হলিউডি মুভির সুপার হিরোদের আমরা সবাই কমবেশি পছন্দ করি। কিন্তু তাদের ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো নিয়ে কি কখনো ভেবেছি?? বা সেগুলো কি কখনো একত্র করেছি। আসুন দেখি সেগুলো আলাদা ভাবে কেমন দেখায়।
১০) Daredevil এর billy club
মারভেল এর কমিকস ডেয়ারডেভিল থেকে মুল গল্পনেয়া। নায়ক একটা গুর্ঘটনায় তার চোখ হারায় কিন্তু চোখ হারানোর সাথে সাথে তার অন্যান্য ইন্দ্রিয় যেমন গন্ধ, শব্দ এবং অনুভুতি প্রবল ভাবে বৃদ্ধি পায়। এবং এগুলো দ্বারাই সে খারাপের সাথে যুদ্ধ করে। তার ব্যবহৃত অস্ত্রটা আধুনিক বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের পুলিশের হাতে দেখা যায়। এছারা এর ভাল ব্যবহার দেখা যায় মার্শাল আর্টে। দুটি লাঠির দু প্রান্তে শক্ত রশি দ্বারা বাধা থাকে। প্রয়োজনে লাঠিট দুটি একসাথে জোরালাগানো যায় আবার খোলা যায়।
তবে এটা ব্যবহার করার পদ্ধতিটা পুরাটাই মার্শাল আর্ট জানার উপর নির্ভর করবে। বেশকিছু চমৎকার একশন আছে মুভিটাতে। আপনিও ব্যবহার করতে পারেন এটি। তবে সাবধান কন্ট্রোল করতে নাপারলে সবার আগে দেখবেন নিজের মাথা দুইভাগ করে ফেলসেন।
০৯) Dredd এর Lawgiver
ড্রেড এর প্রথম মুভিটা আসে মুলত ১৯৯৫ সালে Sylvester Stallone এর অভিনিত। দুটি মুভিতেই একই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। অস্ত্রটি কিছুটা ইজরাইলি ইউজি এর মত। তবে এতে প্রচুর ফ্যাসিলিটি আছে। একইসাথে বিভিন্ন মুডে ফায়ার করাযায়। এটি ইউজারের ভয়েস কমান্ড ফলো করে। ইউজার যদি হট শট বলে তবে তা হট শটে যাবে আবার ইউজার যদি হাইএক্সপ্লোসিভ বলে তবে তা গুলির বদলে হাই এক্সপ্লোসিভ ফায়ার করবে। পুরো মুভিতে এই একটি অস্ত্র দিয়ে ড্রেডকে যুদ্ধ করতে দেখা গেছে।
এটি সাইজে বেশ ছোট এবং এর ওজন অনেক কম। এছারা টার্গেট লক করা এবং নিশানা ঠিকরাখাও বেশ সুবিধাজনক। যেটা বর্তমানের আগ্নেয়াস্ত্রগুলোতে সম্ভব নয়। এছারা এটি ইউজার আইডি সেভ করতে পারে। মানে সঠিক ইউজার ছারা অন্য কেউ এটি ব্যবহার করতে চেস্টা করলে সেটি নিজে নিজে অন্য ইউজার এর হতে ব্যাক ফায়ার করবে।
০৮) Ghost Rider এর Hellfire chain
চেইনও যে একটা অস্ত্র হইতে পারে তা এই মুভিটা দেখে বুঝছি। মুলত গোস্টরাইডার যখন শয়তানের সাথে চুক্তির ফলে অভিশপ্ত হয়ে পরে তখন তার বাহন বাইকটা এবং চেইনটা এর সাথে অভিশপ্ত হয়ে যায়। ফলে এই চেইনটা সে তার একটা প্রধান অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে।
চেইনটার বিশেষত্ব হল এটি তার ইউজারের শরিরের আগুন নিজের শরিরে ট্রান্সফার করে রক্তবর্ন ধারন করে। এটি দ্বারা আঘাত করলে আগুন আঘাতকারির শরিরে ছরিয়ে পরবে। এছারা এটি ইউজারের ইচ্ছে মত মুভ করে। এটি আগুন, পানি এবং বাতাস এর যেকোন কিছু ধংশ করা যায়। মুভিতে এর আরো কিছু বহুমুখি ব্যবহার দেখতে পাওয়ার যায়।
০৭) Captain America: The First Avenger এর shield
