কিন্তু পেটে ক্ষুদা নিয়ে কি পৃথিবীকে আবিষ্কার করা যাবে?

কৃষির আবিষ্কার আমাদের ইতিহাসকে পরিপূর্নতা দান করেছে। এটা মাত্র ১০০০০ বছর আগের ঘটনা। কৃষিই আমাদের প্রথম শ্রেষ্ট বিপ্লব। যার উদ্ধৃত ফলাফল হল শহর আর নতুন সভ্যতার জন্ম। আমাদের হাজার বছরের খাবারের জন্য প্রতিযোগিতার ম্মতি ম্লান হয়ে যায়। নতুন নতুন খাদ্যশস্যের সাথে সাথে আমরা দ্বিগুন করেছি উৎপাদন আর তাদের উৎপাদনের জন্য মাটি আর পরিবেশকে মানিয়ে নিয়েছি। আমরাই যেন সব প্রজাতির প্রানী। আমাদের নীতি হল প্রতিটি দিন আমাদের খাদ্যের ব্যবস্থার করা। যখন মাটি তার উর্বরতা হারিয়েছে এবং পানি দূলর্ভ হয়ে গেছে ততদিনে আমরা সক্ষম হযেছি কিভাবে মাটি থেকে উৎপাদন বাড়াতে হয়। মানুষ পরিশ্রম আর ধৈর্য সহকারে জমি গুলোকে আকৃতি দিয়েছে আর সেই জন্য পৃথিবী নিজের বলি দিয়েছে বারবার। কৃষি এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মানুষের পেশা। প্রায় অর্ধেক মানুষ এখনও পৃথিবীর উর্বর মাটি খনন করে যাচ্ছে এবং তার ৩ ভাগের ১ ভাগ মানুষ এখনও সেই কাজে তাদের দুটি সচল হাত ব্যবহার করে। কৃষি এমন একটি পেশা যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে পড়ে কেননা মানুষের বাচার সম্বলই হল খাদ্য।

হাজার হাজার বছর ধরে কৃষির উন্নয়নে মানুষ তার সমস্থ শক্তি ব্যয় করার পর পেয়েছিল নতুন একটি শক্তির খোজ। সেই শক্তিটিও বৃক্ষই দিয়েছে, এবং তার অবস্থান পাতালে। মিলিয়ন মিলিয়ন বছর ধরে এই বৃক্ষগুলো সূর্যের সেই শক্তি ব্যবহার করে গেছে। একসময় বৃক্ষগুলো মারা গেছে, কিন্তু সেই শক্তি নিজেদের ভেতর পুন্জিভুত করে গেছে ১০০ মিলিয়ন বছর ধরে। সেই শক্তিই হল কয়লা, গ্যাস এবং তার নিচে তেল। এই তেলই নতুন যুগের সৃষ্টি করেছে মানুষের। সেই পুন্জিভূত শক্তি মানুষকে দিয়েছে মুক্তি। তেলের সাথেই শুরু হয় মানুষের নতুন যুগ যা তাকে মুক্তি দিয়েছে সময়ের জিন্জিরা থেকে। সেই তেল থেকেই আমাদের মধ্যে কিছু মানুষ পেয়েছিল অসামান্য স্বাচ্ছন্দ। এবং মাএ ৫০ বছরে(একজন মানুষের জীবনকাল) এর মধ্যে পুরো পৃথিবী পরিবর্তন হয়ে যায়, যা আমাদের সবপূর্ব পুরুষ মিলিয়ে ২০০০০ বছরেও করতে সক্ষম হয়নি।
দ্রুত আরো দ্রুত, শেষ ৬০ বছরে পৃথিবীর জনসংখ্যা তিনগুন বেরে যায়। এবং প্রায় ২ বিলিয়নের বেশি মানুষ শহর, মহানগরে চলে আসে। দ্রুত আরও দ্রুত। চায়নার শেনঝেন, ৪০ বছর আগের জেলের নগরী, শত শত আকাশছোয়া উচু উচু ভবন গড়ে উঠতে থাকে যেখানে লাখ লাখ মানুষ থাকতে পারে। দ্রুত আরও দ্রুত। সাংহাইয়ে ৩০০০ টাওয়ার আর আকাশছোয়া ভবন গুলো গড়ে উঠেছে মাএ ২০ বছরে। আরও শত শত ভবনের কাজ চলছে। এখন ৭ বিলিয়ন মানুষের অর্ধেকের বেশি থাকে শহরে।


