০৯/০২/২০১৪ইং
প্রিয় বন্ধু,
চিঠির শুরুতে আমার সালাম নিস। এতদিন পরে আমাকে মনে পড়ল বুঝি? তুই কেমন আছিস তা তোর পত্র পাঠে খুঁজে পেলামনা। আমার দো’য়া যখন তোর সাথে আছে তুই নিশ্চয়ই আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালই আছিস।
বন্ধু! তুই লিখেছিস লাইক কমেন্ট না দিলেও তুই আমার সব লেখাই পড়িস। আমি তো তা জানিনা রে, আমি ভেবেছিলাম তুই তোর বর, কন্যা, সংসার নিয়ে এত ব্যস্ত যে, ছেলেবেলার এই সইকে তুই দিব্যি ভুলে গিয়েছিস। আর আমি ভুলে যাওয়ার মতই এক নারী। যার পুরো জীবনটাই ভুলে ভুলে ভরা। এত সময় এই বাস্তবিক জগতে আর কোথায় এই ভুল মানুষকে মনে করার?
তুই যখন পরদেশে চলে যাওয়ার আগে বিদায় নিতে এসেছিলি, আমার মনে হচ্ছিল আমার কোন এক ভয়ঙ্কর দিন ঘনিয়ে আসছে। নিঃসঙ্গতাকে আর বুঝি লুকিয়ে রাখা গেলনা নিজের কাছে। তুই আমার সঙ্গী ছিলি। তুই ছিলি তাই আমার মন খারাপ হতো না। আমার কষ্টকে কেউ বুঝতে পারতনা। তুই তো জানিস কষ্ট প্রকাশিত হয়ে গেলে অনেক সময় একে দূর্বলতা মনে করা হয়। আর দূর্বলতার মত গ্লানি এ সমাজে আর কিছু হতে পারেনা। কেন তোকে আমি চোখের কাজল করে রাখতে পারলামনা? প্রতিদিন যত্ন করে পরতাম চোখে। হ্যা, তুই আমার চোখের কাজল হলে ঠিক উজ্জ্বল হয়ে যেত দু’চোখের চারপাশ।
আমার জীবনটাকে যদি তুই সমুদ্র ভাবিস, তবে তুই চলে যাওয়ার পরে আমার এ সমুদ্রে উত্তাল ঝড় উঠেছিল। সে ঝড়ে আমার সব তোলপাড় হয়ে গেছে। সমুদ্রের তীরে বালির ঢিবিতে জীবন্ত কবর রচিত হলেও, সবাই আমাকে মৃত ভেবে ধীরে ধীরে ভুলে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় মেতে উঠল জানিস?। মহান রব আমাকে বড় ভালবাসেন বলে তিনি আমাকে আবারও জীবন দান করেছেন। আজ আমি আমার সব শক্তি কে কাজে লাগিয়ে বালির সে কবর থেকে উঠে দাড়িয়েছি। আমাকে যখন সমুদ্রের সব ঢেউ স্বাগত জানালো, আমি সাহস পেলাম আত্ম পরিচয়ে নিজেকে প্রকাশ করতে।
আজকে আমি হাতে কলম তুলে নিয়েছি। কলমের কালিতে লেখা বর্ণমালা এত দামী হয়? জানা ছিলনা। আমি সারা জীবন যে অস্পর্শ আর নিষ্পাপ ভালবাসাকে আকাঙ্খা করতাম তা এই বর্ণ মালা আমাকে এনে দিল। আজকে আমাকে সবাই কত্ত ভালবাসে, মনে রাখে। তোর চিঠি পেয়ে আমার তো মনে হচ্ছে আমি তোকেও ফিরে পেয়েছি। তুইতোর জন্য বই পাঠাতে বলেছিস। হ্যা, একজন ব্লগার আপু তোর দেশ থেকে এসেছে বই মেলাতে, তার কাছে পাঠিয়ে দেব ইনশা্ল্লাহ আমার ক্ষুদ্র এ প্রয়াস অথবা আমার বহু কান্নায় নির্মিত এ বর্ণ মালাগুলোর মেল বন্ধনকে।
আমার হৃদয়ের চিলেকোঠায় থাকা বন্ধু!
তুই না বললেও আমার মন ঠিকই জানে তুই থাকিস আমারই আসে পাশে। আমি রোজ একবার আমার লেখায় তোর উপস্থিতির গন্ধ পাই। আমি যখন ফেবু থেকে চলে যাই, আর ঘুমিয়ে পড়ি। তখন তোর আসার সময় হয়। তোর আর আমার দেশের সময়ের নিঠুর এক ব্যবধান। তবুও তো আছিস পাশে, এও কম কি! খুব ভাল থাকিস বন্ধু। আমার সব দো’য়া তোর সাথে রইল।
ইতি-
তোর সই
এক টুকরো মানবী
তানিয়া হাসান খান
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৫৪