somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা সেদিন রামুতে ছড়ানো বিভিন্ন গুজব সংগ্রহ করি ...

০৮ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ৯:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যেমন- এক পুলিশ অফিসার মাইকে বলেছিলেন, আমার গায়ে যদি ইউনিফর্ম না থাকতো তাহলে আমিও এই মিছিলে যেতাম।

আপনার শোন এমন ম্যাসেজ থাকলে শেয়ার করুন।

জানা যায়, রামুতে সংঘটিত ঘটনার সময় আইনশৃংখলার দায়িত্বে নিয়োজিত ওসি ঘটনা থামানোর পরিবর্তে উল্টো উস্কে দেয়। শুক্রবার রাতে তিনি কৌশলে পালিয়ে যেতে চাইলে ওই দিনের ঘটনায় দায়িত্বে থাকা রামু থানার ওসি এ কে নজিবুল ইসলামকে আটক করে গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ওসি পালিয়ে যাওয়ার পথে ব্যাগ ভর্তি বিপুল টাকা উদ্ধার করা হয় বলে সূত্র জানিয়েছে।

ঐদিকে রামুর সহিংস ঘটনা তদন্তে উঠে আসছে স্থানীয় চেনামুখ অনেকের নাম। এদের মধ্যে আছেন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী এমনকি সমাজকর্মীও। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠি, রাজনৈতিক নেতারা নিজ স্বার্থ সিদ্ধির জন্য তান্ডব চলাকালে মৌন সম্মতি দেয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মুসলিম সহানুভূতি আদায় করে ভোট ব্যাংকে ভাটা পড়ার আশংখায় কৌশলী ভূমিকা রাখেন বলে ধারনা করছেন এরকম মন্তব্য অনেকের।

পরিকল্পনাকারীরা ঘটনার আগের দিন বৃহস্পতিবার ইন্টারনেট থেকে আলোচিত ছবিটি ডাউনলোড করে তা পোস্টার আকারে প্রিন্ট করে। এই ছবি প্রতিবাদ সমাবেশে দেখিয়ে লোকজনকে উত্তেজিত করা হয়। রামুর ব্যস্ততম জনবহুল এলাকা চৌমুহনীতে সন্ধ্যার পর এমনিতেই শত শত লোক থাকে। ঘটনার মূল হোতারা এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাতেই তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় ঠিক করে। এ কাজের জন্য তারা রামু বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্থানীয় কয়েক নেতাকেও ব্যবহার করে। চৌমুহনীতে রাতের প্রতিবাদ সমাবেশে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নুরুল ইসলাম সেলিম ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনসারুল হক ভুট্টো, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বাবুও বক্তৃতা করেন।

রামুর ঘটনার পেছনের মুল কারনটা আমাদের কোন মিডিয়া, তদন্ত, সফর কোন কিছুই ধরতে পারছে না, তাতে ভবিষ্যৎ ঝুকি থেকেই যাবে ...

রামুর ঘটনাটি ছিল স্বতস্ফুরর্ত, অন্তত ঘটনার পরিবেশ তৈরীর ৯৯% নিশ্চিত ভাবেই স্বস্ফুর্ত ছিল।ঘটনার সূত্রপাত বা উত্তপ্ত পরিবেশে কোন কোন ছোট পরিকল্পনা সক্রিয় হলেও এটুকু বলা যায় রামুর ঘটনার ৯৫% ছিল স্বস্ফুর্ত ৫% পরিকল্পিত।

সেদিনের রামুর কয়েকটি হেয়ারসে/ গুজব এর বর্ননা দেখলেই বোঝায় যায় কত সহজে

এ সময় কিছু লোক পোস্টার আকারে প্রিন্ট করা ছবি দেখিয়ে লোকজনকে উত্তেজিত করে।

ঘটনার রাতে (২৯ সেপ্টেম্বর) ওসি তাঁকে ফোন করে দ্রুত আসতে বললে তিনি আসেন। তিনি এসে দেখেন, রামু বাজারের মোড়ে ফারুকের দোকানে অনেকে জড়ো হয়ে ফেসবুকের ছবি দেখছেন। তিনি দোকানে ঢুকে দেখতে পান, উত্তর কুমার বড়ুয়া নামের এক তরুণের ফেসবুক থেকে পবিত্র কোরআন শরিফ অবমাননার একটি ছবি তাঁর ২৬ জন বন্ধুর কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি কম্পিউটারটি জব্দ করে থানায় আনেন। এরপর উত্তমকে গ্রেপ্তার করতে তাঁর বাসায় যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, উত্তমের মা ও তাঁর বোন ছাড়া বাসায় কেউ নেই। তিনি তাঁদের আটক করে থানায় আনেন। রামু মোড়ে এসে দেখতে পান, সেখানে সমাবেশ হচ্ছে। এতে রামু নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নূরুল ইসলাম ওরফে সেলিম ও মৎস্যজীবী লীগের নেতা আনসারুল হকসহ কয়েকজন বক্তব্য দেন। ওসিও বক্তব্য দেন। এক ঘণ্টা পর সমাবেশটি শেষ হয়। এলাকায় তখন উত্তেজনা বিরাজ করছিল। কিন্তু ওসি একেবারে নিষ্ক্রিয় ছিলেন।

