হলুদ সাংবাদিকতা প্রথম আলোর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জন্ম লগ্ন থেকে বিভিন্ন সরকারের বিশেষ সময়ে এই তথাকথিত পত্রিকাটির ডিগবাজী দেওয়ার ক্রীড়া শৈলীর দক্ষতা আমাদের মুগ্ধ করে আসছে। হলুদ সাংবাদিকতার এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের জন্য অনেকে একে আদর (!!) করে বিভিন্ন নামে ডেকে থাকেন। এই সব নামের মধ্যে "আলু" নামটাই মনে হয় সর্বাধিক জনপ্রিয়।
এই পত্রিকার প্রতিভা গুনে মুগ্ধ ও অনুপ্রানিত হয়ে অনেক নতুন উদ্যোক্তা নতুন পত্রিকা বের করার চেষ্টা করেছে। এর মধ্য থেকে মগবাজার থেকে প্রকাশিত "দৈনিক মতিকন্ঠ" বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কি এখনও পর্যন্ত তারা গুরু "আলু"-এর কাছে নস্যি।
আজকে এর হলুদ প্রতিভার সর্বশেষ নমুনা দেখলাম "এবার নৌবাহিনীর ২০ কর্মকর্তার পদোন্নতি " শীর্ষক সংবাদটিতে। সংবাদটির শিরোনাম স্পষ্টতই নেতিবাচক। শিরোনামে "এবার" যুক্ত করায় মনে হচ্ছে এটি নির্বাচনের আগে সরকারের কোন বিশেষ গোষ্ঠিকে তুষ্ট করার প্রয়াশ। এই পদন্নোতি বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর "ফোর্সেস গোল ২০৩০" এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার একটি ধাপ। মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধের প্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে উদ্ভুত পরিস্থিতির অভিঞ্জতার আলোকে নৌ বাহিনী আধুনিকায়ন করার জন্যে ইতিমধ্যে এই বাহিনীতে অনেক গুলো নতুন জাহাজ ও স্থাপনা যুক্ত হয়েছে। সেই আনুযায়ী অনুমোদিত টিওএন্ডই মোতাবেক র্যাঙ্ক স্ট্র্যাকচার সমন্বয় করার একটি প্রক্রিয়া এই পদন্নোতি। এটা নির্বাচনের আগে কাউকে তুষ্ট করার প্রয়াস নয়। এছাড়াও এই পদোন্নতির সাথে সেনা বাহিনীর পদে রদ বদলের কোন সম্পর্ক নেই। যে বিষয়টি এই সংবাদের সাথে উল্লেখ করে অন্য কিছু ইঙ্গিত করা হচ্ছে।
আলুর এই হলুদ প্রতিভায় আমি আবারও আরেকবার মুগ্ধ হলাম


পাঠকগনের সুবিধার্থে আলুর সংবাদটি নিচে আবারও দিলাম।
এবার নৌবাহিনীর ২০ কর্মকর্তার পদোন্নতি
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২০ কর্মকর্তার পদোন্নতি হয়েছে। আজ রোববার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে চারজনকে কমোডর থেকে রিয়াল অ্যাডমিরাল ও ১৬ জনকে ক্যাপ্টেন থেকে কমোডর পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
কমোডর থেকে রিয়াল অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি পাওয়া চার কর্মকর্তা হলেন নৌবাহিনীর চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার আখতার হাবিব, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক (এসডিএস) এম আনোয়ারুল ইসলাম, ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের শিক্ষক আবদুল বাতেন এবং খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ।
যাঁরা কমোডর পদে পদোন্নতি পেয়েছেন তাঁরা হলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (মেরিন ও হারবার) মোহাম্মদ শাহজাহান, কোস্টগার্ডের কমান্ডার আবদুর রহমান, যুদ্ধজাহাজ বিএনএস ধলেশ্বরীর ক্যাপ্টেন বসিরউদ্দিন আহমেদ, নেভাল অ্যাভিয়েশনের কমান্ডিং অফিসার আবু আশরাফ, নৌবাহিনীর পরিচালক নেভাল অপারেশন মোজাম্মেল হক, করভেট প্রকল্পের প্রধান আবদুল কালাম মোহাম্মদ ফারুক হাসান, নেভাল একাডেমির কমান্ড্যান্ট এম নাজমুল হাসান, যুদ্ধজাহাজ আলী হায়দারের কমান্ডিং অফিসার মাহবুব উল ইসলাম, নৌবাহিনীর জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক রাশেদ আলী, যুদ্ধজাহাজ ‘সমুদ্র জয়ে’র কমান্ডিং অফিসার নাজমুল করিম কিসলু, নৌ প্রকৌশল বিভাগের পরিচালক সফিউল আযম, করভেট জাহাজের দায়িত্ব পাওয়া জাহাঙ্গীর আলম, নৌবাহিনীর পরিচালক (গুদাম) আবু নাসের মোহাম্মদ রেজাউল হক, প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিদপ্তরের পরিচালক সৈয়দ সালাউদ্দিন আহমেদ, চীনে প্রশিক্ষণরত লোকমানুর রহমান এবং নৌ তড়িত্ প্রকৌশল বিভাগের পরিচালক জিয়াউদ্দিন আলমগীর।
উল্লেখ্য, এর আগে ১০ নভেম্বর সেনাবাহিনীর ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ১৯:৪৯, নভেম্বর ২৪, ২০১৩