আমার আপুর বিয়ে উঠানোর ডেটটা আমার জন্যই ফিক্স হচ্ছিলনা।এবার বাসায় যেতেই আম্মু ধরলেন এইবারই এস্পার অস্পার করতে হবে।ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আমাকে ৪তারিখের আগেই চলে আস্তে হবে তাই অনেকটা তাড়াহুড়ো করেই ডেট ঠিক হলো শুধুমাত্র এইটার জন্য।ঈদের পর আর কোন ডেট না থাকায় অফিস ডেটেই অনুষ্ঠান করতে হল।ফলাফল,অনেকেই অফিস ডেতে আসতে পারেন্নি।অনেকেই মনঃক্ষুন্ন হয়েছেন কেন এভাবে দিন ধার্য করা হল।বেশি গিফট ও পাওয়া যায়নি

এর আগে বাসায় ফর্ম ফিলাপ করলাম,দেন ঢাকা চলে আসার দুইদিন পর আমারে জানাইলো আজকেই চলে আসেন,ছবি তোলা হচ্ছে।ক্লাস অবস্থায় বাসায় যেয়ে আবার ব্যাক করা পসিবল না তাই আর বাসায় হল না।তারপর ভাবলাম ঢাকায় করি।আবার ফর্ম ফিলাপ করে দেখি ডেট দিছে ৪রা নভ

ঈদের আগে বাসায় যাওয়ার দুইদিন পরেই গেলাম টিকেট কাটতে।যেয়ে দেখি সব বাস এর ৩ তা এর টিকেট শেষ অনলি লাস্ট এর সিট বাকি।কি করা,জীবনেও পিছনের সিটে বসি নাই,চোখ বন্ধ করে আল্লাহ ভরসা করে অগত্যা সেটাই কিনলাম।মনে মনে ভোটার আইডি কার্ডকে তুলোধুনো করে ফেললাম।
এদিকে বাসায় যেয়েই দেখি আম্মু,আপু রোযা।কি আর করা,আমার জন্য কেউ রান্নার করতে চায় না তাই আমাকেও রোযা থাকতে হল।আবার আমার জন্য অনুষ্ঠান ঈদের পরপরই করতে হচ্ছে বলে আমাকেই রোযা রেখে বিয়ের সমস্ত শপিংকরতে হল।ঈদের আগেরদিন পর্যন্তও শপিং করসি।বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ১১.30টা ।
তারপর ঈদ আর বিয়ে দুটো মিলে ভয়াবহ খাটুনি শেষে ৩তা বাসে উঠলাম।সেকি আর যায়রে ভোলা ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা!! বাসে উঠে দেখি আমার পাশে এক ভদ্রলোক বসে আছেন।ঢাকা পর্যন্ত একটা পুরুষের সাথে !!!মনে মনে আল্লাহ ভরসা বলে ল্যাপ্পির ব্যাগ টাকে মাঝখানে রেখে বসে পড়লাম।কিছুক্ষন পর বুঝলাম পিছনের সিটে বসে জার্নি করা কাকে বলে।ঢাকা পর্যন্ত রাস্তায় যতগুলো স্পিডব্রেকার ছিলো প্রত্যেক্টার সময় সীরাম ঝাকুনি...।



ঢাকায় ঢুকেই দেখি জ্যাম,এদিকে আমার ক্ষুধায় পেট চো চো করছে।অনেক কষ্টে সহ্য করে বাস থেকে নেমে আরেক জনের ট্রলিকে নিজের ভেবে আনতে গেসিলাম।বুঝলাম,পিছনে বসে আমার মাথা আউলায় গেছে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি বৃষ্টি আপা ঝরঝর করে ঝরিছেন।ক্লাস থাকলে নির্ঘাত বাংক মারতাম,মনে হইতেছিল ভোটার আইডি কার্ডের ছবি তোলাটাও যদি বাংক দেয়া যেত।কি আর করা,২০টাকার ভারা ৩০টাকা দিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ছবি তোলা শেষ করে হলে ফিরলাম।
বাসায় আমার কষ্টের কথা বললেই আমার আপু আমারে খোটা দেয়,’তোমার এত ভোটার হওয়ার শখ,এইবার বুঝ ঠেলা।।’
একটা ভোটার আইডি কার্ডের জন্য এত কষ্ট!!!কি আর আছে বাকি জীবনে!!!


