somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অভিসার (কল্পনা)

৩০ শে নভেম্বর, ২০২১ সকাল ১১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আগের পর্বের লিংক Click This Link
খেয়াল
“আমার খুব কষ্ট হয়েছিল তুমি আসোনি বলে।” তূর্য বলল।
“প্রস্তুতিও নিয়েছিলাম। বাবাকে বললাম, বইমেলায় যাব। ওনি মানা করলেন। ভাইও মানা করল।”
“পরীক্ষার পর বাহাদুর শাহ্ পার্কে গিয়ে বসলাম। এত অসহায় লাগছিল যে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলাম না।”

পরীক্ষা শেষে শরীরটা খারাপ হয়ে যায় তূর্য’র। কিছুক্ষণ পার্কে বসেছিল। মধু’র না আসাটা তার মনে রেখাপাত করেছিল। ভেবেছিল একসঙ্গে বইমেলায় যাবে। তার শরীর- মন দুটোই খারাপ হয়ে যাওয়ায় প্রোগ্রাম বাতিল করেছিল। তাছাড়া শরীরটা খারাপ হয়ে যাওয়ায় চলার মতো অবস্থাও ছিল না। তাই কোনোমতে গাজীপুরের বাস ধরে। উদ্দেশ্য আপাতত এক সহকর্মীর ওখানে থাকা।

মোবাইলের ওপাশে দীর্ঘশ্বাস। বোঝা যাচ্ছে মধু’র খুব মন খারাপ হয়েছে।

“আবার কবে আসবেন?” মধু জিগ্যেস করল।
“তোমার যখন সুবিধে হয়।” তূর্য বলল।
“এত কষ্ট করে আসবেন?” মধু বলল।

তূর্য’র মেজাজ খিঁচড়ে গেল। বলল, “ঠিক আছে আসব না।” অথচ ও ঠিক করে রেখেছিল শীঘ্রই একদিন দেখা করবে। ১৯ মার্চ মধু দেখা করেনি বলে ও মনঃক্ষুণ্ন ছিল। যদিও মধু’র কিছু করার ছিল না।

মেজাজ খিঁচড়ে যাওয়ার পেছনে অন্য কারণও আছে। দেখা করার প্রসঙ্গ তুললে মধু তালবাহানা শুরু করে। যদিও বহুবার বলেছে ইচ্ছে করেই এমন করে।

তূর্য জয়পুরহাট চলে গেল। সেখানে এক বড়ো ভাই চাকরি করেন। তূর্য সিদ্ধান্ত নিল কয়েকদিন ওখানে থাকবে। মধুকে একটা শিক্ষা দেওয়াও দরকার। যখন ঘনিষ্ঠ কোনো প্রসঙ্গ উঠে সে তূর্যকে ক্ষেপানোর চেষ্টা করে। তূর্য’র সাথে কয়েকজনের কথাবার্তা হয়। সে সরল-বিশ্বাসে মধু’র সাথে শেয়ার করে। অথচ মধু সময়ে-অসময়ে খোঁচা দেয়। নিজের অনেককিছুই গোপন করে। এর একটা বিহিত হওয়া দরকার।

এগারো দিন কোনো প্রকার যোগাযোগ হলো না।

কল্পনা
মধুকে কি চমকে দেওয়া যায়? মনে মনে ভাবল তূর্য। কিন্তু সেটা কীভাবে? ১২ সেপ্টেম্বর কলেজ খোলা। ও নিশ্চয়ই ঢাকায় চলে আসবে। ওর কলেজ গেটে গিয়ে হঠাৎ ফোন দিলে কেমন হবে? কিন্তু যদি ফোন না ধরে বা মেসেজ দিলে যদি রিপ্লাই না দেয়? অথবা টিএসসিতে গিয়ে একটা ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড দিলে কেমন হয়? মধু তো ফেসবুকে যুক্ত আছেই। নিশ্চয়ই ছবিটা তার চোখে পড়বে?

