“তুমি কি ও হেনরির ‘দ্যা গিফট অব ম্যাজাই’ পড়েছ?” তূর্য জিগ্যেস করল মধুকে।
“ওই জিম আর ডেলার গল্পটা তো?” মধু বলল।
“হ্যাঁ।”
“মন খারাপ করে দিয়েছিল গল্পটা। জিম ডেলার জন্য পছন্দের ঘড়ি বিক্রি করে চিরুনি আনল অথচ সেটা কাজেই লাগল না।”
“ডেলা জিমের জন্য নিজের দীঘল চুল বিক্রি করে ঘড়ির বেল্ট কিনল এবং সেটাও কাজে লাগল না। কী ট্রাজেডি!”
“তোমার কি মনে হয় না আমাদের সম্পর্ক ওদের মতোই?”
“মনে হয়।”
“আমাদেরও অর্থসম্পদ তেমন নেই। অথচ ভালোবাসা আছে।”
তূর্য ফেসবুকে মধু’র ডাকনাম ডেলা লিখল। তৎক্ষণাৎ মধুও তার ডাকনাম জিম করে ফেলল।
তাদের পরিচয় হয়েছিল ফেসবুকে। তূর্য তখন তার গ্রামের বাড়িতে থাকত। চাকরি ছেড়ে এলাকায় কিছু করতে চাচ্ছিল। কিন্তু কিছু করতে পারছিল না। হঠাৎ এক বন্ধু ব্যবসার প্রস্তাব দেয়। তখন সে রাজি হয়ে যায়।
এক বিকেলে এক মেয়ের আইডি চোখে পড়ল তূর্য’র। নাম: হিমাদ্রি হিম। প্রোফাইলটায় কেমন অসহায় এক মেয়ের ছবি! পোস্টগুলোও বেদনাদায়ক। তাকে নক দিল তূর্য। সেখান থেকেই কথাবার্তা শুরু। একপর্যায়ে জানা গেল উম্মে হানি মেয়েটার আসল নাম। তূর্যকে তার আসল আইডি দিল।
মেয়েটা ব্রোকেন ফ্যামিলিতে বড়ো হয়েছে। বাপ, এবং দু’ভাই আছে সংসারে। মা অন্যত্র বিয়ে করেছেন।
অল্প বয়স থেকেই সংসারের কাজ করা শুরু করতে হলো। অষ্টম শ্রেণিতে থাকাবস্থায় মা চলে গিয়েছিলেন। বাপ দোকানদারি করেন। ছোটো ভাই তার সাথে থাকে। বড়ো ভাই শুয়ে-বসে দিন কাটায়। মাঝেমধ্যে বিকেলে বেরিয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডাবাজি করে আসে।
“অনেকদিন হয়ে গেছে। আমাদের দেখা হওয়া দরকার না?” তূর্য বলল।
“১৯ এ মার্চ বিসিএস পরীক্ষা। ওদিন আসতে পারবে ঢাকায়?”
“আচ্ছা। কলেজটা খোলা হলে সুবিধা হতো।”
মধু বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পড়ে। করোনার কারণে এক বছর ধরে বাড়িতে আছে। তূর্য’র সাথে ঘনিষ্ঠতা হওয়ার পর ওর ইচ্ছে করে ঢাকায় চলে আসতে। কিন্তু সে সুযোগ কোথায় তার?
তূর্য মধু’র জন্য কিছু উপহার কিনল। মধুও কিনল। মধু’র ইচ্ছে তূর্য’র সাথে দেখা হওয়ার পর ওকে পরীক্ষা হলে ঢুকিয়ে বাইরে অপেক্ষা করবে। তারপর পরীক্ষা শেষ হলে দু’জন ঘোরাঘুরি করবে। বিকেলে যে যার মতো বাড়ি চলে যাবে।
১৯ মার্চ সকাল ৯টা। তূর্য ঢাকায় এসেছে। ওর সিট পড়েছে সদরঘাট এলাকায় ‘কবি নজরুল কলেজ’ এ। উসখুস করছে তূর্য। মধু’র তো এতক্ষণে চলে আসার কথা। আসছে না কেন? ওর কি কোনো সমস্যা হলো?
কিছুক্ষণ পর মেসেজ এলো। “স্যরি। আসতে পারলাম না।”
চলবে...