কয়েকজন শিক্ষার্থী রাতের বেলা আড্ডা দিতে গিয়েছিল আমিনবাজারের ওপাশে, ডাকাত সন্দেহে তাদের পিটিয়ে মারা হয়েছে মাত্র সেদিন। টেলিভিশনের খবরে প্রায়ই দেখি, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুদল ছাত্র ইয়া বড় বড় চাপাতি, রামদা, তরবারি, লাঠিসোঁটা এমনকি পিস্তল উঁচিয়ে পরস্পরকে ধাওয়া করছে। আপনারা কি কেউ ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক কিংবা অ্যানিমেল প্লানেট চ্যানেলে সিংহ বা বাঘের হরিণ শিকারের দৃশ্য দেখেছেন? হরিণের পালের মধ্যে সিংহ চড়াও হয়, একটা-দুটো হরিণকে বাগে পেয়ে যায়। এমনকি দল বেঁধে সিংহ হামলে পড়ে একটা মোষের ওপরেও। ওই যুযুধান ছাত্রের দল বিরোধী পক্ষকে তাড়া করতে থাকলে হঠাৎ করে একজন-দুজনকে পেয়ে যায় বাগে, তখন তার ওপরে লাঠি, চাপাতি ইত্যাদি নিয়ে যেভাবে তারা চড়াও হয়, তার কোনো ব্যাখ্যা হয় না, বুশম্যান বা আদিমেরা এর চেয়ে সভ্য, এমনকি জানোয়াররাও আমাদের চেয়ে ঢের বেশি মানবিক। পশুকুল কখনো স্বজাতির ওপরে হামলা করে না, সিংহ হরিণ খায়, কিন্তু কম ক্ষেত্রেই সিংহে সিংহে মারামারি হয়।

ডেইলি স্টার-এর উপসম্পাদক ইনাম আহমেদ গিয়েছিলেন ঘটনাস্থলে, সেখান থেকে পাঠিয়েছেন মর্মস্পর্শী সব প্রতিবেদন। আমাকে তিনি জানিয়েছেন, তিনি অন্তত ২০০ জনকে জিজ্ঞেস করেছেন, তাদের কেউই ফেসবুক খুলে ওই ছবি দেখেনি, যার প্রতিবাদে এত কাণ্ড। তা হলে এত ক্ষোভ, এত আগুন কেন। কারণ, একটা খুবই আপত্তিকর, অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে, এমন ছবি ইন্টারনেট থেকে নেওয়া হয়েছিল মোবাইল ফোনে। তারপর সেই ছবি ব্লুটুথে গেছে এক মোবাইল ফোন থেকে আরেক মোবাইল ফোনে। সেটা কেউ কেউ দেখেছে, আবার অনেকেই দেখেনি। যারা দেখেছে, তারা ক্ষুব্ধ হয়েছে। জানানো হয়েছে, এটা করেছে অমুক বড়ুয়া। আর যায় কোথায়?

সরকার তো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই বলছে, এটা পূর্বপরিকল্পিত। পূর্বপরিকল্পিতই যদি হবে, তা হলে সরকার করলটা কী? গোয়েন্দারা করলটা কী? ওই এলাকা তো বিশেষ এলাকা। রোহিঙ্গা ইত্যাদি কারণে সেখানে আমাদের বিভিন্ন বাহিনী ও এজেন্সির সদা সক্রিয় থাকার কথা! তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই ‘এ’ দল বলছে, এটা ‘বি’ দল করেছে, ‘বি’ দল বলছে, এটা ‘এ’ দলের কাণ্ড। দায়িত্বশীল মহল থেকে বলা হয়েছে, এটা বিদেশি চক্রান্ত। বিদেশিরা এই দেশে বসে চক্রান্ত করে, আর আমরা ঘোড়ার ঘাস কাটি?

