একটা সময় ছিলো যখন তোমার ফোনের জন্য আমি প্রতীক্ষার প্রহর গুনতাম।তোমাকে ভালোবাসার আকুতি আমাকে পৃথিবীর সব জটিলতা ভুলিয়ে একমুখী মানুষে পরিণত করেছিলো।আমার একটাই কাজ ছিলো নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে শুধু তোমাকে ভালোবাসা।
তোমার কাছেই
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সকাল নয়, তবু ও আমার
প্রথম দেখার ছটফটানি
দুপুর নয়, তবু ও আমার
দুপুর বেলার প্রিয় তামাসা
ছিলো না নদী, তবু ও নদী
পেরিয়ে আসি তোমার কাছে
তুমি ছিলে না তবু ও যেন
তোমার কাছেই বেড়াতে আসা।
শিরীষ গাছে রোদ লেগেছে
শিরীষ কোথায় মরুভূমি।
বিকেল নয়, তবু ও আমার
বিকেলবেলার ক্ষুৎপিপাসা
চিঠির খামে গন্ধ বকুল
তৃষ্ণা ছোটে বিদেশ পানে
তুমি ছিলে না, তবু ও যেন
তোমার কাছেই বেড়াতে আসা।
আমার জন্ম হয়েছে শুধু তোমাকে ভালোবাসার জন্য
আচ্ছা তোমার কি মনে আছে? প্রথমদিকে যখন তোমার সাথে কথা হতো তখন সব কথা আমি বলতাম!!!!তোমাকে বলার কোনো সুযোগ দিতাম না।অবশ্য তুমি এমনিতেই অনেক কম কথা বলো।আমার সব সুখ ছিলো আমার জীবনে ঘটে যাওয়া সব "কথা' তোমাকে বলার মাঝে.......তুমি বিরক্ত হতে কিনা জানি না। আমি কখনো বোঝার চেষ্টা করিনি কারণ আমার ভালোবাসার "প্রিয়ন্তী" কে আমার সবটুকু ভালোবাসা উজাড় করে দেয়ায় ব্যস্ত ছিলাম।
চব্বিশ ঘন্টার রাত এবং দিনের শুধু তোমার সাথে ফোনালাপের সুন্দর মূহুর্তগুলো ছিলো আমার কাছে স্বপ্নের মতো।আমি ভালোবাসার "প্রিয়ন্তী" কে নিজের গল্প বলে মনের আনন্দে আকাশে ভেসে বেড়াতাম।দিনের অন্যসময় গুলো ছিলো তোমার ফোনের জন্য মধুর অপেক্ষা।তোমার বাসায় অনেক সমস্যা ছিলো তারপরো তুমি ঠিক আমার জন্য সময় বের করে দিয়েছো।আমার প্রলাপ গুলো তোমার ভালো লাগতো এটা আমি বেশ বুঝতে পারতাম।এতো ভালো শ্রোতা আমি জীবনে দেখিনি।কত বাধা পেরিয়ে আমার প্রেমালাপ হতো। তোমাকে একবার রফিক আজাদের "প্রতীক্ষা" কবিতার আমার প্রিয় কয়েকটা লাইন আবৃত্তি করে শুনিয়েছিলাম।এরপর তোমার অনুরোধে আমাকে কতোবার যে আবৃত্তি করে শোনাতে হয়েছিলো তা আমার নিজের ও মনে নেই।মন খারাপ থাকলেই তুমি আবৃত্তি করে তোমার মন ভালো করে দেয়ার জন্য বলতে।
আমি বন্ধু, পরিচিত-জন, এমনকি-শত্রুর জন্যেও অপেক্ষায় থেকেছি,
বন্ধুর মধুর হাসি আর শত্রুর ছুরির জন্যে অপেক্ষায় থেকেছি-
কিন্তু তোমার জন্যে আমি অপেক্ষায় থাকবো না,
-প্রতীক্ষা করবো।
‘প্রতীক্ষা’ শব্দটি আমি শুধু তোমারই জন্যে খুব যত্নে
বুকের তোরঙ্গে তুলে রাখলাম,
অভিধানে শব্দ -দু’টির তেমন কোনো আলাদা মানে নেই
কিন্তু আমরা দু’জন জানি ঐ দুই শব্দের মধ্যে পার্থক্য অনেক,
‘অপেক্ষা’ একটি দরকারি শব্দ
আটপৌরে, দ্যোতনাহীন, ব্যঞ্জনাবিহীন, অনেকের প্রয়োজন মেটায়।
‘প্রতীক্ষা’ই আমাদের ব্যবহার্য সঠিক শব্দ,
ঊনমান অপর শব্দটি আমাদের ব্যবহারের অযোগ্য,
আমরা কি একে অপরের জন্য প্রতীক্ষা করবো না?
আমি তোমার জন্যে পথপ্রান্তে অশ্বত্থের মতো দাঁড়িয়ে থাকবো
ঐ বৃক্ষ অনন্তকাল ধ’রে যোগ্য পথিকের জন্যে প্রতীক্ষমান,
আমাকে তুমি প্রতীক্ষা করতে বোলো
আমি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকবো অনড় বিশ্বাসে,
দাঁড়িয়ে থাকতে-থাকতে আমার পায়ে শিকড় গজাবে ...
আমার প্রতীক্ষা তবু ফুরোবে না ...
