somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কমল দা’র সেলুন আর সস্তায় বাসাভাড়া

১৭ ই মে, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কমল দা’র সেলুনে চুল কাটাতে যাই তা প্রায় ছয় বছর হয়ে এলো। উনার সাথে সম্পর্কটা এতোই ভালো হয়ে গেছে যে উনি আমাকে দেখলে পরিস্কার বলে দিতে পারেন রুটিন মাফিক এলাম না দেরী করে ফেলেছি, আর সাথে টং এর চা তো আছেই। আমিও উনার সেলুনে যেয়ে দাঁত বের করে একটা হাসি দিয়ে থাই গ্লাসের দরজা ঠেলে সাউন্ডপ্রুফ করবার একটা চেষ্টা করে বলি “আল্লাহর দুনিয়ায় এতো জায়গা থাকতে, আপনে কোন দূঃখে যে এই ওয়ার্কশপের পাশে পজিশন নিলেন। সারাদিন ঘড়র ঘড়র শব্দ আর দুম দাম হাতুড়ির আওয়াজ!!”

কিন্তু সেবার সেলুনে যেয়ে অনেকক্ষণ পরেও কোন শব্দ না পেয়ে আমি কৌতুহলী হয়ে দাদাকে ওয়ার্কশপের দিকে ইঙ্গিত করে জিজ্ঞাসা করলাম, “দাদা ঘটনা কি ?? আইজ কোন আওয়াজ নাই”!! “এক্কেরে পুইড়া কয়লা হইয়া গেছে বুজছেন বাইসাব, চেহারা দেইখখা আর চেনা যায় না, মানুষ পোড়া কি গোন্ধ!! পোলাডা বড়ই শান্তশিষ্ট আছিলো, কয়েক মাস হয় নতুন বিয়া করছে। ঘরে বুইড়া মাও আছে। ভগবানই জানে তাগো কেমনে চলব”?? মূল ঘটনা হলো গতকাল ঐ ওয়ার্কশপের জাহাঙ্গীর নামের এক ওয়েল্ডিং মিস্ত্রী নবনির্মিত এক বহুতল ভবনে কাজ করতে গিয়ে, তার পাশের ইলেক্ট্রিক তারে পুড়ে সাথে সাথেই মারা গেছেন। ওহ!! কি বীভৎস একটা সংবাদ! দোকানের মালিক আর বিল্ডিঙের মালিক মিলে জাহাঙ্গীরের নতুন বউ আর মাকে হাজার বিশেক টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। ব্যাপারটা মিটমাট হয়ে গেছে। বাহ! কি চমৎকার করে বলে গেলাম পুরো ব্যাপারটা মিটমাট হয়ে গেছে!! একটা মানুষের জীবনের মূল্য বিশ হাজার টাকা?? আর ব্যাংকের ভাষায় লিখতে গেলে সাথে মাত্র কথাটাও লিখতে হবে। আর না লিখেই বা কি করব? দুইদিন পর আপনি, আমি আমরা সবাই এই ঘটনা বেমালুম ভুলে যাব। ভুলে যেতে হবে!! নইলে সামনে এগুবো কি করে?? আমিও যাপিত জীবনের নিয়মে ঘটনাটা ভুলে গিয়েছিলাম। দিন কেটে যাচ্ছিল, যেমন যায় আর কি!!

