১। ঘেউ ঘেউ বাপরে বাপঃ
আগে সকালে ঘুম থেকে উঠে ছাদে গিয়ে একটু হাঁটাহাঁটি করতাম । একদিন ছাদে উঠে দেখি আমার আগেই আরেক ভদ্রলোক উঠে বসে আছে , অনেক্ষন ঘুমানের পর ব্যাটা ঝিমায়া ঝিমায়া রেস্ট নিতাছে । আমি তারে একটা নুরানী ভেটকী দিয়া টম-জেরির টম মিয়ার মত আস্তে করে এক পা দু'পা করে পিছাইতে লাগলাম । সেও হাই তুলে ইয়া বড় এক হা করে মুচকি হাসল , তারপর চমকে উঠে আমার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকল । আমিও অপলক তাকিয়ে থাকলাম ।

পরী কিংবা মানুষ পরী হলে যুগ যুগ ধরে তাকায়ে থাকা যেত । কিন্তু এ দুটোর কোনটাই না হওয়াতে আমি চিল্লায়া উঠলাম । আমার দেখাদেখিতে সেও তার ভাষায় পেত্নীর মত হাউ মাউ খাউ ঘেউ ঘেউ করে চিল্লায়া উঠল । খায়া ফালাইলোরে খায়া ফালাইলোরে বলে লাফিয়ে লাফিয়ে পুরো ছাদে উসাইন বোল্ট মার্কা কয়েকটা চক্কর দিলাম । বেটা কি বেক্কল ! হয় সাহসিকতার সাথে ছাদ থেকে লাফ দিবি না হয় সিড়ি দিয়া ভদ্র ভাবে নেমে যাবি । এগুলা কিছুই না করে কখনো আমার সামনে আবার পিছনে পড়ে ঘেউ ঘেউ করতে করতে (মনে হয় তার ভাষায় , খায়া ফালালো রে ) সেও চক্কর দিতে থাকল

কেম্নে কেম্নে যে সিঁড়ির দরজা দিয়া চার পাঁচ লাফে নিচে নেমে আস্লাম আল্লাই জানে । একতলার ছাদ থেকে সেও দুই তিন লাফে নেমে চিল্লাইতে চিল্লাইতে বাহিরে চলে গেল । ব্যাটাকে যে ভয়টাইনা পাইয়ে দিয়েছিলাম ভাবতেই হাসিপায় । যাকগে সে কথা, মনে হয় জীবনে আর ভুলেও আমাদের এদিক মুখো হয়নি আর । আত্মীয় স্বজন বন্ধু-বান্ধব সবাইরে সতর্ক করে দিছে এদিকে সিফাত আছে সাবধান

এদিকে বাসার সবাই ভেবেছে যে আমি ভীষন ভয় পেয়েছি । আমারে জোর কইরা ধইরা ছুরিতে লবন নিয়া গরম কইরা খাওয়াই দিছে , সবার বিশ্বাস এতে নাকি ভয় কমে ! গরম ছুরি জিহবাতে ছ্যাকা লাগাতে আমি আউ করে উঠি । আউ এর সাথে সাথে ভয়-ডর এগুলো বাহির হচ্ছে ভেবে সবাই চেপেচুপে ধরে আরো একবার ছুরির ছ্যাকা দিয়া দিল

মনে মনে কুকুরটাকে ধন্যবাদই দিলাম , ভালোয় ভালোয় সব অল্পের উপর দিয়া গেছে । কুকুর হওয়াতে মাত্র দুটা ছ্যাকা খেলাম তাও বাসায়। সে সময় সেখানে কোন মানুষ পরী কিংবা রিয়েল পরী থাকলে কয়টা যে ছ্যাক খাইতাম আল্লাই জানে !
বাপরে বাপ বড় বাঁচা বাইচা গেছি !!
২। বেইজ্জতি কান্ডঃ
আগে রেমন্ড এর সেলাই করা প্যান্টগুলো পড়তাম । একদিন ঢাকা থেকে বাসে উঠব বলে বাসস্ট্যান্ড গেছি । প্রচন্ড গরম , শার্ট প্যান্ট ভিজে চুপ চুপ হওয়ার দশা । মামের দেড় লিটার পানি কিনে মুখে কিছু পানির ঝাপটা দিয়ে অল্প একটু পানি খেলাম । আহ শান্তি ! ফুরফুরে মেজাজে বাসে উঠেই মেজাজটা খারাপ হল । শালা প্রথম থেকে শেষ সিট পর্যন্ত সবাই জানলার পাশের সিটগুলো দখল করে আছে । একটু হতাশ হয়েই একটা সিটে নিজেকে ধপ করে এলিয়ে দিলাম ।

