
কোনও নিপুণ শিল্পীর তুলিতে আঁকা নয়
অথচ এই ছবিটি আমার শৈশবের পাতায় সকালের শিশিরের মতো তুমুল জীবন্ত
আমার ছোট্ট একটি কোষানাও ছিল। কয়েকজন প্রাণের বন্ধু ছিল। গ্রাম থেকে কিছুদূর পুবে আড়িয়াল বিল ছিল।
আমাদের আড়িয়াল বিলে, আর...বাড়ির উত্তর-দক্ষিণ-পশ্চিমের বিরান চকে বর্ষায় আমনের গলাডোবা জলে শাপলা ফুটতো পবিত্র শুভ্রের মতো। আমরা শাপলার সাথে, আর পানির তুলতুলে গা ঘেষে ভাসমান পাতার সাথে সাথে ভাসতাম। একটা একটা করে শাপলার পাঁপড়ি ভাঙতাম, আর তার ভেতর কী যেন খুঁজতাম। গভীর শাপলালতার তলদেশে ডুব দিয়ে তুলে আনতাম শালুক।
দূরে ঝাঁকে ঝাঁকে বালিহাঁস নাবতো; কচুরি গোছার ফাঁকে লুকাতো ডাহুক, শিকারি বক; ভীষণ ইচ্ছে হতো ডুব দিয়ে খুব কাছে ভিড়ে টুপ করে ধরে ফেলি পা। ....আহ্, অমনি সমস্বরে কলকলিয়ে ওরা উড়ে যেতো। সে কী দৃশ্য!
হাওড়বাওড়বিলদেশের সোনার কিশোর শাপলার মালা গলায় পরে, নিরীহ ঢেউজল গায়ে মাখে আর বেড়ে ওঠে। একদিন সেগুলো যদিও স্মৃতি হয়, ভুলে যায়- তার ছিল শাপলাশালুকডাহুকের নেশাঘোর উদোম শৈশব, অজবয়সের উদ্দাম দিনসমগ্র।
নোট :
ছবিটি ফেইসবুকে রুবাইয়েত তিতলির এ্যালবাম থেকে নেয়া হয়েছে। লেখাটার উৎস ওখান থেকেই।