আমাদের সমাজে এক লাইনের কিছু কবিতা প্রচলিত আছে। এক লাইন হওয়া সত্ত্বেও এদের কদর অনেক। যেমন, স্বর্গ থেকে আসে প্রেম, অথবা সংসার সুখের হয় রমনীর গুণে। সমাজ এসকল কথামালার দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং প্রচলনের কারণে এগুলোকে বিচার বিবেচনা ছাড়াই বিশ্বাস করতে শুরু করে।
যদিও প্রেম স্বর্গ বা বেহেশত থেকে আসে কিনা বা কেবল নারীর গুণেই সংসার সুখের হতে পারে কিনা তা ভাবার বিষয়, ভাবনা চিন্তাও কম হয়নি, জ্ঞানবানরা কিন্তু ভেবে এ চরণদুটির সাথে ছন্দও মিলিয়ে ফেলেছেন বাস্তবতা ও সত্যনিষ্ঠতার সাথে। যেমন,
সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে, সুযোগ্য পতি যদি থাকে তার সনে

অথবা,
স্বর্গ থেকে আসে প্রেম, নরকে নিয়ে যায় !

-------------
ইসলাম পর্দাকে নারী ও পুরুষের মাঝে ফরজ করে দেয়ার মূল উদ্দেশ্যই কিন্তু সমাজের কুলশতা দূর, আত্মিক পরিশুদ্ধতা ও তাকওয়া অর্জন।
আপনি একটু ভাবুন, এ বিধানের সীমা লঙ্ঘন করা ছাড়া কি এমন বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক হতে পারে। বা যদি কেউ প্রকৃতই পর্দাকে ফরজ জেনে মেনে চলে তবে কি সে এমন নোংরা সম্পর্কে নিজেকে জড়িয়ে নিতে পারে!?
অনেকে প্রশ্ন তুলেন, প্রেম করা বৈধ কিনা?
অবশ্যই প্রশ্নটি বিবাহিত স্বামী-স্ত্রীদের ক্ষেত্রে করা হয়নি, তা যেকোন মস্তিস্ক সম্পন্ন ব্যক্তিই বুঝেন। কিন্তু যারা পর্দা বা হিজাবের বিধান সম্পর্কে স্পষ্ট জানেন না তাদের মনেই এ প্রশ্নটি উঠে থাকে, কেননা তা জানলে বুঝতেন সীমালঙ্ঘন ছাড়া এ সম্পর্ক গড়েই ওঠে না।
--------------
সূরা মায়িদার ৫নং আয়াতে বলা হয়েছে,
স্বাধীনভাবে লালসা পূরণ কিংবা গোপনে লুকিয়ে প্রেমলীলা করবে না”
এরপর সূরা নূর এর ৩০নং আয়াতে পুরুষদের চোখ নীচু রাখতে এবং লজ্জা স্থান হিফাজত করতে বলা হয়েছে। ৩১ নং আয়াতে নারীদেরও একই কথা বলা হয়েছে, পর্দা করার কথা বলা হয়েছে আর নারীরা কাদের সাথে সাক্ষাত করতে পারবে তাদের একটা তালিকা দেওয়া হয়েছে।
আহযাবের ৫৩নং আয়াতে বলা হলো, “...আর যখন তোমরা তাদের কাছে কোনো-কিছু চাও তখন পর্দার আড়াল থেকে তাদের কাছে চাইবে। এটিই অধিকতর পবিত্র তোমাদের হৃদয়ের জন্য এবং তাদের হৃদয়ের জন্যেও।...”
সূরা আহযাবের ৫৯নং আয়াতে পর্দা করার নির্দেশ আরো পরিস্কার ভাষায় বলা হয়েছে। যেখানে দৃষ্টি নীচু ও সংযত রাখা, লজ্জা স্থান হিফাজত করার কথা এবং পর্দা করার কথা বলা হয়েছে।
জিনা তথা অবৈধ সম্পর্ক হারাম। (সূরা ইসরা আয়াতঃ ৩২) (সূরা ফুরকানঃ ৬৮)
সূরা বণী ঈসরাইল ৩২নং আয়াতে বলা হয়েছে, “তোমরা ব্যাভিচারের নিকটবর্তীও হয়ো না, নিশ্চই তা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ”।
> যেখানে গুপ্তপ্রেমে লিপ্ত হবার পথ বন্ধ করা হলো আর সংযত হতে এমনকি বিশেষ প্রয়োজনেও দেখা না দিয়ে শুধুমাত্র পর্দার আড়াল থেকে চাইতে বলা হলে, জ্বিনার সব পথই যদি বন্ধ করা ফরজ হয় তবে কিভাবে প্রেম বৈধ হয়! প্রয়োজন ছাড়া কথা বলাই যেখানে বৈধ নয়, প্রয়োজন বা বিনাপ্রয়োজন উভয় অবস্থাতেই ...পর্দার আড়াল থেকে... মানে যেখানে মুখ দেখানোই বৈধ নয় সেখানে কিভাবে ভাব-ভালবাসা, প্রেম বৈধ হতে পারে?
তাই বিবাহ বহির্ভূত প্রেম স্পষ্ট হারাম। আলেমদের মাঝে এ বিষয় কোন মতভেদ নেই।
বিবাহপূর্ব প্রেম অনেক সময় বান্দাহকে শিরকের নিকটবর্তী করে দেয়। !!!
কারণ অনেক সময় তারা একে অপরকে এতটাই ভালবাসা শুরু করে দেয় যে প্রকার
ভালভাসা পাওয়ার দাবীদার একমাত্র আল্লাহ। (সূরা বাকারাঃ১৬৫)
আমি আয়াতগুলো পুরোপুরি তুলে দেয়নি যাতে করে আপনি নিজে আয়াতগুলো সেই
সাথে সূরা গুলো পড়ে নেন।
মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের মুসলিম ভাই ও বোনদের এই হারাম কাজ থেক হিফাজত করুন। আমীন।
*** অন্নেক দিন পর লিখলাম, আশা করছি নিয়মিত হবো ***
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ২:১০