আজ হয়ত তোমার কাছে মনে হচ্ছে এই পৃথিবীটা আমার নয়, আমি সবার থেকে খারাপ ছাত্র ,আমার কোন রকম যোগ্যতা নাই। হয়ত আমি জীবনের অনেক একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হারিয়ে ফেলেছি, হয়তবা আমার লাইফ এ+ না পাওয়াতে একেবারেই শেষ হয়ে গিয়েছে। আসলে বাস্তবতা কি তাই বলে। না কখনো না। একটি রেজাল্ট বা শুধুমাত্র একটি এ+ কখনো মানুষের সব কিছু না। জীবন পথের মাত্র শুরুর পর্যায়ে আছ তুমি যেখানে সফলতা আর ব্যর্থতা দুটোরই সংমিশ্রণ রয়েছে।
আর এ দুটো নিয়েই তো আমাদের জীবন। হয়ত তুমিও আজকে অন্য সবার মত হাসতে অথবা মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে তুমিও দৌড়াদৌড়ি করতে। সেটা করতে পারছ না। তোমার ফলাফল খারাপ হয়েছে এতে তুমি ভাবছ আমি হয়ত অন্য সবার থেকে খারাপ ছাত্র। সেটা না। একটু ভেবে দেখ হয়ত তোমার মাঝে এমন কোন গুণ বা দক্ষতা রয়েছে যেটা অন্য কারো মাঝে নেই। হয়ত তুমি এখন নিজের রুমের দরজা বন্ধ করে নীরবে কাদতেছ। তুমি কি জান,তোমার বাবা মাও হয়ত তোমার কথা ভেবে খায়নি। তোমার জীবনের এখনো অনেক পথ বাকি। যেটা গিয়েছে সেটাকে যেতে দাও। এসএসসি ফলাফলের গৌরব,সুনাম থাকে মাত্র দুই বছর।
আর তোমার ভেতরে যদি আগুন থাকে তাহলে নিশ্চই জ্বলে উঠবে,এত চিন্তা করার কোন প্রয়োজন নাই । এই কথাটা তুমি কলেজ এ গিয়েই বুঝতে পারবে। হয়ত তোমার ফ্রেন্ডরা আজকে সবাই এ+ পেয়ে নাচানাচি করছে তুমি পারছ না। কলেজ লাইফটা ভাল ভাবে পড় দেখবে তোমার রেজাল্ট এমনিতে ভাল হবে। আবার বলতে পার ভাইয়া পড়লাম তো অনেক কিন্তু রেজাল্টতো ভাল হল না। জীবনের সব ক্ষেত্রেই মানুষ সফল হয়না। কিছু কিছু সময় মানুষ হোচট খায়। আর এটা আমাদের সবাইকে মেনে নিতেই হবে। বিফল হয়েছ তাই বলে কি তোমার বসে থাকলে হবে? না … সেটা হবেনা। বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন হাজার বার চেষ্টা করার পরেও থেমে যান নি। আর তিনি যদি থেমে যেতেন তাহলে কি আমরা বাল্ব পেতাম? ঠিক তেমনি ভাবেও তোমার মাঝে লুকিয়ে আছে সুপ্ত শক্তি। আর সেটার দ্বারাই তোমার নিজের মাঝে লুকিয়ে থাকা মানুষটিকে জাগিয়ে তুলতে হবে। তোমার রেজাল্ট খারাপ হয়েছে এ জন্য এমন কোন কাজ করোনা যাতে করে তোমার পিতা মাতাকে সারা জীবন সেই কষ্ট বুকে নিয়ে বেড়াতে হয়। অনেক সময় দেখি অনেকে এ+ পায়নি বলে নিজের জীবন বিসর্জন দেয়,ফাসি দেয় অথবা অন্য কোন উপায়ে সুইসাইড করে। আরে এ বোকা সুইসাইড কেন করবি তুই। জীবন কি এখানেই শেষ?
আরাফাত শাওন যে কিনা ৪.৮৩ পাওয়ার পরেও এ+ না পেয়ে সুইসাইড করেছিল।
এটা সবেমাত্র প্রথম ধাপ। আমি প্রথমেই বলেছি নিজের মাঝে আগুন থাকলে সেটা দেরিতে হলেও জ্বলে উঠবেই। দেখা যাবে তিন থেকে চার বছর পর কে কোন পজিশনে যাচ্ছে। তখন দেখা যাবে তুমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অথবা বুয়েটের মত নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধুদের সাথে আডডা দিচ্ছ। আর তোমার সেই বন্ধুগুলো যারা অনেক এ+ নিয়ে গর্ব করেছিল তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় পা রাখতে পারেনি। এ রকম হাজার হাজার উদাহরণ রয়েছে আমাদের দেশে। একটু চোখ কান খোলা রেখে চারদিকে দেখ। দেখবে তোমার উত্তর পেয়ে যাবে। জীবনে গেলে বড় হতে এ+ লাগে না। লাগে শুধু চেষ্টা,ধৈর্য আর উপযুক্ত কনফিডেন্স। আবারো বলছি তুমি বাবা মায়ের একমাত্র আদরের সন্তান। তাদের তুমি আজকে মুখে হাসি ফোটাতে পারোনি। প্রাণপণ লড়াই করো যুদ্ধে জেতার জন্য। তখন দেখতে পারবে তোমার মা-বাবার মুখের হাসি কোনদিন শেষ হবেনা। সে হাসির মূল্য তুমি দুনিয়ার কোন মুদ্রায় ক্রয় করতে পারবে না ।
নিজের উপর বিশ্বাস রাখ,সামনের লক্ষ্যকে এখন থেকেই স্থির করো । আর কলেজ লাইফের প্রথম দিন থেকেই লেখাপড়ায় মগ্ন হয়ে যাও। ২ বছর দেখতে পারবে জীবনের আসল মিনিং। আর তখন নিজেকে মনে হবে আমি এ পৃথিবীর সব থেকে সুখি এবং দামি মানুষ। আবারো বলছি কনফিডেন্স ধরে রাখো….বিজয় তোমারি হবে মাস্ট।
Life,not a single word.Its so complicated. We can make it easier according to our work and performance. A hard working man can never be falled in backside of others. He always stays at front side and lead the world. Try to make yourself as an important person. World will search for you. Best wishes for you……….