অনেক দিন আগের কথা। প্রায় বছর খানেক হবে। গ্রামের বাড়ীতে বেড়াতে গেলাম। সময় পাইলেই গ্রামে যাইতে আমার ভালো লাগে। সবাই মিলে হৈ হোল্লায় ইট পাথরের জীবনটা কয়দিন ভুলে থাকা যায়। বাড়ী গেলে চাচাদের ঘরে আমার বেশী সময় কাটে। তার কারণটা হইলো নীলা। আমার চাচাতো বোন। ক্লাস টেনে পড়ে। ভীষন চটপটে আর ভালো মনের একটা মেয়ে। যত দিন থাকি বাড়ীতে আপু আপু করে কান ঝালাপালা করে ফেলে।
সংগত কারনেই রাতে ঘুমাইও নীলার কাছে। ইট পাথর আর মাটির কথা চলে আমাদের মাঝ রাত অবধি। কোনো কোনো দিন সকালও হয়ে যায়। নীলা তার স্কুলের সব কথা আমার সাথে শেয়ার করে। কোন ছেলে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে। কোন ছেলে প্রেমের অফার দিলো সব। আমি কইলাম
: তুই কেমনে বুঝলি ছেলেটা তোর দিকে তাকায়া ছিলো ?তুই তাকাসনি ?
: হুম তাকাইছি।
: তাইলে খালি ছেলেটার কথা কস কেন! বললে দুইজনের কথাই বলবি।
তখন একটু ডংয়ের সুরে বলে ,
: আপু তুমি না !!
: আমি কি?
: কিছু না।

ধান ভানতে আইসা শীবের গীত শুরু করছি মনে হয়। যা কইতে আসলাম, সেই দিন রাতেও একই ভাবে আমরা গল্প করছিলাম। হঠাৎ আমি একাটা গন্ধ টের পেলাম। কেমন জানি! খুব তীব্র লাগছিল গন্ধটা। ভালোতো নাই তবে কেমন জানি ! আমার উশখুশ করা ঘুম না আসা অবস্থা দেখে নীলা জানতে চায় কি হইছে আমার। বললাম, তোর নাকে লাগছে না?
: কি?
: কোনো গন্ধ?
: লাগছে, তবে এতটা অসস্থিকর না যেমন তুমি করছো।
: মানে কি?

: মানে আমার এতো খারাপ লাগছে না।
: কিসের গন্ধ এটা ?
: ফুলের।
আমি পুরাই থ !!!!!!!!!!
: ফুলের ?????

: হুম তোমাকে দেখাবো সকালে গাছটা।
সকালে আমাকে নীলা গাছটা দেখালো। আমি অবাক হয়ে দেখছিলাম ফুল গুলো। জানালার পাশে একটু জঙ্গলের মতো জায়গায় সাদা থোকা থোকা এতো সুন্দর ফুল গুলোর এমন বিদঘুটে গন্ধ! নীলা বলল চাচাকে বলবে গাছটা কেটে ফেলতে। বললাম কেনো? তোমার গন্ধ সহ্য হয় না তাই। আমিতো দুইদিন পর চলে যাবো তাছাড়া তোর সমস্যা হয় না তাইলে কেনো কাটবি গাছটা!
নীলা জানেনা এমন অনেক গন্ধ গায়ে মেখে আমরা নিত্যদিন চলছি। চাইলেই গন্ধ এড়ানোর জন্য গাছটা কেটে ফেলতে পারি না। কাটা যায় না। নীলা অনেক গন্ধই তোর মত আমাদেরও সয়ে গেছে / সয়ে যায়/ সয়ে যাবে ।