বি দ্র:লেখাটি আমার যেকোন দলীয় স্বার্থস্বিদ্ধির উর্দ্ধে।
ছোটকালে একটি গল্প শুনেছিলাম। একদিন এক বাঘ আর হরিণ নদীতে পানি খেতে গেছে। বাঘের পানি খাওয়ার যায়গাটি সর্বদা নদীর উজানে সংরক্ষিত আর হরিণ পানি খেত ভাটিতে। বাঘের শিকারী রক্ত মাথায় ওঠায় হরিণকে অভিযোগ করল - এই পুচঁকে পানি ঘোলা করতেছিস কেন? হরিন বলল,আমি ভাটিতে পানি খেফে কিভাবে আপনার পানি ঘোলা করছি? জবাবে বাঘ বলল,ওহ তোর দাদা একদিন করেছিল।
আমাদের দেশে এখন চলছে বাঘের পানি খাওয়ার এপিসোড। ব্লগে ইসলামকে কটাক্ষ করে ব্যাপক লেখা লেখা হত বা হয়(বর্তমানে আর খূঁজে পাওয়া যাচ্ছে না)। আমরা যারা ব্লগিং করি আমাদের সবার জানা। আমরা ব্লগ থেকে এর অনেক প্রতিবাদও করেছি। এবং বিভিন্নভাবে এই নাস্তিক চক্রের অপমানের স্বীকার হয়েছি। এর মাধ্যমে এইসব গুবরেকীট ব্লগ এবং পেসবুকে একটি অবৈধ সমাজ তৈরি করেছিল যা আরও দিন দিন ভয়াবহ হচ্ছিল। এই কথাটি প্রকাশ করতে গিয়ে মাহমুদুর রহমান আজ হরিণ হয়ে গেছেন। এটিতো আরো আগে আমাদের প্রকাশ করা উচিত ছিল। এর জন্য আমার আফসোস হয়। আগে প্রকাশ করলে এ সব নাস্তিকদের দর্প চুর্ণ হত এবং তারা আরাও আগে বুঝতে পারত যে, এদেশের মানুষ তাদের কতটা ঘৃনা করে।
আমি এখন অবাক হই যে, যারা এগুলো লিখলো তারা বেশ জামাই আদরে থাকছে আর প্রকাশের দায়ে আমার দেশ বিতর্কিত হচ্ছে। গ্রামে একটি কথা প্রচলিত আছে যে,"করলে দোষ নাই বললে দোষ"।
১. ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৮:৪৬ ০
১) ঘাতক জামাত শিবিরের হামলায় শহীদ রাজীব হায়দার, জাফর মুন্সী, বাহাদুর মিয়া, কিশোর রাসেল মাহমুদ হত্যাকান্ডে জড়িতদের আগামী ৭দিনের মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে।
২) ২৬ শে মার্চের পূর্বে স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতক সন্ত্রাসী জামাত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যায় নেতৃত্বদানকারী জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে সুশোধনী আইনের অধীনে অভিযোগ গঠন এবং নিষিদ্ধের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
৩) অবিলম্বে যুদ্ধাপরাধী সংগঠনগুলোর আর্থিক উৎস, যেসব উৎস থেকে সকল প্রকার জঙ্গিবাদী, এবং দেশবিরোধী তৎপরতার আর্থিক জোগান দেয়া হয়, সেগুলো চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।
৪) যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া গতিশীল ও অব্যহত রাখতে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালকে স্থায়ী রূপ দিতে হবে।
৫) গণমানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস ও তান্ডব বন্ধে অবিলম্বে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সকল সন্ত্রাসী গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ গোপন আস্তানা সমূহ উৎখাত করতে হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এদের ভয়ংকর রূপ প্রকাশ করে দিতে হবে।
৬) যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষক এবং হত্যা ও সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতা গণমাধ্যমগুলির বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে।
শাহবাগে ঘোষিত ৬ দফা পড়েন। কোথায় ধর্মের বিরুদ্ধে বলা আছে ?
