সকালে ঘুম ভাঙতেই মেজাজটা বিলা হয়া গেলো বৃষ্টি দেইখা! মাঠ পড়ার কি হৈবো? মাঠে তো শ্যাঁত শ্যাতে পানি, ফুটবল খেললে মজা পাওয়ার কথা। পাশেই অবশ্য মসজিদ একটা আছে, কিন্তু জুম্মার নামাযেই লোক ধরেনা, মাঠ পর্যন্ত গড়ায়! ভাবলাম ঈদে হয়তো অনেক লোক বাড়ি গেছেগা, খালি টালি হৈবো, এই ভাইবা আস্তেধীরে শেভ, গোসল করতে গেলাম। কিন্তু শ্বশুর সাহেবের উপর্যপুরি তাগাদায় মনটা শান্ত থাকলোনা। শ্লার প্রাকৃতিক কর্মও সুসম্পন্ন দুরে থাক মাথায় উঠলো।
নয়া পাঞ্জাবী পায়জামা গায়ে চড়ায়া ছাতা মাথায় রওনা দিলাম মসজিদের দিকে। শ্বশুর সাহেব জায়নামাজ নিয়া আগেই পৌছাইছেন, জয়াগা রাখার কথা। ম্যালা ঠ্যালাঠেলি কৈরা বারান্দা টপকায়া ভেতরে ঢুকতেই দেখি বিরাট কাইজা ঝগড়া চলতাছে। কাইজার বিষয় মাঠে বৃষ্টির পানি, মসজিদে জায়গা হৈতাছে না এখন কি করা? মসজিদ কমিটিরে উদ্দেশ্যে কৈরা বচসা দিতাছে আমপাবলিক। কেনো আগে ভাগে ব্যবস্থা করা হৈলোনা?তেরপলের ব্যবস্থা করা যাইতো। শেষপর্যন্ত গুরুতর মারমুখো হয়ে উঠলো দুই পক্ষ। মসজিদ কমিটির হাদী ভাই ঘোষনা দিয়ে ফেললেন, আগামী ঈদের আগেই তেরপলের ব্যবস্থা তিনি করবেন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে ৫ হাজার টাকার অনুদান দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন তাৎক্ষনিক। কথা মাটিতে পড়ারর অপেক্ষা করে নাই প্রতিপক্ষ, সাথে সাথেই লুফে নিলো: পারিবারিক ভাবে দিলে আর সমাজের মধ্যে আলাপ কৈরা লাভ কি?
এক পর্যায়ে এই ঘেনঘেনানী প্যানপ্যানানি শুনতে শুনতে মন বিষিয়ে উঠলো, মঞ্চাইলো বৃষ্টির মধ্যে যায়া দাড়ায়া থাকি

খুৎবার পর আবার ঝগড়া। পাশাপাশি দুই জায়গায় জামাত নিয়মে আছে কি-নেই এইবারের বিষয়! এক পক্ষ কয় জায়গা থাকলে ৪টা পর্যন্ত জামাত পড়া যায় একসাথে। আরেক পক্ষ কয় যায়না। রশি টানাটানির এক পর্যায়ে ইমাম সাহেব চলে আসলেন...বাইরেরটা শেষ। মসজিদ কমিটি ঘোষনা দিলো, একেবারে বঞ্চিত হৈনাই, আমাদের ভাগে ইমাম সাহেবের মোনাজাত আছে!

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৫