বিভিন্ন মনীষী দের শিশুদের বড় হওয়া নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে।
তবে এর আগে দেয়া এরিকসনের ভাবনা টা সিগমন্ড ফ্রয়েডের তত্ত্ব হতে অনুপ্রানীত।
আমরা জানি ফ্রয়েড জৈবিক বিকাশ বা যৌন বিকাশ নিয়ে উনার মনোবৈজ্ঞানিক তত্ত্ব প্রকাশ করেন। আজকে ফ্রয়েডের শিশু বিষয়ক ভাবনা প্রকাশ করব!

সিগমন্ড ফ্রয়েড;
সিগমন্ড ফ্রয়েড; ( ৬ মে ১৮৫৬ - ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯) একজন অস্ট্রীয় স্নায়ুবিশারদ যিনি মনোবিশ্লেষণ এর প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে পরিচিত । ১৯৮১ সাল থেকে তিনি মানুষের মন নিয়ে গবেষণা করা শুরু করেন। তিনি মানুষের জৈবিক যুক্তির উপর ভিত্তি করে মানুষের বড় হবার একটি মডেল তৈরি করেন, যা তার মানুষের স্বাভাবিক উন্নয়ন মূলক তত্ত্ব হিসেবে পরিচিত।
শিশু উন্নয়ন বিদ্যার ক্ষেত্রে ফ্রয়েডের মনোজৈবিক তত্ত্বে শিশুদের ক্ষেত্রে ৩ টি স্তরের কথা বলেছেন। এ স্তর গুলো যৌন বিকাশ বা লিবিডো এর সাথে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ যৌন বিকাশের সাথে শিশুর বিকাশের ধারা লক্ষ্য করেছেন তিনি। তাঁর মতে স্তরগুলো হল,
মুখসংক্রান্ত (০ – ১ বছর)
এখানে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে শিশুদের সকল চাহিদা বা আকাঙ্ক্ষা থাকে ঠোঁট ও মুখে সীমাবদ্ধ। এ সময়ে শিশুর প্রথম প্রাপ্ত বস্তু হয় মায়ের স্তন এরপরে অভ্যাসগত ভাবে তার এই জ্ঞান আর বোধ প্রাপ্ত হয় যে সে সকল বস্তু মৌখিক ভাবে অভিজ্ঞতা নেয়ার চেষ্টা করে। যেমন আঙ্গুল চোষা , জিনিস মুখে দেয়া ইত্যাদি কাজের দ্বারা সে বাস্তব জ্ঞান নেবার চেষ্টা করে। অর্থাৎ প্রাথমিক ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে শিশু অভিজ্ঞতা নেয়। পরবর্তীতে কিছু দৃষ্টান্ত বা অভ্যাস স্বভাবগত হয় এমন যে, মুখে মুখে সরাসরি চুইং গাম চাবানো এবং পেন্সিলের সমাপ্তিতে চাবানো।এছাড়াও খাওয়া, চুম্বন ইত্যাদি। সঠিক ভাবে শিশুদের এই মৌখিক বিকাশ না ঘটালে প্রবর্তিতে কিছু স্বাভাবিক আচরণের ব্যাত্যয় দেখা যায়। যেমন ধূমপান।
পায়ুসংক্রান্ত (১- ৩ বছর)
এ সময় শিশুদের নিজেদের পায়ুর বিকাশ সম্পর্কে অবগত হওয়া শিখে, বর্জ্য নির্গমন শেষের পরিতৃপ্তির অনুভূতি বুঝে। এ সময় উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা হতে কিছুটা জ্ঞান লাভ করে। যদি শিশুদের সঠিক উপায়ে প্রশিক্ষণ না করা হয়, তারা পরবর্তীতে আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগে আর অসাবধান, বেপরোয়া, বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি সুসংহত উপায়ে শিশুদের পায়ু সংক্রান্ত বিষয় গুলো অবগত করা হয় তবে তারা শৃঙ্খল এবং আত্মবিশ্বাসী হয়।
যৌনাঙ্গ সংক্রান্ত (৩ – ৬ বছর)
ফ্রয়েডের মতে এ সময় শিশুরা যৌনাঙ্গ সম্পর্কে বুঝতে শিখে। সামাজিক ও জৈবিক ভাবে কে ছেলে কে মেয়ে তারা অবহিত হয়। অপজিট সেক্স বা ভিন্ন লিঙ্গের অভিভাবকের প্রতি আগ্রহ বা জিজ্ঞাসা বাড়ে । মনোজৈবিক বিকাশের জন্য এ স্তর ব্যাপক গুরুত্ব বহন করে। শিশুদের যথাযথ ভাবে মানবিক উপায়ে এ সময় যত্ন না নিলে এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না করলে পরবর্তীতে বিভিন্ন আচরনের সমস্যা দেখা যায়।
মন্তব্য; ফ্রয়েডের মনোজৈবিক তত্ত্বের মূল বক্তব্য হল শারীরিক বিকাশ ও যৌন বিকাশের সাথে পরবর্তী জীবনের শৃঙ্খল আচরণের সম্পর্ক রয়েছে। তাই শিশুর শারীরিক ও জৈবিক বিকাশের সময় যথাযথ ভাবে শিশুর চাহিদা পূর্ণ করা প্রয়োজন। যেন পরে তার আচরণ গত সমস্যা তৈরি না হয়।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০১৩ ভোর ৫:১৬