ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বানানোর পর অনেকদিন নিজের শাদি মোবারক আর অফিস প্রোজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে বাসায় রান্না বান্না করার সময় বের করতে পারছিলাম না।
বউ তো খালি খোটা দেয়, তুমি কইছিলা আমারে কত কি রান্না কইরা খাওয়াইবা এহন ত পল্টি মারো। আরে মোর খোদা, এই মাইয়া দেখি শুক্রবারেও আমারে শান্তি মতন ঘুমাইতে দেয় না। তেনি অবশ্য ইতিমধ্যে নানান নতুন রেসিপি কইরা আমার বাপ-মায়েরে তার দলে ভিড়ায়া লইছে।

অবস্থা বেশি সুবিধার দেখতাছি না। ঘরে বউয়ের গঞ্জনা, মা-বাপের দল পরিবর্তন এ নিজের ইমেজ লইয়া টানাটানি বাইধা গেল।

অবশেষে এক শুক্রবার এ ভাবলাম ফাকিঝুকি দিয়া হইলেও কিছু একটা বানাইয়া এই জনগণরে আবার নিজের দলে টানতে হইব।

বিয়া উপলক্ষ্যে গিফট পাওয়া রাইস কুকার, প্রেসার কুকার, স্যান্ডউইচ মেকার এ বাসা এখন সয়লাব।
ভাবলাম এইবার স্যান্ডউইচ মেকারের সাহায্য লইয়া পুলসিরাত পার হমু।
সাধারণ অর্থে দুইটি পাউরুটির চিপায় অখাদ্য-কুখাদ্য যে কোন কিছুরে ঢুকায়া দিলেই স্যান্ডউইচ তৈরি হয়া যায়। তয় ব্যাপারটা যেহেতু রাজনৈতিক তাই একটু নান্দনিক কইরাই রেসিপি তৈরি করলাম।
সেই রেসিপিডাই এইখানে
উপকরণ
১। শসা - ২ টা
২। টমেটো - ২ টা
৩। মেয়োনিজ - ২ চা চামচ ( এইডা আমি একটু বেশিই খাই)
৪। বিট লবণ - আধা চা চামচ
৫। সাদা গোল মরিচ - ১ চা চামচ
৬। ডিম - ৩ টা
৭। মুরগির মাংস - ২০০ গ্রাম (আনুমানিক)
৮। ছোট চিংড়ি - ২০০ গ্রাম (আনুমানিক)
৯। সয়া সস - আধা টেবিল চামচ
১০। উস্টার সস - আধা টেবিল চামচ
১১। তেল - ১০০ গ্রাম
১২। লবণ - স্বাদমত
১৩। টমেটো সস - পরিমাণ মত
১৪। টেস্টিং সল্ট - ২-৩ চিমটি (এইটা আমি বেশি লাইক করিনা)
বানানোর পদ্ধতিঃ
প্রথমে শসা ছুইলা গ্রেটিং/মিহি কুচি কইরা লইলাম। এর পর টমেটো ও ছোট ছোট করে কেটে নিলাম। এরপর তাতে সবটুকু মেয়োনিজ, সাদা গোল মরিচ আর বিট লবণ দিয়ে মাখিয়ে রেখে দিলাম।
তারপর মুরগির মাংস কুচি কুচি কইরা কাটলাম। কুচি মাংস আর চিংড়ি সয়া আর উস্টার সস, টেস্টিং সল্ট দিয়া মাখায়া ১০ মিনিট রেখে দিলাম।
১০ মিনিট পর এই মিশ্রণ ফ্রাই প্যান এ তেল উত্তপ্ত করে তাতে ঢেলে দিতে হবে। কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে ঢেকে দিতে হবে। তবে যদি মিশ্রণ শুকিয়ে যায় তাহলে অল্প পানি দিয়ে তারপর ঢেকে দিতে হবে। ৭-৮ মিনিট পর পানি শুকিয়ে গেলে তুলে রাখতে হবে।
এরপর ২ টা ডিম প্যান এ ভেজে নিয়ে কেটে ঝুরা ঝুরা করে নিতে হবে।
মূলতঃ এ ভাবে স্যান্ডউইচে দেয়ার তিনটা উপকরণঃ সালাদ গ্রেটিং, মাংস-চিংড়ি, ঝুরা ডিম আলাদা ভাবে প্রস্তুত করা হল।
এরপর পাউরুটির ভিতরে বাকি ডিমটা ফেটে মাখাতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে পাউরুটির যে দুইটা পৃষ্ঠের ভিতর উপকরণ গুলা দেয়া থাকবে কেবল সেই পিঠেই কেবল ফেটানো ডিম মাখাতে হবে।
এরপর ২টা করে পাউরুটি নিয়ে তার ভিতর পর্যায়ক্রমে গ্রেটিং করা সালাদ, চিংড়ি-মাংস আর ঝুরা ডিম দিতে হবে। চাইলে এর ভিতর টমেটো সস ও হালকা করে দিয়ে দেয়া যায়।
এরপর স্যান্ডউইচ মেকারের ভিতর ব্রাশ দিয়ে তেল মাখিয়ে নিতে হবে।
তাতে স্যান্ডউইচ মেকারের গায়ে স্যান্ডউইচ লেগে যায় না।
এরপর স্যান্ডউইচ মেকারের নির্দেশিত উপায়ে করলেই তৈরি হয়ে যায় স্যান্ডউইচ। আমার স্যান্ডউইচ মেকারের পদ্ধতি অনুযায়ী নিম্মোক্ত উপায়ে করেছিঃ
ভিতরে তেল মাখানোর পর পাওয়ার অন করতে হয়। এরপর হিট ইন্ডিকেটর লাইট যতক্ষণ জ্বলবে বুঝতে হবে ভিতরে হিট হচ্ছে। ইন্ডিকেটর লাইট অফ হয়ে গেলে সাবধানে ভিতরে পাউরুটি দিয়ে দিতে হবে। এরপর ৩-৫ মিনিট রাখলেই স্যান্ডউইচ তৈরি হয়ে যায়।
ফলাফলঃ বউয়ের মুখে হাসি। বাপ-মা কনফিউজড, কার দলে যাইব। শেষমেষ কয় তোগো জুড়ি মানাইছে।

পুনশ্চঃ
১। কাটাকুটির কাম নিজে না কইরা তেনারে দিয়া করাইছি।
২।এইবার বুকে বল লইয়া শ্বশুর বাড়িতেও রান্না-বান্না প্রোজেক্ট করছি গতকাল। সময় মতন শেয়ার করুম।