আমার শ্রেষ্ঠ কবিতাটি লিখব বলে
শেষবার একটি সাদা কাগজ তুলে নিতেই
সেটি একটি উড়োজাহাজ হয়ে যায় --
আর আমি শৈশবের জানালায় দাড়িয়ে
হাত বাড়াই একটি ছোট্ট ফড়িং ধরবো বলে
ফড়িঙের ডানায় লেগে ছিলো আলোকিত রোদ
আর আমি অবাক তাকিয়ে দেখি রোদের পিছু পিছু ভোরের সূর্য
কখন জানালার কার্ণিশে এসে দাড়িয়েছে টের পাইনি
আমি শ্রেষ্ঠ কবিতাটি লিখব বলে
সেই সূর্যকে সাক্ষী করে একটি পতাকা বানালাম
মায়ের সবুজ শাড়িটি সূর্যে মেলে দিতেই
ছেড়া আচঁলের ফাক দিয়ে কখন একফালি সূর্যরশ্মি এসে
একটি পতাকা এনে দেয় টের পাইনি
এভাবে জানালায় দাড়িয়ে দাড়িয়ে কখন যেন কেটে গেল অনেকটা বছর
আমার শ্রেষ্ঠ কবিতাটি লিখার দিনে
যখন একটি ফড়িং উড়ছিলো আমার শৈশবের জানালায় '
তখন ফড়িঙের পিছু পিছু একে একে এলো একটি সৌখিন বিড়াল, একটি শেয়াল আর --
আর সবশেষে এলো একপাল নেকড়ে --
ওদের থাবায় তখনো শুকিয়ে যাওয়া রক্তের দাগ
চোখে হিংস্র প্রতিহিংসা আর ঘৃনা
ওরা চুপিচুপি এসে কালো লোমশ থাবায় সূর্য ঢেকে ফেলে
আর হঠাত করেই সেই হিংস্র জন্তুর দল মায়ের শাড়িটির উপর ঝাপিয়ে পড়ে
ওরা হিংস্র থাবায় মায়ের শাড়িটি নিয়ে দুর্বার গতিতে ছুটে পালায়
নির্বাক ক্রোধে দেখি ওদের থাবায় ক্ষতবিক্ষত হয় রক্তমাখা লাল সবুজের শাড়ি
যেই শাড়িতে জড়ানো ছিলো ফেলানীর রক্তমাখা লাশ
যেই শাড়িতে লজ্জা ঢেকেছিলো দু লক্ষ রমনী
যেই শাড়ির আচল রক্তমাখা ক্ষতে বেধে
একদিন চিতকার করে জ্বলে উঠেছিলো রুমী, জামী , রুহুল আমিন এবং
আরও অসংখ্য অনেকে
সেই শাড়ি নেকড়ের থাবার চিরে আজ ফালা ফালা হয়ে যায়
অবশেষে মায়ের লাল সবুজের শাড়িটি চুরি হয়ে গেলে
আর একবার আমি শ্রেষ্ঠ কবিতা ছেড়ে স্টেনগান তুলে নেই
আর একবার আমার রক্তে উন্মাদনা এসে ভর করে
আর আমি জানালার শিক ভেঙে বাইরে বেরিয়ে যাই
এভাবে লাল সবুজের শেষ শাড়িটিও চুরি হয়ে গেলে
মায়ের লজ্জা আমি কী দিয়ে ঢাকবো বলো ?
১. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ১১:৪৩ ০