somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইংরেজি ব্যাকরণ শিখি (পর্ব ০১)

৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরিচিতি: একটি অতি প্রচলিত ও মুখরোচক গল্প দিয়েই আরম্ভ করা যাক।

কোন এক অশিক্ষিত সংসদ সদস্য ইংল্যান্ড সফর শেষে বিমান বন্দরে নামার পর সংবাদিকরা ইংল্যান্ড সম্পর্কে প্রশ্ন করল। জবাবে ওই সাংসদ বললেন, আমি অবাক হয়ে গেছি ইংল্যান্ডের ছোট ছোট বাচ্চারা কত সুন্দরভাবে অনর্গল ইংরেজি বলে যাচ্ছে আর আমার দেশের ছেলেরা আইএ-বিএ পাশ করেও ইংরেজি বলতে পারেনা! তাদের বাচ্চারা কতখানি শিক্ষিত!

অনেকেই এটা নিয়ে খুব হাসিহাসি বা তামাশা করে থাকে। প্রশ্ন তোলে আমাদের সাংসদের যোগ্যতা নিয়ে।

তবে গল্পটা আমার মনে রেখাপাত করে। সত্যিইতো যেখানে একটি ইংরেজ শিশু ইংরেজি বলে অনর্গল, সেখানে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা সারাক্ষণ ইংরেজি নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে থাকে!

আসলে ইংরেজি বলার জন্য শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, শুধু প্রয়োজন চর্চা। তাই কেউ ভাল ইংরেজি বলতে পারলেই আমরা এ সিদ্ধান্তে উপনিত হতে পারি না যে লোকটি অনেক শিক্ষিত। তবে ইংরেজি লেখার ক্ষেত্রে কিছুটা শিক্ষিত হওয়া প্রয়োজন যেমনটা প্রয়োজন বাংলার ক্ষেত্রে। আর এখানেই আসে Grammar শেখার প্রয়োজনীয়তা।

আমাদের মনে রাখতে হবে, ইংরেজি শেখা নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। আমরাও জন্মের পর একটি ভাষাকে আয়ত্ত করেছি, যে ভাষাটি আমরা মায়ের গর্ভ থেকেই শিখে আসিনি। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে আমাদের আয়ত্তকৃত “বাংলা” ভাষা “ইংরেজি” ভাষা থেকেও অনেক বেশি কঠিন, অথচ কত অনায়াসে আমরা এ ভাষায় কথা বলে যাচ্ছি। শুধু তাই নয় আমরা দেখি অনেক সময় অনেক ব্যবসায়ী আছেন যারা বাংলা পড়তেও জানেন না অথচ অনায়াসে কথা বলতে পারেন ইংরেজিতে। সুতরাং আতঙ্কিত না হয়ে আমাদেরকে শুধু চর্চা করতে হবে। তাহলে আমাদের কাছেও ইংরেজি আয়ত্ত করাটা হয়ে উঠবে এক ধরণের খেলা।

তবু প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে ইংরেজি ভাষাটা কেন একটি আতঙ্কের বিষয়? কেন কেউ ইংরেজি বলতে পারলে আমরা অবাক হয়ে যাই, আর বলি লোকটি কত শিক্ষিত?

এর কারণ হচ্ছে বাংলা ভাষাভাষী নাগরিকের কাছে ইংরেজি একটি বিদেশি ভাষা। এ ভাষা শেখানোর ব্যাপারে আমাদেরকে সহযোগিতা করার কেউ নেই।

মূল আলোচনা: যাই হোক এবার মূল আলোচনায় আসা যাক। পৃথিবীর যে কোন ভাষা শেখার জন্য ২টি পথ আছে। * নোট ১

১. মৌখিকভাবে চর্চা করা: মৌখিক চর্চার ক্ষেত্রে আমাদের পরিবেশটা অবশ্যই হতে হবে ওই ভাষার অনুকূলে যেটি আমরা শিখতে চাচ্ছি। উদাহরণ: আমরা লক্ষ্য করলেই দেখব একটা বাচ্চা যখন বাংলা শেখা আরম্ভ করে তখন তারা অনেক সময় “র” অক্ষরকে “ল” উচ্চারণ করে বা বিভিন্ন ধরনের ভুল করে। এসময় সবাই তাকে বারবার করে সংশোধন করে দেয়। আর এভাবেই তার কাছে বাংলা ভাষা শেখাটা হয়ে ওঠে অতি সহজ।

২. ভাষার ব্যাকরণ (Grammar) শেখা: আমরা যখন কোন বিদেশি ভাষা শিখতে যাই তখন আশপাশের লোকদের সহযোগিতা পাই না। তাই বিদেশি ভাষা শেখার ক্ষেত্রে আমাদের কাছে দ্বিতীয় পদ্ধতি হচ্ছে ওই ভাষার ব্যাকরণ বা Grammar আয়ত্ত করে নিজে নিজেই চর্চা করা। Grammar শেখার আরেকটি উপকারিতা হচ্ছে এটি আয়ত্ত করতে পারলে ইংরেজি পড়ার ক্ষেত্রে আমরা অনেক শব্দের (Word) অর্থ না জানলেও বাক্যের (Sentence) এর মূলভাবটা বুঝে নিতে পারি। এছাড়া ভাল ইংরেজি লেখার জন্যও ভাল Grammar জানা প্রয়োজন।