নিউ ইর্য়ক, পৃথিবীর প্রথম মহানগর যা আজ মেধাবী মানুষদের মিলন মেলা, পৃথিবীর শক্তি ব্যবহারের প্রতিকরুপে গৃহিত হয়। যেখানে লাখো লাখো বিদেশী দক্ষলোকের শক্তি, কয়লার শক্তি, তেলের অসাধারন এবং অনিয়ন্ত্রিত শক্তি ব্যবহার হচ্ছে। আমেরিকাই সেই বিস্ময়কর ঘোড়ার সাজে সেজেছিল সেই “ব্ল্যাক গোল্ডে” বিপ্লবে। চাষের জমিতে মানুষের পরিবর্তে নেমেছে মেশিন। এক লিটার তৈল ১০০ হাতের সমান ২৪ ঘন্টা কাজ করতে পারে। ইউনাটেড স্টেট এ এখন মাত্র ৩ মিলিয়ন চাষী আছে। কিন্তু তারা ২ বিলিয়ন মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন করতে পারে। মজার কথা হল খাদ্যের বেশির অংশই মানুষের খাওয়ার জন্য নয়। এখানে এবং অন্যান্য শিল্পোন্নত দেশগুলোতে ফসল ফলানো হয় পালিত গবাদিপশুর খাদ্যের জন্য অথবা বায়োফুয়েল উৎপাদনে। এই তৈল শক্তির প্রভাবে আজ খরা কেটে গেছে জমিগুলোতে। কোন ঋতুই এই কৃষিকে বাধা দিতে পারে না যার ফলে ৭০ ভাগ পানি ব্যবহার হচ্ছে।
প্রকৃতিতে সব কিছুই সংযুক্ত। ফসলি জমি বাড়ার কারনে কীটনাশক উন্নয়নকে ত্বরানিত করে। কীটনাশক একটি পুরষ্কার বলা হয় প্রেট্রোকেমিক্যল বিপ্লবে, কীটদের নির্মূল করার জন্য। খারাপ ফলন আর দূ:ভিক্ষ যেন অনেক দূরে চলে গেছে। এখন সবচেয়ে বড় মাথাব্যাথার কারন হল উদ্ধৃত ফসল আমরা কি করতে পারি। কিন্তু বিষাক্ত কীটনাশক মিশে গেছে বাতাস, মাটি, গাছে, প্রাণী, নদী এমনকি সাগরেও। এই কৃষকগুলো হলুদ নিরাপত্তা স্যুট পড়েছে তাতে হয়ত তারা কীটনাশক থেকে বেচে যাবে।

তারপর আসলো, সার, আরেকটি প্রেট্রোকেমিক্যাল আবিষ্কার। অব্যবহত, অনুর্বর জমিকে তারা করেছে উর্বর। ফলসগুলো যেন মাটি আর আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নিয়েছে এবং সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতা অর্জন করেছে, পেয়েছে পরিবহনের সবচেয়ে সহজ উপায়টি। আর তাই গত শতাব্দিতে, হাজার বছরের একইরকম উৎপাদনের বৈচিত্র এনে নতুন প্রায় তিন চতুর্থাংশ জাত আবিষ্কার করতে সক্ষম হয় আমাদের কৃষকগন।
যতদূর চোখ যায় জমিগুলোতে সার থাকে নিচে আর প্লাস্টিক থাকে উপরে। এগুলো গ্রীন হাউজ ভেজিটেবল বাগান যা সমস্ত ইউরোপেই দেখা যায়। প্রতিদিনই হাজার হাজার শস্য অপেক্ষা করে শত শত ট্রাকের জন্য যারা তাদের নিয়ে যাবে সুপার মার্কেটে।
কোন একটি দেশ যত উন্নতির দিকে যাবে তাদের মাংসের চাহিদা তত বেড়ে যাবে। কিভাবে এত চাহিদা পূরণ করা যেতে পারে যদি ক্যাম্পের মত গবাদিপশুর ফার্ম গুলো গড়ে না উঠে?

দ্রুত এবং দ্রুত। এই গবাদিপশু গুলো কোনদিন খোলা মাঠ দেখতে পারবে না তাদের একজীবনে। মাংসের উৎপাদন এমন বাড়ানো হয়েছে যে এই প্রানীগুলো আমাদের প্রতিদিনের আহারে পরিণত হয়েছে। এই সুবিশাল খাদ্য বাজারে হাজার হাজার পশু যেন আর মাঠের ঘাসগুলো কাটে না। দেশের প্রতিটি কোণ থেকে ট্রাকের বহর বয়ে নিয়ে যায় টন টন গ্রেইন, সয়মিল আর প্রোটিন সমৃদ্ধ গ্রেনোউলস যা হয়ে যায় টন টন মাংস। ফলাফলে ১০০ লিটার পানি দরকার হয় ১ কেজি আলু উৎপাদনে, ৪০০০ লিটার পানি ১ কেজি চাল উৎপাদনে এবং ১৩০০০ লিটার পানির দরকার হয় এক কেজি মাংস উৎপাদনে। এখানে এগুলো উৎপাদনে তেলের হিসাব অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি। আমাদের কৃষি তেলের শক্তিতে ভর করতে শুরু করছে। যার ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিগুন জনগনের পৃথিবীকে খাদ্য সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে এবং একে একটি স্ট্যান্ডার্ডে নিয়ে এসেছে। এটি আমাদের জীবনের আরামপ্রিয়তার স্বপ্নকে সত্যিতে পরিণিত করেছে ঠিকই কিন্তু পুরোপরি তেলের উপর নির্ভর হয়ে গেছে।

নতুন সময়ের পরিমাপ শুরু হয়েছ। আমাদের পৃথিবীর ঘড়ি এখন তালে তাল মিলিয়ে চলছে অধ্যবসায়ী এই মেশিনগুলোর সাথে যারা এই জ্বালানী শক্তিগুলো ব্যবহার করছে।
(২০০৯ সালে বিখ্যাত মুভি হোম অবলম্বনে লিখা। মুভিটি মানবজাতীর জন্য একটি সতর্ক বার্তা বলেই আমার মনে হয় আর তাই লিখতে শুরু করলাম এই ধারাবাহিক লিখা। সবগুলো ছবি এই মুভি থেকেই নেওয়া।)
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০১২ সকাল ১১:৪০