অনেক দিন কিছু লিখা হয় না। সামহোয়্যার এ যে একদম ঢু মারি না তা নয়। তবে যখনই ঢু মারি তখনই শুধু দলাদলির লিখা বেশী চোখে পরে। তাই আমার মত দল বিমুখ লোকদের চেয়ে থাকা ছাড়া আর কি বা করার।
ও আমার টপিক তো বিয়ে তাহলে দেরি না করে শুরু করা যাক মুল গল্প।
তখন আমার বয়স ৮-১০ হবে। সেই সময় আমাদের এলাকার বিয়ের ধরণাটা ছিল ভিন্ন রকম। বিয়েগুলোতে যে জিনিসগুলো লক্ষণীয় তা ছিল, বরযাত্রী কণের বাড়ীতে রাওনা হতো রাত ১০ টার পর। তাও যাত্রার মাধ্যম ছিল গরুর গাড়ি। গরুর গাড়ির সামনে বসানো হত একটা মাইক। যাই হোক সারারাত নানা ধরণের স্থানীয় আচার মেনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কণে সহ বরযাত্রী ফিরত ফজরের নামাজের পর। আমাদের কানে মাইকের আওয়াজ ( নির্দিষ্ট পল্লী গীতি যা শুনে বুঝতে পারতাম বিয়ের গাড়ী আসতেছে) আসা মাত্র আমরা তরিঘরি করে ঘুম থেকে উঠে রাস্তায় দৌড় দিতাম। গরুর গাড়ির সাউনির সামনে একটি বিশেষ পর্দা দেওয়া থাকত। যার ভিতরে কণে থাকত। গরুর গাড়িটি কিছু দুর দুর থামাত ( তবে কয়েক জন মানুষ না থাকলে থামাত না)। গাড়িটি থামার পর একজন পর্দা টেনে একটু ফাকা করে দিত যা দিয়ে আমরা নববধু কে দেখতাম। দেখা শেষ হলে আবার পর্দা টেনে গাড়িটি পুনরায় যাত্রা শুরু করত। অনেক বেলা পর্যন্ত চলত বিয়ে নিয়ে মখরোচক কথা বার্তা। যদি ও এখন ধরণটা অনেক বদলেছে। এখন আর গরুর গাড়ির চল নেই। এখন সবাই প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস এইসব ব্যবহার করে।
আর এখনকার বিয়ে, বিশেষ করে ঢাকার বিয়ে একদমই অন্য রকম। কয়েকদিন আগেই আমার অফিসের এক মেয়ে কলিগ এর বিয়ের দাওয়াতে গিয়েছিলাম। এমনিতেই আমার বাসার পাশে কমিউনিটি সেন্টার থাকায় গভীর রাত পর্যন্ত বিয়ের অনুষ্ঠানের শব্দের কারণে আমি বিরক্ত। কিন্তু কোন দাওয়াতে গত দুই বছর যাওয়া হয়নি আমার। দাওয়াতে যাওয়ার পর আমি স্বভাবতই আমার কলিগকে খুজছিলাম। নাম বলতেই দেখিয়ে দিল। আমি তো উনাকে দেখে চিনতেই পারছিলাম না প্রথমে। উনার সালাম শুনে উনাকে চিনলাম। কেননা এখনকার বিয়েতে সবাই এমন মেকআপ দেয় যেন ঘর ডিস্টেমপার করেছে। মেকআপ দেওয়া মেয়েদের সবাইকে আমার একই রকম লাগে। এতে একটা মেয়ের সাথে আর একটা মেয়ের যে চিহারা গত পার্থক্য খুব একটা বুঝা যায় না ( হতে পারে এটা আমার কাছে এমনটা মনে হচ্ছে)। আশে পাশে বসা অনেকের মাঝে নিজেকে অসহায় মনে হল। কেন যেন মনে হল আমি বোধহয় বিশেষ কোন চশমা পড়েছি যা মেয়েদের শাড়িকে পাতলা করে দিয়েছে, ব্লাউজের হাতা ছোট করে দেখাচ্ছে আমাকে, পোশাকের ভিতরের শরীরের পুরো অবয়ব পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে এই চশমার কল্যাণে। কিন্তু কই না তো চোখে তো কোন চশমা পরিনি আমি। ও যা দেখছি তাই সত্যি। আসলে যুগের সাথে সাথে পোশাক ও ছোট হয়ে গেছে। খাওয়া দাওয়ার পর গান শুরু হল। আহা কি সুন্দুর গান। আমাদের সময় কত পচা গান শুনতে হত। আর এখন কি সুন্দর গানের কথা এই তো শোনা যাচ্ছে.................হেই....সেক্সি বেইবে,.........তার পর ...........ত্যারে হাতোছে............ভেভিকল সে, ভেভিকল সে....,উ লা লা উলালা........উলালা উলালা...................(হায়রে বিয়ের জন্য কত কিছুই না শিখলাম)....