যাইহোক, Grammar আসলে ভাষা শেখার ক্ষেত্রে পথ প্রদর্শক ছাড়া আর কিছুই নয়। মূলত: Grammar হচ্ছে অল্পকিছু সূত্র বা নিয়ম-কানুনের সমাহার। যেমন: বীজগণিতে থাকে অল্পকিছু সূত্র।*নোট ২

English Grammar-এর যে ক’টি সূত্র আছে সেগুলো শুধুমাত্র আটটি Parts of Speech এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। Parts of Speech গুলোর খুঁটিনাটি শেখা সম্পন্ন হলেই শেষ হয়ে যাবে আমাদের English Grammar শেখা। এগুলো শিখলেই আমরা ইংরেজি লিখতে পারব নির্ভুলভাবে। এগুলো শেখার পর আমাদের কাজ হবে ইংরেজি শব্দভাণ্ডারকে (English Vocabulary) আরো সমৃদ্ধ করা আর চর্চা করা। এছাড়া ভাল ইংরেজি লেখার জন্য আমাদেরকে Composition এর উপরও চর্চা বাড়াতে হবে।

আপনার প্রতিজ্ঞা: ইংরেজি ভাষা বাংলাভাষার থেকে অনেক সহজ। আজ থেকে আমিও ইংরেজিতে কথা বলতে পারব অনায়াসে। আমাকে শুধু চর্চা করে যেতে হবে।

পুরো লেখাটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আগামী পর্বে আমরা Sound, letter, Alphabet নিয়ে আলোচনা করব। কিছু মৌলিক আলোচনার পরে আমরা মূল Grammar (Parts of Speech) নিয়ে আলোচনা। সঙ্গেই থাকুন।

……………………………………………

*নোট ১: আমরা যেভাবেই ভাষা শিখিনা কেন, আমরা মুলত: মৌখিক চর্চার মাধ্যমেই কোন ভাষায় কথা বলা আয়ত্ত করি। এর কোন বিকল্প নেই। তবে পার্থক্য হচ্ছে প্রথম পদ্ধতিতে আমাদের সাহায্য করে আশে পাশের লোকজন, আর দ্বিতীয় পদ্ধতিতে আশেপাশের লোকজনের কাজ করে দেয় ব্যাকরণ (Grammar)।

নোট ২:
Grammar এর সূত্র বা নিয়মকানুনগুলো নিয়েও আতঙ্কিত হবার কিছুই নেই। আমাদের ধারাবাহিক আলোচনাগুলো নিয়মিত পড়লেই বুঝতে পারবেন Grammar শেখা আসলে কত সহজ। আমরা সাধারণত ধারাবাহিকতা রক্ষা করে Grammar শিখিনা (যেমন: আমরা Noun শেখার আগেই Tense নিয়ে টানাটানি করি) তাই আমাদের কাছে এগুলো এতটা কঠিন মনে হয়।

উন্মোচনডটকম-এ পূর্বে প্রকাশিত।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১:১৭
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফুলে ফুলে মন দোলে ~ছবি ব্লগ

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৫ দুপুর ১২:৩১

~~~~~~~


~~~~~~~~~





বেড়াতে এসে মেয়েকে নিয়ে হাঁটতে বের হলাম। প্রথমে প্রাইমারি স্কুলের সামনে গিয়ে সে দলনা খেল, তারপর স্লিপার এ চড়লো এরপর আমরা আর একটু দূরে গেলাম গ্রামের রাস্তা ধরে হাটতে হাঁটতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে পরে এক হলে জীবন গেলো শুধু অনেক

লিখেছেন এম ডি মুসা, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৫ বিকাল ৫:১৭

দেশের অবস্থা আগের মতোই রয়ে গেলে, কিন্তু এর মাঝে অসংখ্য প্রাণ ঝরে গেল, কেউ জীবন হারিয়েছে, কেউ পঙ্গু হয়ে গেছে। সময় বদলায়, মানুষ বদলায়, কিন্তু বদলায় না কেবল চরিত্র। বদলায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংস্কার VS নির্বাচন

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৪২



সোস্যাল মিডিয়ায় এখন ডক্টর ইউনুসের কমপক্ষে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার পক্ষে জনগন মতামত দিচ্ছে। অন্তবর্তী সরকার এক রক্তক্ষয়ী অভ্যূত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা গ্রহন করেছে। তাই এই সরকারের কাছে মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কী অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য

লিখেছেন হিমন, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৫ রাত ৯:৪৫

বাংলাদেশে সাড়ে খোলাফায়ে রাশেদিন- ইউনুসের সরকার আসার পর থেকে আজ অব্দি দেশ নিয়ে এখানে সেখানে যা অনুমান করেছি, তার কোনটিই সত্যিই হয়নি। লজ্জায় একারণে বলা ছেড়ে দিয়েছি। এই যেমন প্রথমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রসঙ্গঃ নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় বাংলাদেশ চ্যাপ্টার.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৫ রাত ১০:৫৮

বাংলাদেশ সম্পর্কে নিউইয়র্ক টাইমস এর নিউজটা যথাসময়েই পড়েছিলাম। নিজের মতো করে রিপোর্টের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট লিখতেও শুরু করে ছিলাম। কিন্তু চোখের সমস্যার জন্য বিষয়টা শেষ করতে পারিনি।

এবার দেখা যাক বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×