সরকার, চক্রবর্তী, রায়, দাস, শীল, ভট্টাচার্য
নামের শেষে অদ্ভুত কিছু লেজ কি খুব অপরিহার্য?
মাঝখানে চন্দ্র, রাণী, কুমার
অদ্ভুত, অদ্ভুত সব নামের বাহার।
তোমার নাম কি? নাম বলি,
আহা পুরো নাম বল, পদবীটা কি?
উত্তর শুনে কেউ খুশি হয়, কারও মন খারাপ হয়।
আমি যে বর্ণে, পদবীতে কারও চেয়ে ছোট, কারও চেয়ে বড়!!
আমার চাকুরী দাতা আমার নাম দেখে
ইতস্ততবোধ করে; বড় ভাবনায় পড়ে।
নাম বলে ছেলেটা হিন্দু; সবই ঠিক; তবু,
চাকুরীটা দেব??? বেচারা বড় ভাবনায় পড়ে।
ওরা জানে না, আমি আমার নামের পাশের
লজ্জা তিলকটা মনে প্রাণে ঘৃণা করি।
ওটা একটা বর্ণ বৈষম্যের লজ্জা তিলক আমার কপালে।
আমার মুখে বসন্তের কালো ক্ষতটা যেভাবে বয়ে বেড়াই,
নামের সাথে বৈষম্যের লজ্জাটাও তেমনি বয়ে বেড়াই।
আমি জন্মাবার সময় যদি কথা বলতে পারতাম,
কান্নার বদলে চিৎকার করে বলে উঠতাম,
“সাবধান!!! আমার নামের সাথে বর্ণ বৈষম্যের
লেবেলটা লাগাবেন না। লাগাবেন না।”
কিন্তু প্রকৃতি নিয়ম ভাঙ্গে না, প্রকৃতি বিভাজন চায়না।
আমরা চাই। জন্মের পর পর ই বর্ণ বৈষম্যের সিল মেরে দেই,
তুমি হিন্দু, তুমি মুসলমান, তুমি খ্রিষ্টান।
তুমি বৈশ্য, তুমি শূদ্র, তুমি ক্ষত্রিয় কিংবা ব্রাহ্মণ।।
নামের পাশে পদবী চাই না, চাই না বর্ণ বৈষম্যের লজ্জা তিলক।
ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র নয়।
ছোট্ট সোনা প্রাণগুলো মানুষ হয়েই বেড়ে হোক, বেড়ে উঠুক।