somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফারাসানের নীলে-১ (আরব ডায়েরি-৭৩)

২৫ শে মার্চ, ২০১৪ বিকাল ৪:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সে অনেকদিন আগের কথা। প্রথম বছর যখন আবহা আসি, তখন থেকেই ফারাসানের কথা শুনে এসেছি। কিন্তু কোনভাবেই সেখানে যেতে পারছিলাম না।

ফারাসান আইল্যান্ডস মূলত ছোট বড় ৮৪ টি দ্বীপ নিয়ে তৈরি একটি দ্বীপমালা। বড় দ্বীপটিকেও ফারাসান বলা হয়। রেড সী’র এই দ্বীপটি টুরিস্টদের অন্যতম আকর্ষণ। ফারাসান তার অপরূপ সৌন্দর্য্য আর স্বচ্ছ নীল জলের জন্য বিখ্যাত। এটি জিজান থেকে মাত্র ৫০ কিমি দূরে। আমাদের আবহা থেকে ৪/৫ ঘন্টার ড্রাইভ।



এত কাছে হলেও সেখানে যাওয়াটা এত সহজ নয়। দিনে মাত্র ২ টি জাহাজ সেখানে যাওয়া আসা করে। তাই টিকিট পাওয়াটা অমাবস্যা’র চাঁদের মতোই। টিকিট যদিও বা থাকে, সৌদিরা প্রেফারেন্স পায় সবার আগে। আর জাহাজে করে গাড়ী নিতে চাইলে ফারাসান যাওয়া আর ভাগ্যে হবে না। গাড়ী ছাড়া সেখানে যাওয়াও যাবেনা। পুরো দ্বীপে কোন ট্রান্সপোর্ট সুবিধা নেই, তাই ব্যক্তিগত যানবাহনই একমাত্র ভরসা। ... এত এত অসুবিধার মাঝে সেখানে গত ৪ বছরেও যাওয়া হয়ে উঠেনি।

কিন্তু আমাদের প্রচেষ্টা থেমে ছিল না। প্রতি বছরেই আমরা সুযোগের অপেক্ষায় থাকতাম। এ বছর বেশ কয়েকবার চেষ্টা করা হল। উসামা, হাবিব স্যার ও আযম ভাই আলাদা আলাদাভাবে অগ্রিম টিকিটের জন্য চেষ্টা চালালেন, কিন্তু লাভ হলনা। আশা যখন ছেড়ে দিচ্ছিলাম, তখন মোশতাকভাই খুশীর সংবাদটি জানালেন। ওনার পরিচিত এক সৌদি স্টুডেন্টের সাথে কথা হয়েছে, সে সেখানে নিয়ে যেতে পারবে। কিন্তু সমস্যা হল অন্য জায়গায় – ছেলেটির গাড়ীতে আমরা মাত্র ২ টি ফ্যামিলি যেতে পারব। সবাইকে নেয়া সম্ভব হবে না। তারপরও মোশতাক ভাই সবার সাথে যোগাযোগ করলেন, কিন্তু কেউই যেতে আগ্রহী হল না।

আমি শেষ দিন পর্যন্ত দ্বিধায় থেকে রাজী হয়ে গেলাম। সবাইকে নিয়ে যে আনন্দ তা হয়তো হবে না, কিন্তু ফারাসান যেতে না পারার বাঁধাতো ঘুচবে।



ছবি: ইন্টারনেট

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০১৪ বিকাল ৪:৩৯
৯৬৭৬ বার পঠিত
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফুলে ফুলে মন দোলে ~ছবি ব্লগ

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৫ দুপুর ১২:৩১

~~~~~~~


~~~~~~~~~





বেড়াতে এসে মেয়েকে নিয়ে হাঁটতে বের হলাম। প্রথমে প্রাইমারি স্কুলের সামনে গিয়ে সে দলনা খেল, তারপর স্লিপার এ চড়লো এরপর আমরা আর একটু দূরে গেলাম গ্রামের রাস্তা ধরে হাটতে হাঁটতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে পরে এক হলে জীবন গেলো শুধু অনেক

লিখেছেন এম ডি মুসা, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৫ বিকাল ৫:১৭

দেশের অবস্থা আগের মতোই রয়ে গেলে, কিন্তু এর মাঝে অসংখ্য প্রাণ ঝরে গেল, কেউ জীবন হারিয়েছে, কেউ পঙ্গু হয়ে গেছে। সময় বদলায়, মানুষ বদলায়, কিন্তু বদলায় না কেবল চরিত্র। বদলায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংস্কার VS নির্বাচন

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৪২



সোস্যাল মিডিয়ায় এখন ডক্টর ইউনুসের কমপক্ষে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার পক্ষে জনগন মতামত দিচ্ছে। অন্তবর্তী সরকার এক রক্তক্ষয়ী অভ্যূত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা গ্রহন করেছে। তাই এই সরকারের কাছে মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কী অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য

লিখেছেন হিমন, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৫ রাত ৯:৪৫

বাংলাদেশে সাড়ে খোলাফায়ে রাশেদিন- ইউনুসের সরকার আসার পর থেকে আজ অব্দি দেশ নিয়ে এখানে সেখানে যা অনুমান করেছি, তার কোনটিই সত্যিই হয়নি। লজ্জায় একারণে বলা ছেড়ে দিয়েছি। এই যেমন প্রথমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রসঙ্গঃ নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় বাংলাদেশ চ্যাপ্টার.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৫ রাত ১০:৫৮

বাংলাদেশ সম্পর্কে নিউইয়র্ক টাইমস এর নিউজটা যথাসময়েই পড়েছিলাম। নিজের মতো করে রিপোর্টের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট লিখতেও শুরু করে ছিলাম। কিন্তু চোখের সমস্যার জন্য বিষয়টা শেষ করতে পারিনি।

এবার দেখা যাক বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×