মুভিটা মুলত মার্ভেল এর Captain America কমিকস থেকে নেয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এক বিজ্ঞানি খুব দুর্বল আর চিকন চাকন কিন্তু ভাল মনের এক সৈন্যের উপর বিশেষ এক পরিক্ষা চালান যাতে সে শক্তিশালি এবং বিশেষ কিছু ক্ষমতার অধিকারি হয়। কিন্তু পরিক্ষার পর মুহুর্তে তিনি আসাসিনেশনে নিহত হন। কিন্তু তার সেই সৃস্টি থেকে যায়। সেই হয় ক্যাপ্টেন আমেরিকা। এক সময় তার জন্য আয়রন ম্যান টনি স্টার্ক এর পিতা এইব স্টার্ক একটি বিশেষ ধরনে হস্ত বর্ম নির্মান করেন। যার নাম দেয়া হয় শিল্ড।
এটি বুলেট,বোমা সহ দুনিয়ার তাবত অস্ত্রের আঘাত আনায়সে ফিরিয়ে দিতে পারে। এছারা এটি ছুরে দিলে তা আবার ইউজারের কাছে ফিরে আসে। এটা দ্বারা বেশ কিছু ভাংচুরও করেছেন আমাদের ক্যাপ্টেন আমেরিকা সাহেব। তবে কমিকস গুলোতে এই শিল্ডএর আরো চমৎকার কিছু ব্যবহার দেখানো হয়েছে।
০৬) Batman এর Batarang
ওয়ার্নার ব্রুস এর ডিসি কমিকস ব্যাটম্যান থেকে মুলত মুভিটি বানানো হয়েছে। ধনির দুলাল তার সকল সম্পদ ব্যায় করে পিঠে কাপর বাইন্ধা ভয়ানক সব ভিলেনের বিরুদ্ধে নাইমা পরে। বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রসস্ত্র ব্যবহার করে। তবে মুল একটা অস্ত্র হইতেছে এই ব্যাটরেঙ।
দেখনে বাদুর এর পাখনার মত। এর বিশেষত্ব হইতেছে এর চারপাশ গুলো প্রচন্ড ধার থাকে এবং ছুরে মারলে যে কোন স্থানে বসে যায়। ব্যাটম্যান তার প্রত্যেকটা মিশন শেষে এই জিনিষটা রেখে যেত। এছারা লাস্ট মুভিতে একসাথে ৪ -৫ জনকে টার্গেট করেও এটা ছুরতে দেখা গেছে।
০৫) The Amazing Spider-Man এর Web-Shooters
মুলত মার্ভেল এর কমিক স্পাইডারম্যান থেকে নেয়া। প্রথম মুভিগুলোতে স্পাইডারম্যান এর হাতের মাকরসার জালগুলো আনায়সেই চলে আসত। কিন্তু নতুন মুভিতে দেখলাম একটা যন্ত্র ব্যবহার করতে। নাম দিয়েছে ওয়েবশুটার।
যন্ত্রটা স্পাইডারম্যান নিজেই ডিজাইন করেন। কাজ একই। খুব শক্ত মাকরসার জাল বোনা। তার স্যুটের সাথে এটাচ করা থাকে। আামার কাছে এইটা বিরক্ত লাগছে। স্পাইডারম্যানে জাল যদি যন্ত্রদিয়া বাইর করতে হয় তাই আর লাভ কি??
০৪) Green Lantern এর Power ring
মুল কাহিনি নেয়া হয়েছে ডিসি কমিকস এর ক্যরেক্টের গ্রিনল্যান্ট্রান থেকে। মহাবিশ্বের সিকিউরিটির দায়িত্বে নিয়জিত সৈন্যদের মধ্যে একজন হাল জর্দান পৃথীবিতে ক্রাশ ল্যান্ড করে এবং মারা যাবার আগে তার রিং এই ভদ্রলোকরে দিয়া যায়। তো তার পর তিনি এই রিং এর মালিক এবং এর ক্ষেমতা দেখানো শুরু করেন।
রিং এর বৈশিষ্ট হল এটি যার আগুলে থাকবে তার শারিরে অটো একটা স্যুট এডজস্ট হয়ে যাবে। মনে যা আসে তাই হাতে বানিয়ে দিবে এই রিং। যুদ্ধের সময় এটা খুব কাজে লাগে। যেমন ওপাশ থেকে গুলি হচ্ছে ঠেকানোর জন্য চিন্তা করলে বুলেট প্রুফ শিল্ড.........হয়ে গেল শিল্ড। আবার অস্ত্রদর খালি ভাবলেই হবে চলে আসবে হাতের কাছে অস্ত্র। ছোট হাতের একটা ঘুষিকে ১০০ গুন বর করে মারবে। তবে এর আবার একটা সমস্যা আছে।
এটা আপনার মোবাইলের ব্যাটারির মত। মানে চার্জ শেষ হইলে তার ল্যন্টার্ন দিয়া আবার রিচার্জ করতে হবে। নাইলে কাম করবে না। কি জ্বালা কনছেন দেহি। মারামারির সময় চার্জ ফুরাইয়া গেলে বেচারা তখন কই যাইব??
