somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আমিই সাইফুল
আমি একজন ইউরোপ প্রবাসী, জীবনের ঝড়-ঝাপটায় পাক খেয়ে গড়ে ওঠা আজকের এই আমি। ব্লগে তুলে ধরি মনের গভীরে লুকানো আবেগের রং, যা সোশ্যাল মিডিয়ার চটকদার আলোয় মেলে না। আমি অনুভূতির এক ফেরিওয়ালা, শব্দে বুনে যাই জীবনের অলিখিত গল্প…

নিউজল্যান্ড টু ইউরোপ

০২ রা জুন, ২০২১ ভোর ৬:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেই দুই হাজার আট নয়ের কথা। মনের ছোট ঘরে একটা মেয়ে ঘর বাধতে শুরু করছিলো। সে সময়টাতে বয়সটাই এমন ছিলো যে, যাকে দেখি তাকেই ভালো লাগে। আসলেই মেয়েটার প্রেমে পড়ার জন্য কোন কারন ছিলো কিনা বিষয়টা এখনো খুজে পাইনা। এই বয়সে এসে নিজের করা কাজ গুলো নিয়ে নিজেই হাসি। এখনকার বাচ্চা বাচ্চা ছেলে মেয়েগুলোর প্রেম দেখলেই আমার জোকার মনে হয়। ভার্সিটি লাইফে গিয়ে প্রেম করলেও মানা যায় কিন্তু ৮ম, ৯ম এ পড়া বাচ্চা গুলো যখন প্রেম করে তখন মনে হয় এদের লাইফ সম্পর্কে সিরিয়াস লেভেলের কয়েকটা সেশন এটেন্ড দরকার। অবশ্য মনরোগ বিশেষজ্ঞর কথা শুনলেই বাংলাদেশে সবাই নাক উচু করে বলবেন পাগল নাকি! কিন্তু বিদেশে পড়তে এসে দেখেছি প্রত্যকটা ডিপার্টমেন্টেই স্টুডেন্ট কাউন্সিলর আছে। অনেক সময় পারিবারিক ঝামেলার কারনে ডিপ্রেশনে ভুগেও দৌড়ে গিয়েছি তাদের কাছে।



যেটা বলার জন্য বহুদিন পর ব্লগে ফেরা, ক্লাস এইটে পড়ার সময়ে একটা মেয়েকে ভালো লাগা শুরু হয়। উহু একটা মেয়ে বললে ভুল হবে, যাকে দেখি তাকেই ভালো লাগতে শুরু হলো। তবুও বন্ধু বান্ধবকে এক্সপ্রেস করতে লাগলাম আমি একজনকেই সিরিয়াস লেভেলের পছন্দ করি, সে সময়ে নিজেকে সিরিয়াস লেভেলের প্রেমিক হিসেবে উপস্থাপন করতেও ভাল লাগতো। এক কান দু কান করে সেই মেয়েটা পর্যন্ত কথাটা পৌছে গেলো। মেয়েটাও কেন জানি আমাকে পছন্দ করে ফেললো। তারপর শুরু হলো প্রেম। যেই সেই প্রেম না, অনেকটা লাইলি মজনু টাইপের প্রেম।

এখানে একটা বিষয় ক্লিয়ার করে দেই প্রেম বিষয়ে আমার মতামতের সাথে যে আপনার মতামত মিলবে বিষয়টা এমন না। আমি শুধু আমার পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে বলার চেষ্টা করছি। যাইহোক, প্রেমের শুরুটাতে রিলেশন গুলো কেমন কাটে সেটা আপনাদের অজানা নয়। কুমিল্লা শহরের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়িয়েছি আমরা। এমন ঘুরে বেড়ানোর প্রভাব খুব ভালো ভাবেই পড়াশোনার উপর পড়ছিলো।

যখন সন্তান বড় হয় বাবা মা বুঝে হউক না বুঝেই হউক তাদের নিয়ে গর্ব করা শুরু করে। আমার বাবা মাও ব্যাতিক্রম হওয়ার কথা না। কিন্তু প্রেমের প্রভাবে বাবা মায়ের সব গর্বকে মাটি চাপা দিতেও ছাড়িনি। এসএসসিতে যে রেজাল্ট করেছিলাম সেটা খারাপ ছাত্র তকমা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিলো। কিন্তু প্রেমত থেমে থাকেনা, রাত নাই, দিন নাই। পুকুর পাড়, ধান ক্ষেত, আম গাছ সব খানেই মোবাইলটা কানে থাকতো। পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা তখন খুব খারাপ। কিন্তু তা কি আর প্রেমকে টলাতে পারে? কোন ছেচড়ামিটা করিনাই! আম্মুর টাকা চুরির মত ছোটলোকির কাজ করতেও ছাড়িনাই।

লোকে বলে নেশার জন্য পোলাপান ছেচড়ামি করে। কিন্তু প্রেমের জন্য কি পরিমান ছেচড়ামি করেছিলাম ভাবতেই অবাক লাগে। অবশ্য, নেশার জন্য ছেচড়ামি করার চেয়ে প্রেমের জন্য ছেচড়ামি করা মনে হয় খুব খারাপ না। আকাশ বাতাস সাক্ষী রেখে, রিকশায় ঘুরে, কিংবা রেস্টূরেন্টের পর্দা লাগানো কেবিনে কমত প্রেম করলামনা। কিন্তু প্রেমের পথেত বাধা আসবেই! চাচি, ফুপি, ভাবিরা কানা কানি শুরু করতে লাগল। আম্মুর কানেও দিতে লাগলো আমার সেই ঐতিহাসিক কার্যকলাপের কথা। সেসময়ে অভিবাবকদের রিয়েকশন যা হয় আরকি! মাইর দেয়া, বকা দেয়া! কিন্তু আমার আব্বু আম্মুর রিয়েকশন এবং পরবর্তীতে তাদের কার্যকলাপ কি ছিলো সেটা নিয়ে আরেকটা পোস্ট দিবো। প্যারেন্টিং বিষয়ে একটা ব্লগ লেখার ইচ্ছা অনেক আগ থেকেই ছিলো।

যাইহোক, উড়াদুড়া প্রেম চলতেই থাকলো। ইন্টার লেভেলের সময়টা যে লাইফে কতটা গুরুত্বপূর্ন সেটা যদি তখন বুঝতাম তাহলে লাইফে হয়ত অনেক ভালো কিছু করতাম। ইন্টার লেভেলে প্রেম করে আর রাত জেগে তাস খেলে কাটিয়ে দিয়েছি। গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা, আর দিনের বেলায় ঘুমানো এ ছিলো আমার লাইফ। দুই বছরে কয়টা ক্লাস করেছিলাম সেটা হাতে গুনলে ২০টার বেশি হবেনা। কিন্তু আমার সাবেক প্রেমিকা কিন্তু ঠিকি পড়াশোনাটা করে গিয়েছে। সে ঠিক ছিলো, আমি ভুল ছিলাম। সে পড়াশোনার ফাকে ফাকে আমার সাথে প্রেম করে ছিলো। কিন্তু আমি, প্রেম আর আড্ডাবাজির ফাকে ফাকে পড়াশোনা করতাম। লেজে গোবরে অবস্থা কাকে বলে আমি আমার লাইফ দিয়ে টের পেয়েছি।

যাইহোক সেই প্রেমটা আমায় কোথায় নিয়ে গিয়েছিলো, পরবর্তীতে কি প্রভাব ফেলেছিলো জীবনে সেটা পরবর্তী ব্লগ গুলোতে বলার ট্রাই করবো। আজকের মত এখানেই শেষ করছি। সব গুলো পোস্টের শেষে একটা কনক্লুশন দেয়ার ট্রাই করবো আমি।

এই লেখাটি ভিবিন্ন পর্বে সাজানো হয়েছে। বাকি পর্ব গুলো এখান থেকে পড়তে পারেনঃ

প্রেম, বিয়ে এবং জীবন পর্ব ১ঃ Click This Link

প্রেম, বিয়ে এবং জীবন। (পর্ব - ২)ঃ Click This Link

প্রেম, বিয়ে এবং জীবন। (পর্ব -৩) ( স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলা)ঃ Click This Link

মিশন আমেরিকার ব্যার্থতা এবং একটি শুভ সূচনা। প্রেম, বিয়ে এবং জীবন। (পর্ব -৪)ঃ Click This Link


সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০২১ সকাল ৭:০২
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অকুতোভয় বাসচালক মো. সোহেলকে পুরষ্কৃত করা হোক

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৫ সকাল ৯:১৭

অকুতোভয় বাসচালক মো. সোহেলকে পুরষ্কৃত করা হোক

ছবিসহ মিনি পোস্টারটি এআই দিয়ে তৈরিকৃত।

থেঁতলানো চোয়াল, ভেঙ্গে গেছে দাঁত, রক্তাক্ত অবয়ব—তবু ৪০ কিমি বাস চালিয়ে যাত্রীদের বাঁচালেন! এই সাহসী চালকই বাংলাদেশের নায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুর পর যা হবে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৫ সকাল ১০:৪২



বেহেশত বেশ বোরিং হওয়ার কথা।
হাজার হাজার বছর পার করা সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। দিনের পর দিন একই রুটিন। এরচেয়ে দোজক অন্য রকম। চ্যালেঞ্জ আছে। টেনশন আছে। ভয় আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যাসিবাদ!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৫ সকাল ১১:০৮



অবকাশের দিনগুলোর ছুটির ফাঁদে নিজেকে নতুন করে চেনাই-
আমার বহুদিনের চেনা শহর।
কতকিছু বদলে গেছে নাকি তারোধিক বদলে গেছে,
সুশীলের আবরণে অসুশীল মানুষ?
শৈশবে শহরটা যাদের কাছে জমা রেখে গিয়েছিলাম,... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিলিয়াস

লিখেছেন নিথর শ্রাবণ শিহাব, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৫ দুপুর ১২:৩২


“আমাদের হাতে সময় কতটুক আছে আর?” নিয়ানা ফিরে তাকায় রোমানের দিকে।
“অক্সিজেনের হিসেবে আর আট ঘণ্টা। নাইট্রোজেন কনভার্সন হিসেবে ধরলে আরো বাড়তি তিন ঘণ্টা। মোটে এগারো ঘণ্টার রেস্পিরেটরি সাপ্লাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়াক্ফ সম্পত্তি আইন ২০২৫: ভারতের মুসলিম নিধন নীতির আইনগত চাবিকাঠি !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৫ রাত ১০:০৪


ভারত আজ আর গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র নয়—আজকের ভারত এক হিন্দুত্ববাদী নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক প্রকল্প, যেখানে সংবিধানকে অস্ত্র বানিয়ে একের পর এক সংখ্যালঘু নিধন চালানো হচ্ছে। 'ওয়াক্ফ সম্পত্তি আইন ২০২৫' তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×