বন্ধুদের হাসিঠাট্টা সত্ত্বেও বঙ্গবাজার থেকে সস্তা এই পাতলা পুলওভারটা কিনতে মন টেনেছে এর আজব ডিজাইনের জন্যেই। বুকের মাঝ বরাবর সোনালী এক জ্যামিতিক নকশা, সেটা আবার একটা ছোট্ট পকেট! যাই হোক পুলওভারটা আরামদায়ক। সেবার হাসিঠাট্টার ঐ ছোট্ট পকেটে থেকে ভাইব্রেশন মোডে মুঠোফোনটা প্রায়ই বাজতে থাকত, রাতে ইচ্ছে করেই রিসিভ করা হতো না। শেষে টেক্সট আসতো কিবা অনেক বারংবারের পর রিসিভ করতেই ধমকি - "এ্যাই ফোন ধরো না কেনো?"
কোন একটা নাটকে দেখা দৃশ্যে ছিলো - কাছে এসে বসা ছেলেটাকে মেয়েটা বলছে "কইছি না হইরা বহো, তুমি কাছে আইয়া বইলে ভাইব্রেশন মোড আহে!!!" দৃশ্যটার চেয়ে বিপরীতভাবে, রাত নিঝুমে পুলওভারের ওই পকেটে ক্রমাগত বাজতে থাকা মুঠোফোনের ভাইব্রেশন মূহুর্তে নিয়ে আসতো ওকে কাছে। তিরতির করে পুরো আবেশ জুড়ে বইতো ও। আকাঙ্খিত চিঠি হাতে পেয়েও না পড়ে, তারিয়ে তারিয়ে চিঠির অনুভূতি অনুভবে নেয়া, স্পর্শ করে থাকা, ভাবখানা এমন যেন পড়ে ফেললেই শেষ। হাসি দিয়ে ওর ধমক খেতেও মোটেই খারাপ লাগত না। কখনো বলা হয়নি ওকে এই ছেলেমানুষি ব্যাপারটা, হাস্যকর ওই মূহুর্ত একান্তই নিজের।
ছেলেবেলা না বুঝে ভেঙে ফেলা চড়ুইয়ের বাসাটা ঠিক করা, গাছ থেকে হাড়ি ভেঙে খেজুরের রস খাওয়া,কলেজে ওঠার আনন্দ, সুনির্দিষ্ট কারোর হাসামাখা মাড়াকাড়া চোখ - কিছুই রয়ে যায় না হাতের মুঠোয় কিন্তু মনের মনিকোঠায় থাকে তাদের ঘিরে থাকা সুখস্মৃতিরা, শতকষ্টেও অটুট থাকে। ছোট্ট কোন ইশারাতেই তারা জ্বলজ্বল হয়ে মনকে খানিকের জন্যে হলেও সুখের ভেলায় ভাসায়। তেমনি অবহেলার এই পুলওভার ভাসিয়েছে সেইসব ছোট্ট একান্ত আপন হাসিতে। বিরক্তি, দু:খকে বিস্মৃত করে এই চটজলদি আনন্দটাই বড়, হোক না আজ দু'জনের চলা ভিন্ন পথে ভিন্ন ভিন্নজনের সাথে।