যুগে যুগে এ দেশে ভাগিনারা অবহেলার শিকার হইতেছে। তাহাদের এই করুণ অবস্থার জন্য দায়ী তাহাদের কথিত মামারা। পূর্বে মামা বলিতে কেবলমাত্র মায়ের ভাইকে বুঝাইলেও বর্তমানে 'মামা'র সংজ্ঞা পরিবর্তন হইয়াছে। এখন দেশের পথ-ঘাট-হাট-মাঠ মামাতে সয়লাভ। রিক্সাওয়ালা, ফুলওয়ালা, আইসক্রীমওয়ালা হইতে পাড়ার মুদি দোকানদার অথবা পান-বিড়ির দোকানদার সকলেই মামা তালিকায় নাম উঠাইয়া লইয়াছে। এই নতুন খেতাব প্রাপ্ত মামারাই ভাগিনাদের অশান্তির মূল কারণ। কি সুমধুর কন্ঠে আপনি তাহাদিগকে মামা বলিয়া সম্বোধন করেন অথচ তাহারা সেই সুমধুর কন্ঠের মধুটাকে অবজ্ঞা করিয়া ক্ষেত্র বিশেষে কর্কশ ব্যবহার করিয়া থাকেন।
রিক্সাওয়ালা মামাদের কথাই বলি। এক একজন রিক্সাওয়ালা যেন এক একটা প্রাইভেট জেট প্লেনের মালিক। আপনার হয়ত জরুরী কোন কাজ পড়িয়াছে, প্রেমিকার সাথে ডেটিং এ যাইবেন অথচ লেট হইয়া গিয়াছে, পরীক্ষার আগে বিপদে পড়িয়াছেন, এ সকল ব্যাপারে আপনি কখনোই এই মামাদের কাছ হইতে সাহায্য পাইবেন না। আপনি আদর করিয়া ডাকিবেন, "ঐ মামা, যাইবা?" তাহারা ততধিক রুক্ষকন্ঠে বলিবে, "যামু না" অথবা "রেষ্ট লইতাছি।" এছাড়াও কিছু মামা যাইতে রাজি হৈলেও তাহার বিনিময়মূল্য অত্যধিক হাকিয়া বসেন। যেন আপনি তাহাকে মঙ্গল গ্রহে যাইবার জন্য ভাড়া করিয়াছেন। কোন বৃষ্টিস্নাত্ রোমান্টিক দিনে প্রেমিকাকে লইয়া ত্রিচক্রযানে রোমান্স করিবার সাধ জাগিল, কিন্তু এইখানেও সেই একই ভিলেন "মামা"। রিক্সা, রাস্তা, সময় এবং আপনার পকেটের টাকাকে তাহারা নিজেদের পিতৃপ্রদত্ত সম্পদ জ্ঞান করিয়া থাকেন। যাহার ফলে প্রেমিকার সামনে আপনার ইজ্জতের সাড়ে বারটা বাজিয়া যায়।
এ তো গেল রিক্সাওয়ালা মামাদের অত্যাচারের কাহিনী। এবার আসি দোকানদার মামাদের কথায়। রিক্সাওয়ালাদের চেয়ে এরা এককাঠি সরেস। কোন কারণ ছাড়াই ইহাদের মেজাজ সারাদিন তিরিক্ষ হইয়া থাকে। এই দুর্মূল্যের বাজারে ইহাদের ব্যবহার ভাগিনাদের সর্বাধিক কষ্ট দেয়। আপনার পকেট খালি, বাজারের টাকা হইতে কিছু টাকা মারিয়া চলিবেন, কিন্তু দোকানদার মামারা তা হইতে দিবে না। তাহারা চাল-ডাল-আটা-তেল-নুন ইত্যাদি পণ্যের দাম বর্ধিত মূল্যেরও অধিক চাহিয়া থাকেন। ফলাফল আপনার বাজারে টাকা হইতে কিছুমিছু পাইবার আশায় গুড়েবালি। যদিওবা ইহাদের হাত হইতে বাচিয়া আসিতে পারেন তবে আবার বিড়ি সিগারেটওয়ালা মামার কাছে আপনাকে ধরা পড়িতেই হইবে। ৮ টাকার বেনসন ক্ষেত্র বিশেষে তাহারা ৯ টাকাও চাহিয়া বসেন।
হোটেল রেষ্টুরেন্টের মামাদের হাতের কাছে পাওয়া আর আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়া সমান বলিয়া বিবেচ্য। তাহারা সময়মত অর্ডার নিবে না, নিলেও খাবার দিতে দেরী করিবে, পানির গেলাস ধুইয়া দিবে না। আবার অসহায় আপনি এই বিষয়ে তাহাদের দৃষ্টি আকর্ষনও করিতে পারিবেন না। ভুলক্রমে যদি তা করিয়া বসেন তবে উহারা আপনার দিকে এমনভাবে তাকাইবে যেন আপনি তাহাদের দুখানি বৃক্কই খুলিয়া নিতে চাহিয়াছেন। আবার খাওয়া শেষে তাহাদের হাতে কিছু কাগুজে নোট না গুজিয়া দিলে মানসম্মানও বাঁচে না।