০৩) Thor এর Hammer
নর্স মিথোলজির বজ্রের দেবতা হচ্ছে থর। মার্ভেল কমিকস তাকে নিয়ে প্রথম কমিকস ছারে বাজারে। বর্তমান মুভিগুলো করা হচ্ছে মার্ভেল এর কমিকস থেকে। দেবতা ওডিন এর মেজ ছেলে থর। তার একমাত্র শক্তি হচ্ছে তার হাতুরি। এটা একটা তারার হার্ট দিয়ে তৈরি।
এর বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট আছে। এটি থর হাতে থাকা অবস্থায় যেকোন সময় ( খটখটা রোদ্রের মধ্যেও) থাডা (বজ্রপাত) ফালাইতে পারে। এটা দিয়া মাটিতে শক্তকইরা একটা বাড়িদিলে মাটি ফাইটা ভুমিকম্প শুরু হয়। যেকোন জিনিষের উপর একটার উপর দুইটা বাড়ি দেওয়া লাগে না। এছারা এইটা হেলিকাপ্টার এর কাজ করে। আামাদের থর বাবাজি ছারা এইটা কেও মাটিথেকে এক ইঞ্চিও নারাইতে পারব না। হাল্ক এর মত দানব এক বারিমাইরা কাইত কইরা ফেলাযায় এইটা দিয়া। এছারা এইটা ছুইরা মারলে সব মাইরা আবার থরের হাতে ফিরত আসে। থরের হাত ছারা আবার এইটা পুরা অচল।
০২) Wolverine এর Built in Sword
আর একটা মার্ভেল কমিকস এর ক্যারেক্টর। এক্সম্যান মুভিতে প্রথম দেখা যায়। আলাদা ভাবে এখন পর্যন্ত দুটি মুভি বাজারে এসছে ওলভওরিনকে নিয়ে। মুলত যুগযুগ ধরে বেচে থাকা এই মানুষটি নিজেই কনফিউজ তার পরিচয় নিয়ে। হিংস্র স্বভাব এবং শিয়ালের বৈশিষ্ট তাকে এই নামদিয়েছে। তার অনেক ক্ষমতার একটা গুরুত্বপুর্ন হচ্ছে তার হাতের চার আঙুলের মাঝখানে থাকা তিনটি ছুরি যা তার ইচ্ছামত বাইরে বের হয়ে আসে। প্রথম পর্বে দেখানো হয়েছে তার শরিরে গলিত adamantium সিরিঞ্জের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হয় ফলে তার এই ছুরি গুলোতে এই ধাতুর একটা প্রলেপ পরে এবং তা প্রচন্ড শক্তিশালি হয়ে উঠে।
এর প্রধান বৈশিষ্টহচ্ছে এটি যে কোনকিছু কেটে ফেলতে সক্ষম। তা লোহা হোক বা স্টিল হোক অথবা কংক্রিট এর দালান হোক। যেকোন সময় এটি বের হয়ে আসে তবে তা ওলভওরিনের ইচ্ছার উপর। ঘুষিমারার পর এটি সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে। যে কোনকিছু ধরে রাখতে সাহায্যকরে। তবে এটি ম্যাগনিটোর সামনে অচল।
০১) Iron Man এর Suit
মার্ভেল কমিকস আয়রনম্যনের চরিত্রটি মুভিতে নিয়ে আসা হয়েছে। রবার্ট ডাওনি জুনিয়র ফাটাইয়া ফেলছেন। মুলত এক অস্ত্রব্যাবসায়ির খুব ব্রিলিয়্যান্ট ছেলে আফগানিস্তানে মারাত্তক যখম হয়ে তালেবানদের হাতে বন্দি হয়। পরে সে সেখান থেকে পালাবার জন্য তার বুকে ব্যবহ্রত কোর ফিউশনটিকে পাওয়ার সোর্স হিসাবে ব্যবহার করে একটি শারিরিক বর্ম তৈরি করে যা উরতে এবং যুদ্ধ করতে পারে। পরে সে তার সকল সম্পদ এবং জ্ঞান এই বর্মের উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের পিছনে খরচ করেন।
এ স্যুট কি করতে পারে তা বর্ননা করতে গেলে পোস্ট আর শেষ হবে না। এটি একই সাথে একটা ফাইটার প্লেন যেটা যে কোন সময় যেকোন স্থান থেকে টেকঅফ এবং ল্যান্ড করতে পারে, একটা অস্ত্রের গুদাম, আর একটা সৈন্য। এর শরিরের মোটামোটু সব জায়গাতেই রয়েছে অস্ত্র। এটি মানুষ সহ বা ছারা উরতে পারে। রয়েছে একটি এ,আই (জার্ভিস)যেটি বাহকের ভয়েস ট্রাক করতে পারে।
এটি মানব শরিরে লোড আরলোড করতে খুব কমসময় লাগে। এবং একবারে কোনরকম ঝামেলা মুক্ত।
মজার ব্যাপার হল আমেরিকা সহ বেশকিছু উন্নত দেশ তাদের সসস্ত্র বাহিনির জন্য এইধরনের কিছু একটা তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। এবং এসংক্রান্ত কার্যাদি অলরেডি শুরু হয়েগেছে আমেরিকাতে প্রকাশ্যে।