প্রিয় দেশ মা !
৩৭ বছরে তোমার অনেক কৃতি সন্তানকে তুমি হারিয়েছো । "এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম" বলে সেদিন পুরো জাতিকে উজ্জিবীত করেছিলো তোমার এক সাহসী সন্তান, শুধু অকৃতজ্ঞ কুকুরগুলো ছাড়া । তোমার সেই সাহসী সন্তানকেও বেশীদিন বুকে ধরে রাখতে পারোনি তুমি । তুমি পারোনা, তোমার ভালোবাসার ধনগুলোকে তুমি ধরে রাখতে পারোনা।
অথচ, সেদিনের সেই অকৃতজ্ঞ কুকুরগুলো , যারা সুযোগ বুঝেই তোমার কাঁচা মাংসে কামড় বসিয়েছিলো, মাংস খুবলে নিয়েছিল, তোমাকে ক্ষত-বিক্ষত করেছিলো, তোমার রক্তের হুলি খেলায় যারা করেছিলো উলঙ্গ উল্লাস, যে দাগ আজও বয়ে বেড়াও তুমি , তোমার মাংস খাওয়া সেই কুকুরগুলো এখনো বহাল তবিয়তেই আছে । পাথরের পা নিয়ে তোমার বুকের ওপর দিয়ে ওরা যখন হেঁটে যায়, তোমার অনেক কষ্ট হয় । নিশ্চয়ই হয় । কষ্টে দম বন্ধ হয়ে আসে তোমার । ঘৃণায় রি রি করে ওঠে তোমার শরীর, নিশ্চিত । তবু, তোমার সন্তানেরা, আমরা তাদের কেশাগ্রও স্পর্শ করতে পারিনি ! মায়ের মাংস খাওয়া কুকুরগুলোকে আমরা বধ করতে পারিনি । এমনকি ৩৭ বছরে, নিদেনপক্ষ সেই কুকুরগুলোর লেজও আমরা সোজা করতে পারিনি !
আমি পারিনি, আমি তাদের পাঁজরের একটি হাঁড়ও ছিড়ে নিতে পারিনি, মা ! আমি কুলাঙ্গার, আমি অপদার্থ সন্তান তোমার ! এ লজ্জা আমার ! আমার একান্ত নিজের ! এ লজ্জা রাখার জায়গা নেই আমার, মা !
মা ! ৩৭ বছরে তোমার অর্জন, স্বৈরাচারকে তুমি পেয়েছো, মা ! বাচাল জননেত্রীকে পেয়েছো ! সুদর্শনা দেশনেত্রীকে পেয়েছো ! বুদ্ধিজীবি নামের একশ্রেণীর পরজীবিকে পেয়েছো । দ্বৈতনীতির সুবিধাবাদী সুশীল সমাজকেও পেয়েছো !
পাওনি শুধু, -- 'তোমার কাঁচা মাংসের স্বাদ নেয়া কুকুরগুলোকে বধ করার মত একজন!'
এ লজ্জা আমাদের মা ! তেমার সন্তানদের ! এ লজ্জা আমার , মা ! আমাকে তুমি ক্ষমা করোনা ! কক্ষনো না !