ডিসক্লেইমারঃ এ লিখাটা নাস্তিক, আধানাস্তিক/ভীরু নাস্তিক (এগনস্তিক), অমুসলিম ও ধর্মনিরপেক্ষ-জাতীয়তাবাদীদের জন্য নয়। তাঁরা নিজ দায়িত্বে পড়বেন, তবে অহেতুক ক্যাচাল করবেননা।
============================
এই ব্লগে ইসলাম নিয়ে লিখছেন যারা তারা নিশ্চয়ই আন্তরিকভাবেই তা করছেন। আর এটা করতে গিয়ে নানান অবস্থার মুকাবিলা করতে হচ্ছে তাদেরকে। একদল মানুষতো কোন ধর্মীয় পোস্টই সহ্য করতে পারছেনা। তাই তারা মুসলিম ব্লগারদের বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করছেন। কিছু কিছু ব্লগার মারাত্মক ভাবে ব্যক্তি আক্রমনের শিকার হচ্ছেন এদের হাতে। কেউ কেউ হচ্ছেন গালাগালির শিকার। আবার কেউ কেউ ইসলামকেই অহেতুক ও আনজাস্টিফায়েবলী আক্রমন করে মুসলিম ব্লগারদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলে কিছু মুসলিম ব্লগার ধৈর্য হারানোর অবস্থায় পৌঁছে যাচ্ছেন। এমতাবস্থায় কিছু বিষয়ের দিকে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই এ পোস্ট।
১. মুসলিমরা সবসময় ইতিবাচক (পজিটিভ) মানসিকতা পোষণ করে। তাই সবসময় ইতিবাচক মানসিকতা পোষণ করুন। উস্কানীমুলক পোস্টের মুকাবিলায় ধৈর্য ধরে ইতিবাচক ভাবে এগুলোর জবাব দিন। উস্কানীমূলক সব পোস্ট গিয়ে জবাব দেবার দরকার নেই। প্রয়োজনে ইসলামের সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করে আলাদা পোস্ট দিন। তর্ক করলে তা করতে হবে উত্তম পন্থায়। কাঊকে শক্ত জবাব দিতে হলে সেখানেও যেন ইসলামী আদাব লংঘন না হয়।
২. ব্যক্তি আক্রমনের ও গালাগালির শিকার হলে ধৈর্য ধারণ করে নিজের পথে থাকুন। ইসলাম ছেড়ে দেবেননা বা আপনার এডভারসারীদের প্রিয়ভাজন হবার চেষ্টা করবেননা। ওরাতো চায়ই আপনাকে ইসলামের পথ থেকে সরিয়ে দিতে। মনে রাখবেন, "ইসলামের কথা বলবেন আর আপনার উপর ফুল ও মধূ বর্ষিত হবে" ব্যাপারটা এমন নয়। খ্যাতির কাঙ্গাল হয়ে কোন লাভ নেই। এ কথাতো সবার জানা যে ইসলামের সর্বোত্তম দায়ীয়াহ্ (আহবানকারী) ছিলেন মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ্ (সঃ)। তার মত নির্যাতনের মুকাবিলা আমাদের কাউকে করতে হবেনা। রসূলুল্লাহ (সঃ) অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করেছেন। তাঁর উপরে ঊটের নারী-ভূড়ি ছাপানো, গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যার চেষ্টা, পাগল আখ্যা দিয়ে বখাটে ছেলেদের তাঁর পেছনে লেলিয়ে দেয়া ছাড়াও তাঁর উপর পাথর, জুতা সব কিছুর ঢিল ছোঁড়া হয়েছে। আমরা কেউই তাঁর চেয়ে বেশী সম্মানিত নই। তাই এসব যদি আমাদের উপর এসে পড়ে তাতে অপমানিত হওয়ার কিছু নেই। আর এজন্য পালিয়ে যাওয়ারও কোন মানে হয়না।
৩. দলাদলির ব্যাপারেও সাবধান থাকতে বলব সবাইকে। ইসলাম প্রতিষ্ঠিত না থাকার কারণে নানান দলে ভাগ হয়ে গেছে উম্মাহ্। এ ক্ষেত্রে ব্লগে নিজেদের দলাদলীর রূপটা প্রকাশ করবেননা। মুসলমানদের একটা দলের বিরুদ্ধে আরেকটা দলকে উস্কে দেয়ার ঘৃণ্য কাজ করে থাকে ইসলামের শত্রুরা সবসময়। এ ক্ষেত্রে সমসাময়িক সবচেয়ে শক্তিশালী মুসলিম গ্রুপটিকে আক্রমনের টার্গেট বানায় তারা। এ ক্ষেত্রে অন্য মুসলিমদের সাহায্য নেয় এরা। এজন্য তারা আপনার মধ্যে গোষ্ঠি চেতনা উস্কে দিয়ে কোন মুসলিম গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার চেষ্টা করবে। তাদের উদ্দেশ্য সিদ্ধি হলে তারা তখন অপেক্ষাকৃত দূর্বল মুসলিম দল বা গোষ্ঠিগুলোকে সামলাতে পারবে। তাই তাদের ফাঁদে পা দিয়ে মুসলমানদের কোন দল বা গোষ্ঠির বিরুদ্ধে পাবলিক ফোরামে সমালোচনা করবেননা, আপনাকে তারা যতই কোন গ্রুপের সাথে সম্পৃক্ত করতে চাক না কেন। আপনি যদি তাদের কোন কাজের সমালোচনা করেন তাহলে তা তাদের কাছেই সরাসরি পাঠান। এতে আপনার দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে।
এক্ষেত্রে একটা বিষয় ব্যতিক্রম। সেটা হল ইসলামের মধ্যে নতুন চালু করে দেয়া অনৈস্লামিক কাজগুলোর অসারতা তুলে ধরে আলোচনা করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রেও কোন বিশেষ গ্রুপের সমালোচনা নয় বরং বিশেষ শিরকী, বিদ'আতী বা কুফরী কাজের সমালোচনা।
৪. বিরুদ্ধবাদীদের মুকাবিলায় আক্রমনাত্বক ভাষা পরিহার করাও দরকারী। মন্দের মুকাবিলায় ভাল প্রয়োগকারী হিসেবেই আমাদের প্রভূ আমাদের উত্থান ঘটিয়েছেন। যুক্তি-বুদ্ধি এবং দরদই হবে আপনার আলোচনার ও তর্কের ধরণ। তবে দীনী বিষয়গুলোতে যুক্তিবাদের প্রাধান্যকে এড়াতে হবে। সে ক্ষেত্রে কুর'আন এবং সুন্নাহ্র দলীলই শুধু প্রয়োগ করতে হবে। এ জন্য কুর'আনের সাথে এবং সুন্নাহ্র সাথে সম্পর্ক বাড়াতে হবে।
৫. আরেকটা ব্যাপার হল, এই ব্লগটাই কিন্তু গোটা দুনিয়া নয়। আপনার ব্যক্তিগত পড়াশুনা, পারিবারিক-সামাজিক সম্পর্ক, বাইরের দাওয়াতী কাজ এগুলো যেন বাধাগ্রস্ত হয়ে না পড়ে কোনভাবেই এখানে বেশী সময় দেবার কারণে।