পরজন্মে বিদেশী কুত্তা হইয়া জন্মাইবার সাধ জাগিয়াছে মনে।




আহা ! কি আরামেই না দিন গুজরান করিতেছে এই অবলা প্রাণীগুলো । অন্ততপক্ষে সারা কার্যদিবস বিদ্যুতের অভাবে গরমে অর্ধসেদ্ধ হইয়া , পানির অভাবে পুরো কার্যদিবস পর কিছু আগে স্নান করিয়া তাহাই মনে হইতেছে। তাহারা নাগরিক না হইয়াও প্রয়োজন অধিক সুযোগ ভোগ করে , আর আমরা নাগরিক হইয়াও উল্টা । প্রধানমন্ত্রী বলিয়াছেন দেশে নাকি বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি পাইয়াছে। কোথায় হারাইয়া গেল সেই বিদ্যুৎ ?
ভাবিতে অবাক লাগে , নগর জীবনে থাকিয়াও নুন্যতম নাগরিক সুবিধা পাইয়াছি কিনা। "নাগরিক সুবিধা" শব্দটি আমার নিকট অপরিচিত। তাহার কেবল রাজনৈতিক বক্তৃতাতেই দেখা মেলে। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ আমাদের কিভাবে বুঝিবেন? তাহারা তো আর আমাদের মতো নাগরিক নন (!)। তারা রাজনীতি করিয়া এখন জাতে উঠিয়াছেন। আর আমরা সেই ছোট জাত- ই রহিয়া গিয়াছি।
ছোটবেলায় কবিতায় দেশপ্রেম শিখিয়াছিলাম। সেই সোনার বাংলা, সেই সবুজ মাঠ ঘাট। জানিতে বড়ই ইচ্ছা হয় কবিগুরু আর কাজী নজরুল বাচিয়া থাকিলে তাদের সেই সোনার বাংলার এহেন হাল দেখিয়া কি করিতেন। এতসব দুর্নীতিবাজ , এহেন বিচার ব্যবস্থা আর এতসব উল্টোরথের ভিড়ে তাদের দেশপ্রেম কতটুকু টিকিয়া থাকিত বা আদৌ থাকিত কিনা তা জানিতে বড়ই সাধ জাগে। এখন সবকিছু শুভঙ্করের ফাঁকি বলিয়া মনে হয়।
বড়ই আজব এই দেশ , বিচিত্র এই দেশের মানুষগুলো ।