মামাদের অত্যাচারে নিজে মামা হইতে ইচ্ছা করে? তাহাতেও শান্তি নাইরে পাগল। পথে ঘাটে যখন সুন্দরী কেউ আপনাকে মামা বলিয়া ডাকিবে, বোধকরি এরচে বড় কষ্ট আপনি আর কোথাও পাইবেন না। সুন্দরীদের মুখে মামা ডাক শোনা নিজের পকেট হালকা হইবার চেয়েও কষ্টকর।
এতক্ষণতো গেল পরের মামা অর্থাত্ পাতানো মামাদের কথা, ঘরের মামাদের কাছেও কি আপনি নিরাপদ আছেন? যাহাদের ঘরে একজন ভার্সিটি পড়ুয়া অথবা বেকার মামা আছে তাহারা বুঝিতে পারে ভাগিনা হওয়ার কত জ্বালা। আপন মায়ের ভাই মামা হইয়া কি তাহারা আপনাকে কম জ্বালাতন করে? মায়ের কাছে আপনি হয়ত হাত খরচের জন্য কিছু টাকা চাহিয়াছেন কিন্তু মা জননী আপনাকে তাহা দিতে অপারগ। অথচ তাহার ভাই মানে আপনার মামা যখন চায় তখন মা আচল হইতে খুলিয়া বেশ বড় নোট মামার হাতে ধরাইয়া দেয়। খালা মামারা তাহাদের প্রেমিক প্রেমিকার সহিত পার্কে দেখা করিতে যায়, নিরাপত্তার খাতিরে আপনাকেও সাথে করিয়া লইয়া যায়। তখন নাদানের মত তাহাদিগের দিকে চাহিয়া থাকা ছাড়া আর কোন কাজ থাকে না। এমন কি তাহাদের বিবাহপূর্ব প্রস্তাবটাও দেখা গেল তাহারা আপনাকে দিয়া উপস্থাপন করাইয়া থাকে। আর আপনি যখন নিজের প্রেমিক প্রেমিকার কথা তাহাদের মাঝে উপস্থাপন করেন, তাহারা এমনভাব করিবে যেন আপনি একটা অচ্ছুত্, প্রেম করা যেন গন্ধম ফল খাইবার থেকেও ভয়ংকর কোন অপরাধ।
স্কুল কলেজে পড়া ফাঁকি দিয়া বেশ আরামেই দিন কাটাইতেছেন। অথচ আপনার সেই মামা আসিয়া আপনার উপর খবরদারি শুরু করিবে। তাহাদের কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন না করিলে আপনার ফাঁকিবাজির খবর পিতামাতার কর্ণকুহরে পৌছায়া দিবে।
অতীতে লোকে বলিত, "মামা ভাগিনা যেখানে, আপদ নাই সেখানে।" বর্তমানে যুগ পাল্টাইতেছে। এখন বলিতে হইবে, "মামা ভাগিনা এবং আপদ একে অপরের পরিপূরক।" মামাদের কাছে অত্যাচারিত হইবার প্রতিবাদ আপনাকেই করিতে হইবে। আর কতকাল আপনি তাহাদের হাতে নিষ্পেষিত হইবেন? আজই মামাদেরকে আলটিমেটাম দিয়া দেন, আপনার মাথায় কাঠাল ভাঙ্গিয়া খাইবার দিন শেষ। নিজের লাভ নিজেই বুঝিয়া লইতে হইবে। আপনার কৃত সাফল্যের ভাগ যাতে মামারা লইতে না পারে সেইজন্য সোচ্চার থাকিতে হইবে। মনে পড়ে কবি কি বলিয়াছিলেন? কবি বলিয়াছিলেন,
"এ পৃথিবীতে যা কিছু মহান চিরকল্যাণকর,
কিছুই করেন নাই মামা, পুরাটাই করছি আমরা ভাগিনা।"
(ছন্দ মিলে নাই মনে হয় )
শেষ করিব সেই বিখ্যাত ভাগিনাময় ছবির ক্যাপশন দিয়া। কোন এক কালে এক রুপসী উর্বশী তাহার জ্যেষ্ঠ ভগ্নির কনিষ্ঠ পুত্রের স্থিরচিত্র খোমাবইতে প্রকাশ করিয়া নিচে লিখিয়াছিলেন, "eita amar cute vagina, tomra amar vagina ta k koyta like diba?"
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মার্চ, ২০১২ দুপুর ২:৫৩