আগে একবারই ঘন্টা বাজিয়েছিলাম। তাও ইংল্যান্ডে। কখনও মন্দিরে ঘন্টা বাজাবো তা ভাবিনি। ধর্ম ভীরু আমি আমাদের ডকুমেন্টারী'র ডিরেক্টরের নির্দেশে ঘন্টা বাজাতে লাগলাম। 'ঢং' 'ঢং' করে ঘন্টা বাজছে। পাহাড়ের উপরের স্তব্ধতা ভেঙ্গে খান খান করে দিচ্ছে আমার সেই ঘন্টা বাজানো। দূর থেকে সেই ঘন্টার শব্দ ধারণ করছেন ডিরেক্টর মহাশয়।
ঘন্টা বাজানো শেষে সেবায়েত মহোদয়ের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম তিনি আমাদের যদি একটি সাক্ষাৎকার দেন আমরা খুবই উপকৃত হবো। পূজা শেষে তিনি আমাকে দাঁড়াতে বলে ঘরের ভিতর চলে গেলেন। অন্য দিকে আমি ডিরেক্টরকে এসে বললাম যে, সেবায়েত সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হয়েছেন।
১০-১৫ মিনিট পরে সেবায়েত মহাশয় বেরিয়ে এলেন। পরনে সেবায়েতের বিশেষ পোশাক। আমরা মন্দিরের সামনেই তাঁকে একটি গাছের গুঁড়ির উপরে বসিয়ে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলাম। জেনে অবাক হলাম যে, তিনি শাহ জালাল (রহ)-এর মাযারে নিয়মিত যান। সেখানে গিয়ে ভক্তি করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে হযরত শাহ জালাল (রহ) সিলেটে অত্যাচারী রাজা গৌড় গবিন্দকে সরিয়ে দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করছিলেন। সেবায়েত মহোদয়ের পূর্ব-পুরুষরাও মাযারে ভক্তি জানাতে যেতেন। তাঁর ছেলে-মেয়েরাও যান।
সিলেটে হিন্দুদের সংখ্যা অনেক বেশি। হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি উদাহরণযোগ্য। একজন ধর্মীয় মহাপুরুষ সেই সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার মূলে রয়েছেন জেনে যে কেউই খুশি হয়ে উঠবেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০২১ দুপুর ২:২৮