তারপর সেদিন হঠাৎ এক বন্ধু ফোন করে বলল, তাদের বাসায় আমাদের পুরো সার্কেলের দাওয়াত। দুষ্টলোকেরা বলে আমি নাকি আবার দাওয়াতের কথা শুনলে একটু বেশিই উত্তেজিত হয়ে যাই!! এসব আপনাদের বিশ্বাস করতে হবে না। আর দুষ্টলোকের কথা নিজ দায়িত্বে বিশ্বাস করবেন, এর কোন দায়-দায়িত্ব আমি নেব না। তো যথারীতি আমরা সবান্ধবে হাজির হলাম। এটা সেটা দিয়ে একেবারে হাজার পদের খাবার। সেগুলোর সদ্ব্যবহার করতে কোন কসুর করছিলাম না। হাসি গল্প গানে সময় কেটে যাচ্ছিল। সব শেষে পুরো বাসাটা ঘুরে দেখলাম। বেশ বড়। ভাড়া শুনলাম আট হাজার টাকা। এত বড় বাসা তুলনায় ভাড়াটা বেশ কম। তারপর যেটা জানা গেলো সেটা হলো, এই বাসার পাশ দিয়ে ইলেক্ট্রিসিটির খুব মোটা মোটা তার গিয়েছে। ভবন তৈরীর সময় ঠিক এই ফ্ল্যাটের কোণায় জানালার পাশে এক মিস্ত্রী নাকি খুব বাজেভাবে পুড়ে গেছে। তারপর বাসা তৈরী শেষ হলেও তাতে ভাড়া হচ্ছিল না। সবাই খুব ভয় পাচ্ছিলো এই বাসায় উঠতে, বলা তো যায় না অপঘাতে মৃত্যু!! তখন মালিক বাধ্য হয়ে বাসা ভাড়া বেশ কমিয়ে দিলেন, আর তাতেই টপাটপ ভাড়া হয়ে গেলো ফ্ল্যাটগুলো। গরজ যে বড় বালাই !!

বেচারা জাহাঙ্গীর!! কোথায় কীভাবে আছে কে জানে?? তবে আর যাই হোক তার স্টোরিটার একটা মাল্টি ডাইমেনশনাল অ্যাপ্রোচ আছে। কত জন তার জন্য সস্তায় বাসা ভাড়া পাচ্ছে!! কেউ তার কথা বলে ব্লগে লাইক কমেন্ট কামাচ্ছে!! আর কেউ হয়ত ভুত এফ এমে তার কথা বলে নিজেকে বানিয়ে দেবে সেলিব্রেটি। জাহাঙ্গীরের নতুন বউ আর মায়ের কপালে দু’বেলা দু’মুঠো ভাত জোটে কি না তার খবর কে রাখে ??
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৫৯
৩৫টি মন্তব্য ৩৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মত প্রকাশ মানে সহমত।

লিখেছেন অনুপম বলছি, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৪ দুপুর ১:২৭

আওয়ামী লীগ আমলে সমাজের একটা অংশের অভিযোগ ছিলো, তাদের নাকি মত প্রকাশের স্বাধীনতা নাই। যদিও, এই কথাটাও তারা প্রকাশ্যে বলতে পারতেন, লিখে অথবা টকশো তে।

এখন রা জা কারের আমলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্নমর্যাদা!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৪ দুপুর ২:৪৩

রেহমান সোবহান একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তার বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটার। রেহমান সাহেব এমন একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন যা খুব নির্জন এলাকায় অবস্থিত এবং সেখানে যাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাঁঠালের আমসত্ত্ব

লিখেছেন বিষাদ সময়, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৪ বিকাল ৫:৩৭

কাঁঠালের কি আমসত্ত্ব হয় ? হয় ভাই এ দেশে সবই হয়। কুটিল বুদ্ধি , বাগ্মিতা আর কিছু জারি জুরি জানলে আপনি সহজেই কাঁঠালের আমসত্ত্ব বানাতে পারবেন।
কাঁঠালের আমসত্ত্ব বানানের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। অ্যাকসিডেন্ট আরও বাড়বে

লিখেছেন শাহ আজিজ, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:৫৯



এরকম সুন্দরী বালিকাকে ট্র্যাফিক দায়িত্বে দিলে চালকদের মাথা ঘুরে আরেক গাড়ির সাথে লাগিয়ে দিয়ে পুরো রাস্তাই বন্দ হয়ে যাবে ।
...বাকিটুকু পড়ুন

কেমন হবে জাতীয় পার্টির মহাসমাবেশ ?

লিখেছেন শিশির খান ১৪, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৪ রাত ১০:৫৬


জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিক্ষুব্দ ছাত্র জনতা আগুন দিয়েছে তাতে বুড়ো গরু গুলোর মন খারাপ।বুড়ো গরু হচ্ছে তারা যারা এখনো গণমাধ্যমে ইনিয়ে বিনিয়ে স্বৈরাচারের পক্ষে কথা বলে ,ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হওয়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×