অথচ জামায়াতের প্রচার সম্পাদক তাসনীম আলমের মালিকানার দৈনিক আমার দেশ লিখে ফেলল এটা নাকি ধর্ম নিষিদ্ধ করার আন্দোলন । এটা কি সত্য ? এই ৬ দফার কোথায় ইসলামের বিরুদ্ধে লেখা আছে ?
১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের নাস্তিক এবং ভারতের দালাল বলে গালি দিল রাজাকাররা। এখন সেই দায়িত্ব নিয়েছে জামাত শিবিরের মিডিয়া তথা দৈনিক আমার দেশ, দৈনিক নয়া দিগন্ত , দৈনিক সংগ্রাম এবং দিগন্ত টিভি ।
শাহবাগ আন্দোলনের ইমরান এইচ সরকার কি নাস্তিক?
না।
টকশোতে বাঘা বাঘা রাজনীতিবিদদের ঘোল খাওয়ানো মারুফ রসূল কি নাস্তিক?
না।
আরিফ জেবতিক কি নাস্তিক?
না।
অমি পিয়াল কি নাস্তিক বা ধর্মের নামে এই পর্যন্ত কোনো কুৎসা রটনার প্রমাণ আছে?
না।
শাহবাগের মাইক থেকে আল্লাহ-রাসূলের বিরুদ্ধে কিছু বলা হয়েছে?
না।
কুরআন পুড়ানোর ব্যাপারে বলা হয়েছে?
না।
শাহবাগে আসা সবাই কি নাস্তিক?
না।
থাবা বাবা কি নাস্তিক?
হ্যাঁ।
আন্দোলনের সাথে তার সম্পর্ক কি?
অন্য সবার মত সাধারণ কর্মী, অংশগ্রহণকারী।
আসিফ মহিউদ্দিন কি নাস্তিক?
হ্যাঁ।
আন্দোলনের সাথে তার সম্পর্ক কি?
তেমন কিছুই না। মাঝে মধ্যে ছুটকা দুয়েক জায়গায় নিজেকে আয়োজক দাবী করে। কিন্তু এই পর্যন্ত একবারও মূল মঞ্চের মাইকের ধারে কাছে যেতে পারেনি।
জামায়াত-শিবির কি ইসলামের নামে অপকর্ম করেছে?
হ্যাঁ।
একাত্তরে জামায়াতে ইসলাম কি ইসলামের নামে মিথ্যাচার করে মানুষ হত্যা করেছে?
হ্যাঁ।
শুক্রবার ককটেল হাতে মসজিদের ভেতরে যাওয়াতে কি ধর্মের অবমাননা হয়েছে?
হ্যাঁ।
মসজিদের গালিচা, ধর্মীয় বই পোড়ানোতে কি অবমাননা হয়েছে?
হ্যাঁ।
মসজিদের বারান্দায় বিনা দোষে সাংবাদিকদের পেটানোতে কি শান্তির ধর্ম ইসলামের নাম খারাপ হয়েছে?
হ্যাঁ।
শাহবাগে কি দাবী করা হয়েছে?
যারা যুদ্ধাপরাধে সংশ্লিষ্ট তাদের ফাঁসি, জামায়াত শিবির নিষিদ্ধ।
ইসলাম কি এই দাবি সমর্থন করে?
হ্যাঁ।
এত কিছুর পরেও যারা জামায়াত-শিবিরের চক্রান্ত না দেখে শাহবাগে শুধু দুচারজন নাস্তিকের জন্য পুরা শাহবাগকেই নাস্তিকতার আড্ডাখানা হিসেবে খুঁজে পায় তাদের বিচার বুদ্ধি বিবেচনা নিয়ে বলবার আর কিছু নেই। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক দিয়েছেন তা ব্যবহারের নিমিত্তে, জামায়াত শিবিরের কাছে বন্ধক দেবার জন্য নয়।