ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) বা কাল্পনিক বাস্তবতা এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা – এক বিশেষ ধরনের ডিভাইস যা মাথায় বা চোখে পরিধেয় এবং আপনার মাথার নড়াচড়া কে ট্র্যাক করে সৃষ্ট ত্রিমাত্রিক জগতের সাথে আপনাকে একাত্ম করে; তারমানে আপনি যে দিকেই ফিরে তাকাবেন, ত্রিমাত্রিক পরিবেশও সেভাবে ঘুরে যাবে। তাতে মনে হবে আপনি ঐ ত্রিমাত্রিক জগতের সাথেই মিশে গেছেন। ইদানিং এই প্রযুক্তি উপযোগী বহু গেমস ও সিনেমা সহজেই পাওয়া যাচ্ছে।
সেই ৭০ এর দশক থেকে এই ভার্চুয়াল রিয়েলিটি নিয়ে বিভিন্ন চেষ্টা চললেও, খুব সম্প্রতি ফেইসবুক মালিকাধীন অকুলাস রিফট্ (Oculus Rift ) এই প্রযুক্তিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে তারা সহজে পরিধানযোগ্য হেডসেট (Headset) এর ২য় সংস্করণ বাজারে ছাড়ার প্রক্রিয়ায় আছে। এই হেডসেট মাথায় পরে usb এর মাধ্যমে পিসির সাথে সংযুক্ত করতে হয় এবং পিসির নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের (DVI) মাধ্যমে ত্রিমাত্রিক গেমস বা ভিডিও চালাতে হয়। অকুলাস রিফট মাথার সামান্যতম নড়াচড়াও ট্র্যাক করে এবং ৩৬০ ডিগ্রির ত্রিমাত্রিক পরিবেশে ব্যবহারকারীকে একাত্ম করে। বর্তমানে এটির দাম রাখা হয়েছে ৩৫০ ডলার।
অন্যদিকে অকুলাস রিফট্ এর সহায়তায় স্যামসাং এনেছে গিয়ার ভিআর (Samsung Gear VR)। এই হাল্কা ওজনের প্লাস্টিকের ডিভাইসে গ্যালাক্সি নোট ফোর ট্যাব ঢুকিয়ে ত্রিমাত্রিক প্রদর্শন দেখতে হয়। এই ক্ষেত্রে ট্যাবটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটির হার্ডওয়্যার ও ডিসপ্লে হিসেবে কাজ করে। এটি কিনতে হলে খরচ করতে হবে প্রায় ২০০ ডলার। তবে যাদের নোট ফোর আছে কেবল তারাই এর চমৎকারী দেখতে পাবেন।
এই ডিভাইস গুলো যে পদ্ধতিতে কাজ করে তা হল – এদের ডিসপ্লেটিকে দুই ভাগে ভাগ করে দুই চোখে আলাদা ভাবে দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। এই দুই ভাগে একই চিত্র দুই কোণে থাকার কারণে বাস্তবে চোখ যেভাবে দেখে ঠিক একই ভাবে ঐ চিত্রটিকেও দেখে (একে Stereoscopic vision বলে), একই সাথে মাথার নড়াচড়া বা ঘূর্ণন অনুযায়ী চিত্রপটও ঘুরে যায় – সব মিলিয়ে ব্যবহারকারির মনে হবে তিনি ঐ জগতে আছেন।
এই সাদামাটা প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে গুগল বের করেছে সাধারণ কার্ডবোর্ডে তৈরি চোখে পরার উপযোগী একটি ডিভাইস – একেবারে পানির দরে! হ্যাঁ, মাত্র ২০ ডলারে গুগল দিচ্ছে Google Cardboard. এতে যেকোন স্মার্টফোন ঢুকিয়ে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি দেখা যায়। কার্ডবোর্ডে তৈরি হাল্কা এই ডিভাইসে আছে দু’টি বিশেষ লেন্স – যা বড়পর্দার অনুভূতি সৃষ্টি করে; একজোড়া গোলাকৃতি চুম্বক - যা মোবাইলের ম্যাগনেটিক সেন্সর কে ট্রিগার করতে পারে – এটি হাতের কন্ট্রোলার হিসেবে কাজ করে। সব মিলিয়ে একেবারে সস্তায় কাল্পনিক বাস্তবতার স্বাদ পাইয়ে দিচ্ছে এই Google Cardboard. তাই দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলছে।
এদিকে মাইক্রোসফটও বসে নেই। আরও কয়েকধাপ এগিয়ে মাইক্রোসফট কাজ করছে HoloLense প্রযুক্তি নিয়ে। একে তারা বলছে Augmented Reality. তারমানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি থেকে বেশিকিছু। HoloLense দেখতে অনেকটা সানগ্লাসের মত, চোখে পরার উপযোগী। এর লেন্স বাস্তব জগতকে ভার্চুয়াল জগতের সাথে মিশিয়ে দেয়। একটা উদাহরণ দেই - মনে করুন আপনি মাঠে বসে আছেন HoloLense পরে, মুহুর্তেই আপনি যদি চান দেখতে পারেন একটি F22 ফাইটার বিমান মাঠের উপর ল্যান্ড করে আছে; চাইলে বিমানটির বিভিন্ন অংশ খুলেও দেখতে পারেন। এটাই হল Augmented Reality - বাস্তবের মাঠে ভার্চুয়াল বিমান। HoloLense এখনো বাজারের মুখ দেখেনি তাই এর দামও এখনো নির্ধারিত হয়নি; খুব যে কম হবে না তা সহজেই আঁচ করা যায়।
বাংলাদেশে খুব সীমিত আকারে কিছু ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট বিক্রি হচ্ছে। তবে দামের কারণে Google Cardboard ই সবচে’ জনপ্রিয়। বিভিন্ন অনলাইন কেনাবেচার সাইটে এগুলো বিক্রি হচ্ছে। মানের বিভিন্নতার কারণে একটু যাচাই বাছাইকরা বাঞ্ছনীয়। SjCodes এই ফেসবুক পেজেও ঢুঁ মেরে দেখতে পারেন, তাদের গুলো সবচেয়ে বেশি ফিচারের।
এগুলো ছাড়াও HTC, Razor, Sony সহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ সংস্করণে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির হেডসেট তৈরী করছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০১৫ সকাল ৯:২১