আচ্ছা "প্রিয়ন্তী" তোমার কি মনে আছে আমি ৩ মাস ধরে তোমাকে ভালোবাসার গল্প শোনানোর পর কিভাবে তুমি আমাকে তোমার মনে ঠাঁই দিয়েছিলে???তোমার ভুলোমন!!!!আমি নিশ্চিত তোমার কিছু মনে নেই।
আমি বলছি, একদিন আমার অনেক মন খারাপ ছিলো।তুমি আমার ফোন করে আমার প্যাক প্যাক শুনতে না পেয়ে বলে বসলে " আমি তোমাকে ভালোবাসি কিনা জানি না।আমি শুধু জানি তুমি আমাকে এতো বেশী ভালোবাসো যে আল্লাহ আমাকে তোমার ভালোবাসা উপেক্ষা করে যাওয়ার শক্তি দেননি।"
তোমার এই কথা শুনে আমি খুশীতে পাগল হয়ে গিয়েছিলাম।এতো সুন্দরভাবে কেউ পৃথিবীতে ভালো বাসার স্বীকৃতি পেয়েছে কিনা আমি জানি না?তবে আর দশজন প্রেমিকার মুখ থেকে যে চিরাচরিত ভালোবাসার কথা শুনতে পায় সেটা আমি কখনো পায়নি।তোমার মুখ থেকে "আমি তোমাকে ভালোবাসি এ কথা শুনতে না পাওয়া আমাকে কখনো ব্যথিত করেনি কারণ তুমি বলেছিলে কোনো একটা সুন্দর দিনের জন্য ভালোবাসার কমন স্বীকৃতি দেয়ার পদ্ধতিটা তুমি তুলে রেখেছো।আমি খুশী মনে অপেক্ষায় আছি সে দিনটির জন্য।কারণ "আমি তোমাকে ভালোবাসি" প্রাগৈতিহাসিক ভালোবাসা প্রকাশের এই পুরনো কথাটা আমার তোমার মুখ থেকে খুব শুনতে ইচ্ছে করে।
জানি না সেই দিনের দেখা আমি পাবো কিনা? দেখতে দেখতে তথাকথিত প্রেমিক প্রেমিকার মতো চারটি বছর পার করে এখন আমরা পুরনো প্রেমিক-প্রেমিকা।আগের সে আবেগ এখন অনুপস্থিত।আমি এখন উদাসপুরের উদাসী রাজকুমার আর তুমি অচিনপুরের অপ্সরী।এখন তোমার অনেক প্রাইভেসি আমাকে দেয়ার মতো সময় তোমার কাছে নেই।আমি তো সবটুকু ভালোবাসা "প্রিয়ন্তী"কে দিয়েছি।আমি এখন মেয়ে পটানো টেকটিস গুলো ভুলে গেছি।আমি পারিনা তোমাকে দেয়া আবেগ গুলো আর কাউকে দিতে।তোমার ভালোবাসা জিতে নিতে আমার সবটুকু নিংড়ে দিয়েছি।আমার আর কিছু অবশিষ্ট নেই।কিন্তু তুমি এতো বদলে গেছো কেনো?আমি তোমার কাছে অনেক পুরনো খেলার সামগ্রী।
আগে জানলে হয়তো কিছু চমক রেখে দিতাম এই টানাপোড়েনের সময়টার জন্য।
তুমি যেখানেই যাও
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
তুমি ব্যস্ত, তুমি একা, তুমি অন্তরাল ভালোবাসো
সন্ন্যাসীর মতো হাহাকার করে উঠি
দেখা দাও, দেখা দাও
পরমূহূর্তেই ফের চোখ মুছি,
হেসে বলি,
তুমি যেখানেই যাও,আমি সঙ্গে আছি।।
সত্যি বলছি আমি আবার নতুন করে তোমার সাথে প্রেমে পড়তে চাই।আমার ভালোবাসা প্রকাশের ধরণ তোমাকে আবার চমকে দেবে এরকম কিছু করতে চাই।আবার বিস্মিত "প্রিয়ন্তী"র কাছ থেকে শুনতে চাই--" আমি তোমাকে ভালোবাসি কিনা জানি না।আমি শুধু জানি তুমি আমাকে এতো বেশী ভালোবাসো যে আল্লাহ আমাকে তোমার ভালোবাসা উপেক্ষা করে যাওয়ার শক্তি দেননি।"
সবশেষে বলতে চাই "প্রিয়ন্তী" জেনে রেখো আমি বাবা মায়ের অবাধ্য সন্তান,সমাজের চোখে নষ্টছেলে কিন্তু আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলতে পারি শুধু তোমাকে ভালোবাসার কাজটাই আমি আমার জীবনে খুব মনোযোগ দিয়ে নিজের সবটুকু উজাড় করে করেছি।আর যদি পারো আমাকে বলে দাও ভালোবাসার পরীক্ষায় আর কতো নাম্বার পেলে "তুমি" সারাজীবনের জন্য আমার হবে?
See the stone set in your eyes
See the thorn twist in your side
I wait for you
Sleight of hand and twist of fate
On a bed of nails she makes me wait
And I wait without you
With or without you
With or without you
Through the storm we reach the shore
You give it all but I want more
And I'm waiting for you
With or without you
With or without you
I can't live
With or without you
অনুপ্রেরণাঃ প্রেমিক বন্ধুর স্ট্যাটাস "তোমার সাথে আবার নতুন করে প্রেমে পড়তে চাই"
বিঃদ্রঃ কেউ বাস্তবের কারো সাথে কিংবা লেখকের সাথে এই পোস্টের মিল খোঁজার চেষ্টা করবেন না।কারণ লেখক একজন নিঃসঙ্গ চিলেকোঠার সেপাই



সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৫৪