অনুমান করতে পারি, এটা ‘এ’ দল করতে পারে, ‘বি’ দল করতে পারে, ‘জে’ দলও করতে পারে, দেশিরা করতে পারে, বিদেশিরা করতে পারে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যারা চায় না, তারা করতে পারে, রোহিঙ্গারা করতে পারে। কিন্তু ঘটনা হলো, শত শত মানুষ এই অপকর্মে যোগ দিয়েছে। সেখানে এ দল ও দল মিলেমিশে গেছে। এমনকি পুলিশের থানাকর্তাও বক্তৃতা দিয়েছেন। আমাদের সমাজটাই এত অসহিষ্ণু, এত হুজুগে, যেন আমরা একটা বারুদের ঘরে বসবাস করছি। সামান্য ইন্ধনেই এখানে বড় বিস্ফোরণ ঘটানো যায়, ঘটে।

আর প্রথম আলোয় মশিউল আলম যেমনটা লিখেছেন, এখানে সব কটি রাজনৈতিক দলই একাকার হয়ে ভূমিকা পালন করেছে। তার ওপর যুক্ত হয়েছে অসহায় বৌদ্ধ পরিবারের ভিটেমাটিটুকুনের ওপরে লোলুপ শ্যেন দৃষ্টি, ‘ওটা দিতে হবে।’ মশিউল আলমের আশঙ্কা, এ ধরনের অপকর্ম আবারও ঘটতে পারে।

এবার এর সাথে এটি পড়ুন

সারা বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবাহারকারীর সংখ্যা ৩২ লক্ষ, যা মোট জনসংখ্যার ২ দশমিক ০৪ শতাংশ। ৬ দশমিক ৮ বর্গ কিলোমিটার অধ্যুষিত কক্সবাজারে শহরে ১ লক্ষ ২০ হাজার লোকের বসবাস। সেই হিসাবে কক্সবাজারে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩ থেকে ৫ হাজারের বেশী নয়। পত্রপত্রিকা মারফত জানা যায় রাত ৮ টায় উত্তম কুমার বড়ুয়ার ফেসবুক একাউন্টে সেই আপত্তিকর ছবিটি পাওয়া যায়। আর বৌদ্ধ মন্দিরগুলোতে হামলা হয় রাত ১০টা থেকে, যা রাত ৩ টা পর্যন্ত চলে। রাত ৮টা থেকে হামলা শুরুর অব্যবহিত পূর্বে অর্থাৎ রাত ১০টার মধ্যে কিভাবে এতগুলো লোক সমাগম সম্ভব? সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে যে এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৩:২৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই দিশেহারা মেঘ কোথায় চলেছে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৫ দুপুর ১২:২৫

এটা আমার নিজের লেখা প্রিয় গানগুলোর একটা। অতীতে অনেক বার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমার মূল সুরের কাছাকাছি পৌঁছতে পারি নি। এবার সুরটা ধরা পড়েছে ভালোভাবে।



৫টা ভার্সন হয়েছে। ২টা ভার্সনটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংস্কার VS নির্বাচন

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৪২



সোস্যাল মিডিয়ায় এখন ডক্টর ইউনুসের কমপক্ষে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার পক্ষে জনগন মতামত দিচ্ছে। অন্তবর্তী সরকার এক রক্তক্ষয়ী অভ্যূত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা গ্রহন করেছে। তাই এই সরকারের কাছে মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কী অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য

লিখেছেন হিমন, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৫ রাত ৯:৪৫

বাংলাদেশে সাড়ে খোলাফায়ে রাশেদিন- ইউনুসের সরকার আসার পর থেকে আজ অব্দি দেশ নিয়ে এখানে সেখানে যা অনুমান করেছি, তার কোনটিই সত্যিই হয়নি। লজ্জায় একারণে বলা ছেড়ে দিয়েছি। এই যেমন প্রথমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রসঙ্গঃ নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় বাংলাদেশ চ্যাপ্টার.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৫ রাত ১০:৫৮

বাংলাদেশ সম্পর্কে নিউইয়র্ক টাইমস এর নিউজটা যথাসময়েই পড়েছিলাম। নিজের মতো করে রিপোর্টের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট লিখতেও শুরু করে ছিলাম। কিন্তু চোখের সমস্যার জন্য বিষয়টা শেষ করতে পারিনি।

এবার দেখা যাক বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই দেশ থেকে রাজনৈতিক অন্ধকার দূর করা যায় কিভাবে?

লিখেছেন গেঁয়ো ভূত, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৫ সকাল ১০:১৪

রাজনৈতিক অন্ধকার দূর করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জিং বিষয়, যা দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য। এই সমস্যা সমাধানে দেশের নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দল, শিক্ষাব্যবস্থা, এবং প্রশাসনের যৌথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×