বাংলাদেশে ইসলামের নামে নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও বাস্তবে তার অনেকগুলোই লোক দেখানো বা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। শেখ হাসিনা সরকারের মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রকল্প তার একটি অন্যতম উদাহরণ। ইসলামকে ব্যবহার করে সরকারের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার জন্যই এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যার বাস্তবিক কোনো দীর্ঘমেয়াদী সুফল জনগণ পাবে না।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ও বাস্তবতা
২০১৭ সালে শেখ হাসিনা সরকার ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেয়, যা প্রায় ৯ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা বাজেটের একটি প্রকল্প। সরকারের দাবি অনুযায়ী, এ প্রকল্পের লক্ষ্য—
✔ ইসলামিক মূল্যবোধ প্রচার ও প্রসার,
✔ ইসলামী গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন,
✔ হজ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা,
✔ মুসল্লিদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান,
✔ নারী ও প্রতিবন্ধীদের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করা।
কিন্তু বাস্তবে কী ঘটেছে?
১. প্রকল্পের নামে বিশাল অর্থ অপচয় ও লুটপাট
মডেল মসজিদ প্রকল্পের প্রতিটি মসজিদ নির্মাণে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, তা বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি।
# প্রতিটি মসজিদের গড় নির্মাণ ব্যয় ১৫-২০ কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের সাধারণ নির্মাণ খরচের তুলনায় ২-৩ গুণ বেশি।
# ঠিকাদার ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে।
# অনেক মসজিদের নির্মাণকাজ নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে করা হয়েছে, যা কয়েক বছরের মধ্যেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়তে পারে।
2. ইসলামিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের নামে ভণ্ডামি
সরকার দাবি করেছিল, এই মডেল মসজিদগুলো ইসলামের প্রচার ও গবেষণার কেন্দ্র হবে। কিন্তু দেখা গেছে—
# মসজিদগুলোতে প্রকৃত ইসলামী গবেষণার কোনো উদ্যোগ নেই।
# সেখানে ইসলামের প্রকৃত মূল্যবোধ শেখানোর পরিবর্তে সরকারপন্থী বক্তব্য প্রচার করা হয়।
# কিছু জায়গায় কেবল নামমাত্র ইসলামী বই রাখা হয়েছে, যার বাস্তবিক কোনো গবেষণামূলক কার্যক্রম নেই।
3. মসজিদ বানিয়ে ইসলামপ্রেমী সাজা, অন্যদিকে ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ
সরকার একদিকে মডেল মসজিদ বানিয়ে ইসলামপ্রেমী ভাবমূর্তি তৈরি করতে চায়, অথচ বাস্তবে দেখা যায়—
# মাদ্রাসা শিক্ষাকে অবহেলা করা হয়েছে— ২০১৩ সালে কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে, অথচ মডেল মসজিদ বানিয়ে ইসলামি ভাবমূর্তি গড়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
# ইসলামি দল ও আলেমদের দমন করা হয়েছে— ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের গণহত্যা, ২০২১ সালে মাওলানা মামুনুল হকের গ্রেপ্তার তার উদাহরণ।
# শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামবিরোধী কারিকুলাম সংযোজন— নতুন শিক্ষাক্রমে ধর্মীয় অনুশাসন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, অথচ মডেল মসজিদ বানিয়ে ধর্মীয় ভাবধারার সরকার হিসেবে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।
4. রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ব্যবহার
শেখ হাসিনার সরকার জানে, বাংলাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইসলাম নিয়ে সংবেদনশীলতা অনেক বেশি। তাই রাজনৈতিকভাবে সুবিধা নেওয়ার জন্য মডেল মসজিদ প্রকল্পকে প্রচারণার হাতিয়ার বানানো হয়েছে।
# সরকারের তহবিল থেকে মসজিদ নির্মাণ হলেও তাতে শেখ হাসিনার ছবি লাগানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ইসলামবিরোধী।
# এসব মসজিদে ইসলামের প্রকৃত দিক প্রচারের পরিবর্তে সরকারি ভাষণ প্রচার ও দলীয় প্রচারণার কেন্দ্র বানানো হয়েছে।
মূলকথা, প্রকল্পের আসল উদ্দেশ্য ইসলাম নয়, রাজনৈতিক ফায়দা
মডেল মসজিদ প্রকল্প ইসলামকে ব্যবহার করে জনগণের মন জয় করার একটি রাজনৈতিক কৌশল মাত্র। প্রকৃতপক্ষে, ইসলামের নামে জনগণের করের টাকা অপচয় করে দলীয় প্রচারণা চালানোই ছিল সরকারের মূল উদ্দেশ্য।
✅ যদি সত্যিই ইসলাম প্রচার-প্রসার সরকারের উদ্দেশ্য হতো, তাহলে—
✔ কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসাগুলোতে উন্নয়ন হতো,
✔ ইসলামী গবেষণা ও শিক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হতো,
✔ আলেম ও ইসলামী চিন্তাবিদদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হতো।
কিন্তু বাস্তবে, এটি ইসলামকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার আরেকটি ভণ্ডামির নমুনা ছাড়া কিছুই নয়।
তথ্যসূত্র:
গণপূর্ত অধিদপ্তরের মডেল মসজিদ প্রকল্পের তথ্য
অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট প্রতিবেদন
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্নীতির অভিযোগ
আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশে ইসলামিক শিক্ষার অগ্রগতি সম্পর্কিত রিপোর্ট
আরও ৫০ মডেল মসজিদ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, সঙ্গে ছিলেন মসজিদে নববির ইমাম
সারাদেশে মডেল মসজিদ- শেখ হাসিনার আরো একটি দুরদর্শী সিদ্ধান্ত
৫৬০ মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প
দ্রুত বাস্তবায়িত হচ্ছে ৫৬০ মডেল মসজিদ প্রকল্প
মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প
দ্রষ্টব্য: বিশেষ কারণে ইতোপূর্বে সম্পূর্ণ পোস্টটি কোনোভাবেই এখানে পাবলিশ করতে পারিনি বলে নতুন পোস্ট আকারে প্রকাশ করা হলো।