
সদ্য সমাপ্ত হয়েছে প্রিমিয়ার বিভাগ টোয়েন্টি ২০ ক্রিকেট। টোয়েন্টি ২০ ক্রিকেটের এটা তৃতীয় আসর। এবারের মতো আগের দুটি আসরও জমেছিল দারুণ। কিন্তু এবারের আসরে নতুন যোগ করা হয় ‘চিয়ার লিডার্স’’।
চিয়ার লিডার্সরা দর্শকদের বিনোদনের নামে যা করেছে তাতে আনন্দের চাইতে বিরক্তই হয়েছে দর্শকরা। কারণ কোনো মুসলিম দেশে এ ধরনের সস্তা বিনোদন কারোই কাম্য নয়। বিশেষ করে যারা টেলিভিশনের পর্দ্দায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে খেলা দেখেছেন তাদের যন্ত্রণার সীমা ছিল না। স্বল্প বসনায় ‘চিয়ার্স লিডার্সদে'র আপত্তিকর নৃত্য ক্রিকেটভক্তদের বিনোদনের পরিবর্তে বিরক্তই করেছে বেশি। যারা খেলার মাঝে নির্মল বিনোদন খুঁজেন তাদের আনন্দের পরিবর্তে বাস্টই হয়েছে বেশি। এই আপত্তিকর নৃত্যর হাত থেকে বাঁচতে বার বার রির্মোট টিপে পরিবর্তন করতে হয়েছে টিভির চ্যানেল।
২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত টোয়েন্টি ২০ বিশ্বকাপে দর্শকদের আনন্দ দিতে আর খেলোয়াড়দের উৎসাহ যোগাতে ‘চিয়ার্সগার্লস বা চিয়ার্স লিডার্সদের প্রদর্শন করা হয়। মাঠে ক্রিকেটাররা চার আর ছক্কা মারলেই মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকা ‘চিয়ার্স লিডার্সরা’’ নড়ে-চড়ে উঠে উদ্ধাম নৃত্য শুরু করে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপের পর এই অপসংস্কৃতি ভর করে আইসিএল আর আইপিএল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে। ভারতের এই দুটি আসরে ‘চিয়ার্স লিডার্সদে'র আরো খোলামেলা করে দেখানো হয়। নারীদের এই খোলামেলা নৃত্য দেখে এক শ্রেণীর মানুষ সস্তা বিনোদন খুঁজলেও বিবেকবান যে কেউ এটাকে সহজে মেনে নিতে পারেনি। দক্ষিণ আফ্রিকা আর ভারতে না হয় এটা মেনে নেয়া যায়। কিন্তু যখন দেখি বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়েছে তখন সত্যি অবাক হতে হয়। টোয়েন্টি ২০ ক্রিকেটে এবার বাংলাদেশেও শুরু করা হয়েছে। চিয়ার্স লিডার্স নামে মেয়েদের খোলামেলা নৃত্য।
ক্রিকেট মাঠে খেলোয়াড়দের দুই ড্রেসিং রুমের সামনে তিনজন করে মোট ৬ জন চিয়ার্স গার্লস নাচানো হলো পুরো টোয়েন্টি ২০ লীগে। স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শক ছাড়াও দেশ টিভির সরাসরি সম্প্রচারের কারণে লাখ লাখ ক্রিকেটভক্তরা দেখলো ওয়েস্টার্ন কালচারের মাঝে হারিয়ে যাওয়ার দৃশ্য। এটা চলতে থাকলে খেলাধুলার মাঝ থেকে থারা নির্মল বিনোদন খুঁজেন তারাও হয়তো মুখ ফিরিয়ে নিবেন। ক্রিকেট বোর্ড কর্মকর্তাদের বুঝতে হবে মাঠে মানসম্মত খেলাহলে দর্শকের অভাব হবে না। আর খেলার মান না বাড়িয়ে চিয়ার্স গার্লস নাচিয়ে বেশি দিন দর্শক ধরে রাখা সম্ভব না। দর্শকরা মাঠে আসে ভালো এবং প্রতিদ্বনিদ্বতাপূর্ণ খেলা দেখতে। চিয়ার্স লিডার্সদের শরীর দুলিয়ে নৃত্য দেখতে কেউ স্টেডিয়ামে আসে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে রূপকথা নামে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টকে ক্রিকেট বোর্ড থেকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারাই দর্শকদের স্টেডিয়ামে আনতে এবং বিনোদন দিতে চিয়ার্স লিডার্সদের ব্যবস্থা করেছে। মুসলিম দেশে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা থেকে ক্রিকেট বোর্ড কর্মকর্তাদের বিরত থাকতে হবে। মাঠে দর্শক টানতে ‘চিয়ার্সলিডার্স' নৃত্য বাদ দিয়ে মানসম্মত খেলার ব্যবস্থা করতে হবে। খেলার মাঠে আর যেন চিয়ার্স লিডার্স নৃত্য না হয় সে দিকে লক্ষ্য-রাখতে পারেন ক্রিকেট বার্তা ব্যক্তিরা সচেতন ক্রিকেট ভক্তদের এটাই প্রত্যাশা।
‘রূপকথা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট যাদের ‘চিয়ার্স লিডাস' হিসেবে এনেছে তাদের পরিচয়ও গোপন রাখা হয়েছে। তবে তাদের নৃত্য দেখে অনেকের মনে হয়েছে এদের পিতা-মাতাও তাদের এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখতে পারেন।