৫। আনডিস্পিউটেড ১ (Undisputed I)
অভিনয়েঃ ওয়েজলি স্নাইপস, ভিং রামেস
পরিচালকঃ ওয়াল্টার হিল
রিলিজঃ ২০০২
বক্সিংকে উপজীব্য করে একটি নিখাদ কমার্শিয়াল অ্যাকশন মুভি। খুনের দায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত মনরো(ওয়েজলি স্নাইপস) একজন সাবেক হেভিওয়েট বক্সার। উপরের নির্দেশে জেলের ভিতর বিভিন্ন বক্সারের সাথে লড়াইয়ে নামে সে; আর লড়তে গিয়ে এ পর্যন্ত কখনোই পরাজয় বরণ করতে হয়নি তাকে। একই সময় মুক্ত পৃথিবীর চ্যাম্পিয়ন আইসম্যান(ভিং রামেস) ধর্ষণ মামলায় ফেঁসে ওই একই কারাগারে নির্বাসিত হয়। এই দুই অপরাজেয়র মাঝে কে প্রকৃত সেরা এবং জেলের দুর্নীতি, মাফিয়া ইত্যাদি নিয়েই এগিয়ে গিয়েছে মুভির অবশিষ্ট কাহিনী।
চিত্রনাট্যের দিক দিয়ে মুভিটি মোটেই উন্নত নয়, তবুও ওয়েজলি এবং রামেস দুজনেই বক্সারদের হিংস্র, কঠোর রূপটি বেশ ফুটিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে, ‘আইসম্যান’ এর চরিত্রটি সম্পূর্ণই মাইক টাইসনের আদলে গড়া। আইসম্যানের একটি উক্তিঃ ‘I am not an athlete, I am a gladiator. People play baseball, but no one plays the boxing’.
টরেন্ট লিঙ্ক
৪। ওয়ারিয়র (Warrior)
অভিনয়েঃ টম হার্ডি, জোয়েল এডগার্টন, নিক নোল্টে
পরিচালকঃ গ্যাভিন ও’কনর
রিলিজঃ সেপ্টেম্বর ৯, ২০১১
একটি বিচ্ছিন্ন পরিবারের দুই ভাইয়ের লড়াইকে কেন্দ্র করে মিক্সড মার্শাল আর্ট নির্ভর মুভি। ইরাক ফেরত ‘War hero’ টম হার্ডি; বড় ভাই এবং বাবার অবহেলায় অসম্ভব ক্ষোভ জমা হয়েছে তার ভিতরে। এদিকে বড় ভাই ব্রেন্ডন কোলন(জোয়েল) হাই স্কুলে শিক্ষকতা করে, বাবা-ভাই সবার থেকেই বিচ্ছিন্ন সে। ব্যাংক ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে রাস্তায় লড়াই করতে নেমে স্কুলের চাকরিটাও হারায়। এদিকে এই দুই ছেলের বাবা সাবেক বক্সার প্যাডি কোলন(নিক), মদের হাত থেকে বাঁচার জন্য আপ্রাণ লড়াই করে চলেছে। এমনই পারিবারিক দ্বন্দ্ব, আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত দুই ভাইয়ের লড়াই শেষ পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়ায় রিং এর মাঝে। রেসলার কার্ট এঙ্গেলকেও দেখতে পাবেন রিং এর লড়াইয়ে।
এক কথায় অসাধারণ কাহিনী এবং সুন্দর অভিনয় সমৃদ্ধ এই মুভিটি দেখার পর অবশ্যই কিছুক্ষণ ঘোর রয়ে যাবে। আবেগের চোটে বক্সারদের মত ঘুসি মারতে গিয়ে ব্যাথা পেলেও আশ্চর্য হবেন না। আইএমডিবি রেটিং ৮.৩ এবং এরকম স্পোর্টস মুভি থেকে বাবা চরিত্রের নিক নোল্টের অস্কার নমিনেশন পাওয়াই বলে দেয় যেন তেন কোন চলচিত্র নয় এটি।
টরেন্ট লিঙ্ক
৩। রেজিং বুল (Raging Bull)
অভিনয়েঃ রবার্ট ডি নিরো
পরিচালকঃ মার্টিন স্করসেস
রিলিজঃ ১৯৮০
সাবেক মিডলওয়েট বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান, ইটালিয়ান-আমেরিকান বক্সার জ্যাক লা মোত্তা’র আত্মজীবনী নিয়ে নির্মিত সর্বকালের অন্যতম সেরার কাতারে থাকা এই চলচিত্র। ৪০’এর দশকের আবহ তুলে ধরতে মুভিটি তৈরি করা হয়েছে সম্পূর্ণ সাদা-কালোতে। একজন উচ্ছৃঙ্খল, বদ মেজাজি বক্সারের পরিবার, প্রিয় মানুষদের সাথে দুর্ব্যবহার এবং মানব সাইকোলজির কিছু দিক তুলে এনেছেন পরিচালক মার্টিন স্করসেস এবং সেই সাথে ডি নিরোর অসাধারণ অভিনয়ে এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে চলচিত্রটি। কখনোই মনে হবে না এটি ৮০’সালের তৈরি কোন চলচিত্র; সংলাপ, অভিনয়, দৃশ্যায়ন সবকিছুই আপনাকে ৪০এর দশকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। বেশ কটি অস্কার নমিনেশন এবং অস্কার জয়ী এই অসাধারণ মুভিটিতে বাড়তি বিনোদন হিসেবে লা’মোত্তার বেশ কয়েকটি বিখ্যাত, বিতর্কিত লড়াই এবং ইটালিয়ান মাফিয়াদের সম্পর্কে আরও জানার সুযোগ তো থাকছেই।
