আগের পর্বের লিঙ্ক Click This Link
“তুমি চাইলে এই মাস থেকে যেতে পারো।” মালিক রেজওয়ান সাহেব বললেন।
তূর্য চুপ করে রইল। কী বলবে বুঝতে পারল না। অন্য চাকরির ব্যবস্থাও তো নেই যে মুখের ওপর বলে দেবে আর আসবে না।
রেজওয়ান সাহেব বললেন, “তিন তলাটা ভাড়া হবে। একটা টু-লেট টানিয়ে দিও। নিচে তোমার নম্বর দিও।”
“আমার নম্বর কেন?” অস্বস্তির সাথে তূর্য জিগ্যেস করল।
রেজওয়ান সাহেবের মেজাজ খিঁচড়ে গেল। বললেন, “তাহলে তোমাকে রাখব কেন?”
তৎক্ষণাৎ মুখের ওপর জবাব দিল তূর্য। বলল, “থাকতেও চাই না।”
রেজওয়ান সাহেব রণমূর্তি ধারণ করলেন। বললেন, “আগের ম্যানেজাররা তোমার মতো এমন ছিল না।”
“অন্য একজনের অনুরোধ না থাকলে আমিও এখানে এতদিন থাকতাম না।” তূর্য বলল।
রেজওয়ান সাহেবের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। বেতন দেন ওনি, অথচ অন্যর গুণকীর্তন শুনবেন কেন? তূর্যকে চলে যেতে বললেন। বললেন, তার বেতন দিয়ে দেওয়া হবে।
তূর্য হয়তো এতটা প্রতিবাদী হতো না। গত পাঁচ মাস তো কম অপমান সহ্য করেনি। মুখের চা পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছে। লোকজনের সামনে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়েছে। সবই সহ্য করেছে। মালিকের বাসায় গেলে বসতেও দিত না। খাবার দেওয়া তো দূরের কথা। তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল মূলত ম্যানেজার হিসেবে, অথচ তাকে দিয়ে বাসার কাজও করানো হতো। এমনও হয়েছে সকালে বাসায় গিয়েছে রাত ১০টায় কাজ শেষে বের হতে হয়েছে। এসব নিয়ে কষ্ট পেলেও কিছু বলেনি। এবার প্রতিবাদমুখর হলো অন্য কারণে।
অসুস্থতার কারণে একটু বিশ্রাম চেয়েছিল। মালিক সে সুযোগ দেননি। উল্টো বলছিলেন, “তুমি এক রাত ভবনে অবস্থান করবে। কেয়ারটেকার শনিবার বাসায় চলে গেলে পুরো ফ্ল্যাট ফাঁকা রাখা যাবে না।”
অফিসের ডাইনিং ব্যবহার করতে চাইল সে। মালিক নাকচ করলেন। বললেন, “তোমার দাবি-দাওয়া বেশি হয়ে গেছে। সামনের মাস থেকে অন্য চাকরি খোঁজো।”
“ঠিক আছে। আপনিও অন্য লোক দেখুন।” তূর্য বলেছিল।
অন্য লোক এলো। পরিবেশ দেখল। তার ভালো লাগেনি। বেতনও পোষাবে না বলল। তাই দু’দিনের মাথায় চলে গেল। রেজওয়ান সাহেব ভাবলেন তূর্য’র দায় আছে কিছুটা। অথচ তেমন কিছু পেলেন না। তাই তূর্যকে ডেকে বলেছিলেন, “তুমি চাইলে এই মাস থেকে যেতে পারো।” বিষয়টা তূর্যকে প্রতিশোধপরায়ণ করেছিল। সে কি এত বেশি সস্তা হয়ে গেছে দুনিয়ায়? ‘তোমাকে কেন রাখব, অন্য ম্যানেজাররা এমন ছিল না’ এসব শুনে রাগান্বিত হয়ে তাই মুখের ওপর জবাব দিয়েছিল
চলবে...