somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হাসি কান্নার অনুরণন

০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৪ রাত ৯:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১। জলজ পথ

পা ধূয়ে নাও রিনা
দেখো দিগন্তে আজ নতুন সূর্য
ন্যুব্জ হয়ে সুকোমল পা দু'খানি
ভেজাও শিশিরে।

একটু পরেই নামবে
রোদের স্রোত
কর্মমূখরতার মাঝে গুটিয়ে যাবে
আঙুল চিনবে না আঙুল
হাত চিনবে না হাত
এমনকি তুমি নিজেই
নিজেকে চিনবে না ।

আমিতো অনেক দূরের প্রবাসী
আমি রাতের শিকড়ে লিখে রাখা
ঝিঁঝি পোকার বিষাদ এলিজি
পা ধোও রিনা
পাঠ করি তোমার
গোপন জলজ পথ পরিধি।


২। হাসি কান্নার অনুরণন

তুমি কোন শব্দ বাক্য নও
যে চাইলে লিখতে পারি
তোমাকে দেখতে দেখতে
জনম যাবে আমার
তারপর অন্য গোলার্ধে
চোখ মেলে দেখবো চাঁদ
জোছনা তুমি জমিন আমি।

তুমি মানে উত্তর মেরু
তুমি মানে দক্ষিণ মেরু
তুমি শীতল সুমিষ্ঠ ঝর্ণাধারা
অত:পর আচমকা মরুভূমি
মাঝে মাঝে মরুদ্যান
বিরানভূমিতে থির
ক্যাকটাস আমি।

তুমি উড়ন্ত ম্যাকাও
ব্রাজিলের বনভূমি আমি
তুমি বিরল রঙের পাখা
আমি সাত সজ্জায় ঢাকা।

তুমি সকালের প্রশস্ত বারান্দা
বারান্দার মেঝেতে রোদের খেলা
তুমি দুপুর সূর্য মাঘের রোদ
বিকেলের শঙ্খ নদী, তীরের বালি
হিয়ার করতলে ঝিকিমিকি অভ্র সারি।

তুমি মানে এক জীবন
ক্ষুধা দারিদ্রে শাপমোচন
তুমি মানে দুই জীবন
হাসি কান্নার অনুরণন।


৩। যা কিছু সৃষ্টি

চাইলে যে বৃষ্টি নামাতে পারে
তার নাম মেঘদূত
চাইলে যে মৃত্যুকে বাজী ধরতে জানে
সে যমদূত
আমি বাজী ধরলেই
যেতে পারি না অসীমে
আমি চাইলেই যেতে পারি না
তোমার উঠোনে
আমি ফিরে ফিরে যাই অতীতে
ডুবুরীর মত তুলে আনি সিন্ধুক।

ছাই ভস্ম গোলাপ কামিনী
দুপুর রোদ নিকষ যামিনী
পথ থেকে পথ
রথ থেকে রঙ
নানান ঢঙে সেজেছিলে তখন
তুমি চাইলেই আমি হাত বাড়িয়ে দিতাম
অমনি এক লাল রঙা পাখি
অমনি আকাশের বুকে
তোমার নাম ধরে ডাকাডাকি।

তুমি চাইলে আমার মেঘলা আকাশ
তুমি চাইলেই মেঘ বৃষ্টি রামধনু
যা কিছু সৃষ্টি তোমার দৃষ্টি
তোমার ইশারায়।

তুমি হাত গুটিয়ে বসে আছো কেন
প্রসারিত করো অঞ্জলি
দেখো এখনি সাঁতরে যাবে
ঝাকে ঝাকে মৎস্য রূপালী।


৪। কথার খই

কথা কম কাজ বেশী
তাই বলে কি থেমে থাকে
রাত প্রহরীর বাঁশী
হাবেভাবে তো কত কিছু বলা যায়
তবু দিনে রাতে চলছে কথা
কথা দিয়ে মন গড়ার
কথা দিয়ে মন ভাঙ্গার
কথা দিয়ে কথা কাটানো
কথা দিয়ে হুল
কথা দিয়ে ফুল ফোটানো
কেউ সহজ বলছে
কেউ পেচিয়ে বলছে
কেউ না বলে হাপুস হুপুস খাচ্ছে।

আমরা আম আদমী
বলি আর না বলি
সংগোপনে চলি
দুটো পেলে খুশী
চারটে পেলে
বগল বাজিয়ে হাসি।

গেল বার অনেক কথা বলেছেন
চামার চন্ডাল ভেবে
দু'গালে কষেছেন
এবার আর সইতে পারবো না
কথার তুলোধূনায় শীত কাটবে না
এবার চেয়ে চিন্তে আছি
বাসি কথা রেখে
নগদ কারবারে বাঁচি।



ছবিঃ উনার এ্যালবাম। (স্বপ্নপুরী, দিনাজপুর)
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০১৪ দুপুর ১:১২
৩২টি মন্তব্য ৩২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বডি সোহেলের মন ভালো নেই !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ৯:২৫


আমাদের জাতীয় নেতাদের বংশধরেরা বড়ই অদ্ভুত জীবন যাপন করছেন। তাদের বাপ চাচাদের মধ্যে মত-বিরোধ থাকিলেও একে অপর কে জনসম্মুখে অপমান করেন নাই। এক্ষেত্রে নেতাদের প্রজন্ম পূর্বপুরুষ দের ট্রাডিশন ধরে রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পত্রিকায় লেখা প্রকাশের ই-মেইল ঠিকানা

লিখেছেন মি. বিকেল, ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ১:৩৩



যারা গল্প, কবিতা, সাহিত্য, ফিচার বা কলাম লিখতে আগ্রহী, তাদের জন্য এখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকীয় পাতা, সাহিত্য পাতা ইত্যাদির ই-মেইল ঠিকানা দেওয়া হলো। পত্রিকায় ছাপা হলে আপনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেনাবাহিনীর কতিপয় বিপথগামী কর্মকর্তার দায়ভার কি সেনাবাহিনী নেবে? তাদের সমালোচনাকে অনেকে সেনাবাহিনীর সমালোচনা মনে করছে কেন?

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ২:২৯

বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এখনও আমাদের জন্য গর্ব এবং আস্থার জায়গা। কারণ দুর্নীতির এই দেশে একমাত্র সেনাবাহিনীই সেই প্রতিষ্ঠান যার আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় সুনাম এখনও আছে। কতিপয় বিপথগামী কর্মকর্তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রসঙ্গ: মৃতদেহ সৎকার এবং সঙ্গীতসৎকার....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ সকাল ১১:৪৯

প্রসঙ্গ: মৃতদেহ সৎকার এবং সঙ্গীতসৎকার....

কথা সাহিত্যিক শরতচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বহু বছর আগে তার “শ্রীকান্ত” উপন্যাসে ইন্দ্রকে দিয়ে সর্বকালীন এবং সর্বজন গৃহীত একটি উক্তি করিয়েছিলেন, সেটি হলো,- ”মরার আবার জাত কি”!

মৃতদেহ সৎকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প: শেষ রাতের সুর (পর্ব ২)

লিখেছেন আমিই সাইফুল, ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ বিকাল ৪:৫০

রাফি সাহেবের পড়ে যাওয়ার খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ল দ্রুত। সকালের মিষ্টি রোদ গাজীপুরের এই ছোট্ট গ্রামে যখন পড়ছে, তখনই কাজের লোক রহিমা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকল। সিঁড়ির নিচে রাফি সাহেব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×