তূর্য ভেবে পেল না কী করা যায়। সঙ্কোচ হচ্ছে তার। যদি কোনো কারণে না আসে!

একটু অভিমানও হলো। ভাবল, দাড়োয়ানকে দিয়ে উপহারগুলো ভেতরে পাঠিয়ে দিলে ভালো হবে? ভয়ও হলো। দারোয়ান যদি জিগ্যেস করে সে কে? তাহলে কী উত্তর দেবে?

সাতপাঁচ ভেবে ফেসবুকে স্টেটাস দিল ‘Now or never’. স্টেটাস দেওয়ার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ মেসেজ দিল মধু। তূর্য রিপ্লাই দিল। সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে গেল।

কিছুক্ষণ কথা বলে জানা গেল মধু’র হল খুলবে ১৯ তারিখ। এর আগে সে ঢাকায় আসতে পারবে না। চাইলে অবশ্য চাচার বাসায় থাকতে পারে। তার এক চাচা ঢাকায়ই থাকেন। সেটা বোধহয় উচিত হবে না।

তূর্য তার কল্পনা বাস্তবায়ন করার তোড়জোড় করছিল। অথচ এখন সে সব মাঠে মারা গেল। এসে যদি মধুকে না পেত মনকে কী বলে সান্ত্বনা দিত?

চলবে...
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০২৪ সকাল ১০:৫২
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

১. ৩০ শে নভেম্বর, ২০২১ সকাল ১১:৪০

রাজীব নুর বলেছেন: আপনি আগের পোষ্টে চাঁদগাজীর এক মন্তব্যের উত্তরে বলেছেন, এটা খসড়া লেখা। পড়ে মালমশলা দিয়ে লেখা ভারী করবেন।
কাজেই এখন আমি আপনার এই ধারাবাহিক পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি।

৩০ শে নভেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:৩৪

লেখক বলেছেন: সামনের পর্বটা বড়ো হবে। তখন হয়ত আগ্রহ জাগতে পারে।

২. ৩০ শে নভেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:২০

রানার ব্লগ বলেছেন: চলুক !!!!

৩০ শে নভেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:৩৫

লেখক বলেছেন: আচ্ছা।

৩. ৩০ শে নভেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:৪২

চাঁদগাজী বলেছেন:



ঢাকায় ছাত্রীদের থেকে গার্মেন্টস'এর মেয়ে বেশী; ওদের হৃদয়ে প্রেম ট্রেম আসে না?

৩০ শে নভেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:০৫

লেখক বলেছেন: গার্মেন্টস'র মেয়েরাও ধুমসে প্রেম করে।

৪. ৩০ শে নভেম্বর, ২০২১ রাত ৮:১০

ইসিয়াক বলেছেন: গল্পটা কি দীর্ঘ হবে? উপন্যাসে রূপ নেবে? যদি এর আগে কোন বড় গল্প বা উপন্যাস না লিখে থাকেন তো প্রথমে ছোট ছোট গল্প লিখুন। ব্লগে দিন। আলোচনা সমালোচনা হবে, নানা দিক নির্দেশনাও পাবেন নিশ্চয়।

এই গল্প / উপন্যাসটি খসড়া হিসাবে প্রথমে লিখে শেষ করুন। তার আগে কাগজে গল্পের সিনোপসিস ( সারাংশ) লিখে ফেলুন। তাতে গল্পটি দিকভ্রান্ত হবে না। আপনারও আত্মাবিশ্বাস বাড়বে।

গল্প লিখে বারবার পড়ুন। লেখার কাজটা ফেসবুকে "অনলি মি" সেভ করে রাখুন। পড়ুন আর এডিট করুন নিজের মনের মত। আর ডায়লগ বা সংলাপ লেখার ক্ষেত্রে নিজে লেখা নিজে জোরে জোরে পড়ুন আর নিজে যেভাবে কথা বলেন সেভাবে শব্দ জুড়ে দিন। একজন গল্পকারকে অভিনেতাও হতে হয় কিন্তু। হা হা হা...

