গ্রামে এক লোক একটা বেশ মোটা তাজা ষাড়কে ততোধিক চিকন একটা দড়ি দিয়ে বাধছিল। পাশে দাড়িয়ে দেখছিল ছোট্ট একটা ছেলে। লোকটি ছেলেটিকে বললো, “জানিস এই ষাড়টি ঘাড়টা একটু মোচড় দিলেই পলকা এই দড়িটা ছিড়ে যাবে। ষাড়টি জানে না জন্যেই দড়িটা দিয়ে একে বেধে রাখা যাচ্ছে। জানলে কোনদিনই একে বেধে রাখা যেত না। গল্পটি আমার নয় জাফর ইকবালের।
এদেশের মানুষও নিতান্ত নিরুপায় হয়ে, রাজনীতিক দলগুলোর অনৈতিকতা, স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ট হয়ে সেনা সমর্থিত সরকার মেনে নিয়েছে হাসিমুখে। ঘাড় পেতে মেনে নিয়েছে সরকারের পরিয়ে দেয়া পলকা দড়িটা। কিন্ত জনগনের এই হাসিমুখ বেশীদিন আর থাকলো না। অনেকগুলো প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত আর কিছু সিদ্ধান্তহীনতায় জনসমর্থনের হারটা ক্রমেই নেমে যাচ্ছে নিচের দিকে। এবং ক্রমহ্রাসমান এই জনসমর্থনে সর্বশেষ পেরেকটি সম্ভবত মারা হল আজ।
নিতান্ত তুচ্ছ একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনী ঢা.বির ছাত্রদের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে গেল। সেনাসদস্যরা একবারও অনুমান করতে চাইল না আমাদের গলায় পরিয়ে দেয়া দড়িটা কত পলকা আর আমরা যে ষাড়ের মত না জেনে দড়িটা গলায় পড়ে আছি তা ও না। আমরা জানি মোচড় দিলেই দড়িটা ছিড়ে যাবে। তাহলে ঘাড়টা মোচড় দিতে বাধ্য করা হচ্ছে কেন? নাকি বেরাকে থেকে থেকে সেনাসদস্যদের ধারনা হয়ে গেছে যে, এই ষাড়গুলো জানেই না যে তাদের গলায় পরানো দড়িটা কতোটা পলকা।