«অন্ধকারের একজন (দ্বিতীয় অংশ)
«অন্ধকারের একজন (প্রথম অংশ)
মৃদু বাতাস বইছে। আকাশে কিছু মেঘ দেখা যাচ্ছে। রিমি লোকটার দিকে এগিয়ে গেল।
- তুমি এসেছ?
- আপনি কে? কি চান? কেনই বা এখানে এসেছেন?
- আরে আস্তে আস্তে। এতোগুলো প্রশ্নের জবাব একসাথে কিভাবে দিব বল। আচ্ছা একটা একটা করে দেই। অবশ্য একটির উত্তর দিলেই সবগুলোর জবাব পেয়ে যাবে।
- আপনি কিন্তু আবারও হেয়ালী করছেন।
- আমি মোটেই হেয়ালী করছি না।
- আচ্ছা, আপনার সাথে কি সেদিন রাতের প্লানচেটের কোন সম্পর্ক আছে?
লোকটি হো হো করে হেসে বলল, না। হলে ভাল হত বোধ হয়। কিন্তু সেদিনের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আসলে সেদিন রাতে ছাদ থেকে যে শব্দটি শুনতে পেয়েছিলে সেটার কারন কিন্তু তোমার ছোট বোনই ছিল।
রিমি অবাক হয়ে বলল, সারা!
- হুমম। আর তোমার রফি ভাইয়েরও একটু হাত ছিল। আচ্ছা, তুমি জানতে চাও তো আমি কে? দাঁড়াও বলছি, তবে তার আগে তোমাকে ছোট্ট একটি কাজ করতে হবে।
- কি কাজ?
- চোখ দুটো বন্ধ করতে হবে।
রিমি বুঝতে পারল না তার কেন চোখ বন্ধ করতে হবে। সে বিরক্তি নিয়ে লোকটার দিকে তাকিয়ে রইল। লোকটাকে দেখে মনে হচ্ছে সে-ও নাছোড় বান্দা, চোখ না বন্ধ করলে কিছুই বলবে না। বাধ্য হয়ে সে চোখ দুটো বন্ধ করল।
আর সাথে সাথে বিরাট এক ধাক্কা লাগল।
প্রথমে মনে হল কেউ একজন তার মস্তিষ্কের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। তার স্নায়ুগুলো নিয়ে খেলা করছে, প্রতিটি নিউরনে নিউরনে নেচে বেড়াচ্ছে। সে বুঝতে পারছে। হ্যা, সে এমন কিছু বুঝতে পারছে যা ছিল তার কল্পনারও বাইরে।
তার মনে হল লোকটি সাধারণ কেউ নয়। অন্য এক জগতের বাসিন্দা। অন্ধকার জগতের একজন। আর সেই জগতটার সাথে রিমির কোনো একটি যোগসূত্র আছে। সুক্ষ্ম তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো যোগসূত্র। আর রিমির কাছে সেটাই ধীরে ধীরে পরিস্কার হচ্ছে। যতই পরিস্কার হচ্ছে তার বিস্ময়ের পরিমান ততই বাড়ছে।
- এই রিমি! কি হয়েছে?
রিমি চোখ খুলে দেখল মা তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
- এমন করছিস কেন?
রিমি আশেপাশে তাকাল। কিন্তু লোকটিকে দেখতে পেল না।
- কাকে খুঁজিস?
- কই, কাউকে না তো। তুমি উপরে এলে কখন?
- এই তো কিছুক্ষন আগেই। কিন্তু তুই এই সন্ধ্যা বেলায় একা একা ছাদে কি করিস?
রিমি মিষ্টি হেসে বলল, কই কিছু না তো।
- সারা আমাকে বলেছে তুই নাকি প্রায়ই একা একা ছাদে চলে আসিস।
- এমনিই, তেমন কিছু না মা। চলো নিচে যাই।
- চল। এমন সময় ছাদে থাকাও উচিত না।
তারা দুইজন সিঁড়ির দিকে এগোতে লাগল। তাদের পেছনে লোকটি দাঁড়িয়ে রইল। সে তার দায়িত্ব শেষ করেছে। এখন ফিরে যাবে তার পৃথিবীতে। সেখানে অপেক্ষায় থাকবে অন্যরকম একটি মেয়ের জন্য। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:৩৮