লিখতে থাকুন প্রিয় ব্লগার। পাশে আছি। পাশে থাকবো।
শুভ কামনা সতত।

০১ লা ডিসেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:২১

লেখক বলেছেন: আপাতত আর একটা অংশ রাখছি। তারপর ভাবব আরও দীর্ঘ করা যায় কি না। আসলে আমি চাচ্ছিলাম মনস্তাত্ত্বিক একটা কাহিনি লিখতে। পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারছি না। তাই লেখাটা গোছাতে পারছি না। তাছাড়া স্মরণশক্তিও কম হওয়ায় কাহিনির ধারাবাহিকতা রাখতে পারছি না। এই লেখাটা লিখছি মোবাইলে, তাও অফিসে বসে। চতুর্মুখী চাপের মুখে যতটুকু পারি, লিখছি। পরে লিখলে হয়ত এতটুকু কাহিনিও মনে থাকবে না। অস্বস্তিকর পরিস্থিতি!

৫. ৩০ শে নভেম্বর, ২০২১ রাত ৮:৫৭

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: সামনের পর্বটা বড়ো হবে। তখন হয়ত আগ্রহ জাগতে পারে।


ওকে।
অপেক্ষায় থাকলাম।

০১ লা ডিসেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:২২

লেখক বলেছেন: তাড়াতাড়িই পোস্ট করব।

৬. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:২৭

ইসিয়াক বলেছেন: স্মরণ শক্তি আমরও খুব কম। কি আর করা।

০১ লা ডিসেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:৩৩

লেখক বলেছেন: নির্জন পরিবেশ আর যথেষ্ট সময় পেলে ভালো হতো। বড়ো গল্প লিখতে গেলে সময় দরকার।

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিডিআর ষড়যন্ত্রের একটি বিশ্লেষন

লিখেছেন এ আর ১৫, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সকাল ৯:৩০


বিডিআর ম্যাসাকারের ষড়যন্ত্রকারি কারা সেটা নিয়ে এই আলোচনা।
এটাকি র এবং আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র?

এই পক্ষের উদ্দেশ্য দেশের সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে শেষ করে দেওয়া, তাই এরাই এর জন্য দায়ি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। রাখাইনে হচ্ছে নতুন রাষ্ট্র, সংকটে বাংলাদেশ!

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ দুপুর ১২:৪৮




বাংলাদেশের কাছে নতুন রূপে আর্বিভূত হচ্ছে ভূ-রাজনৈতিক এক সংকট। প্রতিবেশি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য ও আরাকান আর্মি। কক্সবাজার সীমান্তের ওপাড়ে যেকোনো মুহুর্তে হতে পারে নতুন একটি রাষ্টের ঘোষণা। চলতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার ঢাবিয়ান এর উদ্দেশ্যে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ দুপুর ১:২২

ব্লগার ঢাবিয়ান,

গতকাল আমার একটা পোস্টে আপনার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আমার মন্তব্য যথাযথ হয়নি। আমার ধৈর্য্য ধরা উচিৎ ছিলো, সংযত হওয়া উচিত ছিল। আমি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে আপনার মনে কষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৈ ছা আ'দের নতুন রাজনৈতিক দল 'বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ'

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ বিকাল ৩:০০

বৈ ছা আ'দের নতুন রাজনৈতিক দল 'বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ' নামক দলটির শ্লোগান হচ্ছে- 'শিক্ষা, ঐক্য, মুক্তি'। মার্কা এখনো ঠিক হয়নি। তবে গতকাল তাদের প্রথম বৈঠকে একটা ছবি অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক অবনতি: নাগরিক জীবনে নিরাপত্তাহীনতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ রাত ১০:৩৫



বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ জনগণের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে, কারণ প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও চুরি, ডাকাতি, হত্যাকাণ্ড কিংবা রাজনৈতিক সহিংসতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×