আইএমডিবি রেটিং ৮.৪।
টরেন্ট লিঙ্ক
২। রকি (Rocky)
অভিনয়ঃ সিলভাস্টার স্ট্যালোন, বার্ট ইয়াং
পরিচালকঃ জন জি এভিল্ডসন
রিলিজঃ ১৯৭৬
একে একে ৬টি পর্ব হয়ে গিয়েছে ১৯৭৬ এ প্রথম মুক্তি পাওয়া এই চলচিত্রটির, কিন্তু কোনটিই বোধ হয় গুণে, মানে প্রথমটির ধারে কাছে যেতে পারেনি। এক হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ানের হঠাৎ খেয়ালের বশে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচিত হয় নিজেকে হারিয়ে বসা ‘ইটালিয়ান স্ট্যালিয়ন’ খ্যাত এক অখ্যাত বক্সার রকি বিলবোয়া, এর পরেরটুকু শুধুই ইতিহাস। দারিদ্র্য, হিপ্পিদের জীবন, রোমান্স আর চমৎকার লড়াইদৃশ্যকে সম্বল করে ১ মিলিয়ন ডলারে বানানো এই মুভিটি শুধু ২২৫মিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ব্যবসাই করেনি, জয় করেছিল ৩টি অস্কার। স্ট্যালোনকে ছাপিয়ে সুঅভিনেতা বার্ট ইয়াং এর অভিনয় ছিল অসাধারণ। নতুন পর্ব দেখে এবং র্যা ম্বো স্টাইল অভিনয় ভেবে অনেকদিন বাতিলের খাতায় রেখে দিয়েছিলাম প্রথম পর্বটি। কিন্তু পরে যখন দেখলাম, বুঝলাম কি ভুল করেছিলাম এতোদিন।
আইএমডিবি রেটিং ৮.১
টরেন্ট লিঙ্ক
১। সিন্ডেরেলা ম্যান (Cinderella Man)
অভিনয়ঃ রাসেল ক্রো, রেনি জেলওয়েগার, পল জিয়ামেত্তি
পরিচালকঃ রন হাওয়ার্ড
রিলিজঃ ২০০৫
যে যাই বলুক, বক্সিং নিয়ে আমার দেখা সেরা মুভি এটি। ৩০’এর দশকে আমেরিকার মহামন্দা চলাকালীন সময়ে একজন বক্সারের জীবন সংগ্রামের সত্যিকার ঘটনা নিয়ে নির্মিত এই চলচিত্র। একজন প্রতিশ্রুতিশীল বক্সার হঠাৎ করেই লড়াইয়ে হাত ভেঙ্গে বক্সিং এর রিং থেকে বিতাড়িত হয়, মহামন্দার সেই ভয়ঙ্কর অভাবের সময় স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে একটি সেলারে আশ্রয় মিলে। ভাঙ্গা হাত নিয়ে কাজ করেও পরিবারের দু’বেলা খাবার, বিদ্যুতের যোগান দিতে ব্যর্থ হয় জেমস ব্র্যাডক (রাসেল ক্রো) নামক এই বক্সার। এক পর্যায়ে সন্তানের জীবন বাঁচানোর জন্য ভিক্ষুকের মত হাত পাততে বাধ্য হয় জেমস।
দীর্ঘ সময় এভাবে যাওয়ার পর হঠাৎ একদিন সাবেক ম্যানেজার এবং বন্ধু জো গোওল্ড (পল জিয়ামেত্তি) এর কাছ থেকে সামান্য অর্থের বিনিময়ে এক রাতের একটি লড়াইয়ের প্রস্তাব পান। প্রতিদ্বন্দ্বী বিশ্বের দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ বক্সার, এবং সবাইকে চমকে দিয়ে জিতে যায় জেমস। এরপর একে একে ধরাশায়ী করেন জো লুইসসহ অন্যান্য নামীদামী বক্সারদের। শেষপর্যন্ত সবাইকে টপকে মুখোমুখি হন বিশ্বের নাম্বার ওয়ান বক্সার অপ্রতিরোধ্য ম্যাক্স বায়েরের, ইতিমধ্যেই যার হাতে দুইজন বক্সারের মৃত্যু হয়েছে। পত্রিকাওয়ালারা এই লড়াইকে আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করে জেমসের জন্য, কিন্তু শেষপর্যন্ত স্ত্রী-বন্ধুদের বাঁধা উপেক্ষা করে জেমস মুখোমুখি হয় ভয়ঙ্কর ম্যাক্স এর।
বেশ কটি অস্কার এবং গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের নমিনেশন পাওয়া এই চলচিত্রটির আইএমডিবি রেটিং ৮.০। পুরষ্কার, রেটিং, সত্যতা যাই হোক; মহামন্দার একটি অসাধারণ প্রামাণ্য দলিল হিসেবেও এই চলচিত্রটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই মন্দার তীব্রতা টের পাওয়া যায় খোদ বক্সার জেমস ব্র্যাডকের এই উক্তিতে, ‘When you've been through what I've had to face in the last two years, a Max Baer or a Bengal tiger looks like a house pet’ :-&
টরেন্ট লিঙ্ক
বক্সিং এর আরও কিছু উল্লখযোগ্য চলচিত্রের খোঁজ পেতে হলে নিচের এই লিঙ্কটি দেখতে পারেন।
View this link