ওম্মা ! একি ! প্রচন্ড টান খেলাম একটা তারপর কাপড় ছেড়ার আওয়াজ ! বাসের হাতলের সাথে প্যান্টের পকেট লেগে সেখান থেকে হাটু অবধি সেলাই ছুটে গেছে । কেউ বুঝল কিনা এদিক সেদিক তাকাতেই বাসের অপর পাশে পেছন থেকে দুইটা আপুর হাসাহাসি শুনতে পেলাম

বাস চলা শুরু করাতে গরম কিছুটা কমে গেল । মামের পানির বোতল ডানপাশে বর্মের মত রেখে দিলাম । এতে কেউ আমার পা দেখবে না । প্যান্টের সেলাইয়ের ছেড়া অংশ দিয়ে অল্প অল্প বাতাস ঢুকাতে আরামই লাগছিল । তৃষ্ণা পাওয়াতে এক ঢোক পানি খেলাম আর মনে মনে ভাবলাম মানীর মান এত সহজে নষ্ট হয় না । এক্সট্রা বর্মের দরকার নেই । প্যান্টের ভেতরে ইজ্জত রক্ষাকারী বর্ম থাকাতে ইজ্জত এত সহজে খোয়াবে না । আহ শান্তি ! এত গরমে প্যান্টের ফাঁক দিয়ে ভেতর ফুরফুরে বাতাস যাওয়াতে আরামই লাগছিল । পুরোটা পথ হাওয়া খেতে খেতে আসলাম

যাক বাবা সব ভালোভাবে গেল , কেউ বোধহয় বুঝেনি । বাসার গেইট দিয়ে ঢুকে হাফ ছেড়ে বাঁচলাম, বাসায় গিয়েই প্যান্ট পাল্টাব । কলিং বেল টিপছি এমন সময় দেখি পাশের বাসার আপু আর তার বাবু শপিং করে আসছে । আপুটার হাতে বড় ব্যাগ আর পিচ্চিটার হাতে ছোট ব্যাগ । পিচ্চিটা আমার দিকে তাকায়া তারপর তার আম্মুরে বলে , “ আম্মু আম্মু দেখ আংকেলে দুষ্টামি কর্তে কর্তে প্যান্ট ছিড়া ফেলছে । আংকেলকে মাইর দাও । ”
আপু হাস্তেছে , আর আমি তো লা জওয়াব !!
৩। গাভীর দুধঃ
এটা একটা শোনা ঘটনা । স্কুলের কোন এক ব্যাচের ছাত্র কৃষি শিক্ষায় গাভী পালনের এক প্রশ্নের উওরে লিখেছিল,
গাভীকে প্রয়োজন মাফিক খড়, কাঁচা ঘাস আর সুষম খাদ্য খাওয়ালে ভাবী বেশি বেশি দুধ দিবে ।

সবাই এটা শুনে খুব হেসেছিল । কিন্তু আমার মনে হয় যে লিখেছিল সে হয়ত ঠিকই লিখেছিল । কারন গাভীকে পুষ্টিকর খাবার দিলে গাভী বেশি দুধ দিবে আর গাভী বেশি দুধ দিলেই তো পরে ভাবী দেবরকে বড় মগে করে বেশি বেশি দুধ খাওয়াতে পারবে । সিম্পল হিসাব

মাইনষে ক্যান যে সবকিছুরে এত জটিল কইরা দেখে ?!!
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০১২ দুপুর ২:৩৩