যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী ড. ডেভিড ক্যারোল বর্তমানে প্রচলিত ইলেকট্রিক বাল্বের চেয়ে উন্নত প্রযুক্তির বাল্ব উদ্ভাবনের কথা
জানিয়েছেন। প্লাস্টিকের কয়েকটি লেয়ারের সমন্বয়ে তৈরি নতুন বাল্বটি ফ্লুরোসেন্ট বাল্বের চেয়ে দ্বিগুণ কার্যক্ষম বলে দাবি করেছেন উদ্ভাবকরা। খবর বিবিসির।
প্লাস্টিক বাল্বটির আবিষ্কারক ড. ক্যারোল ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়েক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক। তিনি বলেন, বাল্বটি যে কোনো আকারে বানানো সম্ভব এবং বর্তমানে জনপ্রিয় কম্প্যাক্ট ফ্লুরোসেন্ট বাল্ব (সিইউএফএ)-এর তুলনায় এটি বেশি উজ্জ্বল ও কম্পন বিহীন। সিইউএফএল বাল্ব মানুষের চোখের উপযোগী নয়। এর কম্পনের কারণে অনেকে মাথাব্যথায় ভোগেন।
নতুন আবিষ্কৃত ফিল্ড-ইনডিউস্ড পলিমার ইলেক্ট্রোলিউমিনেসেন্ট (ফিপেল) টেকনোলজিতে তৈরি বাল্বটির হোয়াইট-এমিটিং পলিমারের তিনটি স্তরের ভেতরের ন্যানোম্যাটেরিয়াল দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে তা আলো উৎপাদন করে।
বর্তমানে আলো উৎপাদনে ব্যবহৃত আরেকটি উন্নত প্রযুক্তি হচ্ছে, লাইট এমিটিং ডায়োড (এলইডি) ও অর্গানিক এলইডি (ওএলইডি)। এ প্রযুক্তির বাল্বের আলো কম হয় এবং এগুলোর উজ্জ্বলতা বেশিদিন থাকে না। তবে নতুন উদ্ভাবিত ফিপেল বাল্ব এসব অসুবিধা দূর করবে, বলেন ড. ক্যারোল। এ প্রযুক্তির বাল্ব তাপ উৎপাদন না করেই আলো দেবে এবং এগুলো আগের বাল্বের তুলনায় সস্তা ও প্রায় ১০ বছর স্থায়ী হবে বলে দাবি করেন আবিষ্কারক। ২০১৩ সালেই এ প্রযুক্তির বাল্ব উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ড. ক্যারোল।
পৃথিবীর বিদ্যুৎ শক্তির প্রায় ১৯ ভাগ আলো জ্বালাতে ব্যবহার হয়। অল্প শক্তিসম্পন্ন বাল্ব ব্যবহার করলে পৃথিবীর প্রায় ৬শ’ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমান পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব।