‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যেসব বর্বরতার অভিযোগ রয়েছে, তা সংঘটনের সাথে অধ্যাপক গোলাম আযম কোনোভাবে সরাসরি জড়িত ছিলেন, এমন কোনো কিছু আমরা পাইনি।’
১৯৯৪ সালে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে দেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে এ কথা উল্লেখ রয়েছে।
রায়ে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘পাকিস্তানি আর্মি ও তাদের সহযোগী বাহিনী রাজাকার, আলবদর কিংবা আলশামসের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে যেসব বর্বরতার অভিযোগ রয়েছে, তার একটির সাথেও অধ্যাপক গোলাম আযমের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।’
আপিল বিভাগের তৎকালীন বিচারপতি হাবিবুর রহমান, বিচারপতি এ টি এম আফজাল, বিচারপতি মুস্তাফা কামাল ও বিচারপতি লতিফুর রহমান এ ঐতিহাসিক রায় দেন। এই চার খ্যাতিমান বিচারপতির সবাই পরে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির আসন অলঙ্কৃত করেন এবং তাদের মধ্যে বিচারপতি হাবিবুর রহমান ও বিচারপতি লতিফুর রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচিত হয়েছিলেন।
১৯৯৪ সালের ২২ জুন দেয়া ৫৪ পৃষ্ঠার রায়ে অধ্যাপক গোলাম আযম সম্পর্কে ১৯৭১ সালের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বিচারপতিদের করা মন্তব্য ছিল এ রকম : There is nothing to directly implicate the petitioner (Golam Azam) in any of the atrocities alleged to have been perpetrated by the Pakistani Army or their associates the Rajakars, AL Badrs or the AL Shams. Except that the petitioner was hobnobbing with the Military Junta during the war of liberation, we do not find anything that the petitioner was in any way directly involved in perpetuating the alleged atrocities during the war of independence.
সম্প্রতি অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত ট্রাইব্যুনালে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে এ চার্জশিট জমা দেয়া হয়েছে। চার্জশিটে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে নেতৃত্ব দানসহ অর্ধশতাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। চার্জশিটে অভিযোগ করা হয়েছে, গোলাম আযমের নেতৃত্বে, পরিচালনায়, পরামর্শে, উসকানিতে ও প্ররোচনায় ১৯৭১ সালে পাক আর্মি এবং তাদের সহযোগী বাহিনী রাজাকার, আলবদর ও আলশামস এসব গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে। রাজাকার, আলবদর, আলশামস এসব বাহিনী তার নেতৃত্বে গঠিত ও পরিচালিত হতো।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করার অভিযোগে অধ্যাপক গোলাম আযমসহ আরো অনেকের নাগরিকত্ব বাতিল করে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ সরকার। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে তারা চাইলে নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য দরখাস্ত করতে পারেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাপক গোলাম আযম নাগরিকত্বের জন্য দরখাস্ত করেন। কিন' সে বিষয়ে সরকার কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় অধ্যাপক গোলাম আযম ১৯৯২ সালে আদালতের শরণাপন্ন হন ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গোলাম আযমের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিয়ে ঐতিহাসিক রায় দেন। সেই রায়ে খ্যাতিমান চার বিচারপতি ১৯৭১ সালে অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয় সে সম্পর্কে উপরিউক্ত মন্তব্য করলেন।
ওই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল আমিনুল হক, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হাসান আরিফ (পরে অ্যাটর্নি জেনারেল এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হন) ও বি হোসেন। অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এ আর ইউসুফ ও ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক।
ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা চার্জশিটে অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে যে অর্ধশতাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে তাকে ‘অভিযোগ নয় অপবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অধ্যাপক গোলাম আযম বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছে দেয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে।
রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু গত ১২ ডিসেম্বর অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে চার্জশিট দাখিল করেন। গত ২৬ ডিসেম্বর সে চার্জশিট আমলে নেয়ার দিন ধার্য করা ছিল। কিন' আদালত ওই দিন চার্জশিট ফেরত দিয়ে পুনরায় আগামী ৫ জানুয়ারি নতুন করে দাখিলের নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটরকে। কারণ চার্জশিটকে অবিন্যস্ত, অগোছাল ও এলোমেলো হিসেবে মন্তব্য করেছেন আদালত।
আদালত কর্তৃক চার্জশিট ফেরত দেয়া বিষয়ে গোলাম আযমের প্রধান কৌঁসুলি ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, ৪০ বছর ধরে তারা অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করে আসছেন। দুই বছর ধরে তারা তদন্ত করে অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে এ চার্জশিট গঠন করল। সেই চার্জশিটকে আদালত অগোছাল ও যথাযথভাবে করা হয়নি বলে ফেরত দিলেন। এ থেকে প্রমাণিত হয়েছে অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অধ্যাপক গোলাম আযম নিজেও একে অভিযোগ নয় বরং অপবাদ হিসেবেই আখ্যায়িত করেছেন।
গোলাম আযম একাত্তরের বর্বরতার সাথে জড়িত নন : আপিল বিভাগের তৎকালীন বিচারপতি হাবিবুর রহমান, বিচারপতি এ টি এম আফজাল, বিচারপতি মুস্তাফা কামাল ও বিচারপতি লতিফুর রহমানের দেয়া ঐতিহাসিক রায়
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
=বেলা যে যায় চলে=
রেকর্ডহীন জীবন, হতে পারলো না ক্যাসেট বক্স
কত গান কত গল্প অবহেলায় গেলো ক্ষয়ে,
বন্ধ করলেই চোখ, দেখতে পাই কত সহস্র সুখ নক্ষত্র
কত মোহ নিহারীকা ঘুরে বেড়ায় চোখের পাতায়।
সব কী... ...বাকিটুকু পড়ুন
মার্কিন নির্বাচনে এবার থাকছে বাংলা ব্যালট পেপার
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাংলার উজ্জ্বল উপস্থিতি। একমাত্র এশীয় ভাষা হিসাবে ব্যালট পেপারে স্থান করে নিল বাংলা।সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর খবর অনুযায়ী, নিউ ইয়র্ক প্রদেশের ব্যালট পেপারে অন্য ভাষার সঙ্গে রয়েছে... ...বাকিটুকু পড়ুন
সত্যি বলছি, চাইবো না
সত্যি বলছি, এভাবে আর চাইবো না।
ধূসর মরুর বুকের তপ্ত বালির শপথ ,
বালির গভীরে অবহেলায় লুকানো মৃত পথিকের... ...বাকিটুকু পড়ুন
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা কি 'কিংস পার্টি' গঠনের চেষ্টা করছেন ?
শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর থেকেই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামক সংগঠন টি রাজনৈতিক দল গঠন করবে কিনা তা নিয়ে আলোচনা চলছেই।... ...বাকিটুকু পড়ুন
শেখস্থান.....
শেখস্থান.....
বহু বছর পর সম্প্রতি ঢাকা-পিরোজপু সড়ক পথে যাতায়াত করেছিলাম। গোপালগঞ্জ- টুংগীপাড়া এবং সংলগ্ন উপজেলা/ থানা- কোটালিপাড়া, কাশিয়ানী, মকসুদপুর অতিক্রম করার সময় সড়কের দুইপাশে শুধু শেখ পরিবারের নামে বিভিন্ন স্থাপনা দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন