামের অরণ্যে: পর্ব-১: গৌহাটি
আসামের অরণ্যে: পর্ব-২: কামাক্ষ্যা মন্দির দর্শন
আসামের অরণ্যে: পর্ব-৪: কারবি অংলং জেলার ডিফু হেডকোয়ার্টার
মেঘপিয়নের দেশ মেঘালয়ে: পর্ব-৫: চেরাপুঞ্জী
মেঘপিয়নের দেশ মেঘালয়ে: পর্ব-৬: শিলং শহরের আশেপাশে
ছবি ব্লগ: পর্ব-৭: গৌহাটীর কামাক্ষ্যা মন্দির
আমার ভ্রমণ-কাহিনী ও ছবি ব্লগ গুলোর কালেকশন
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ৮:৩০