১) তখন ১ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছি কেবল। আমার মনে আছে বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগেই মা আমাকে হাতের লেখা শিক্ষা দিয়েছিলেন। আমার বয়স তখন ৪ থেকে ৫ হয়নি, হবে এমন। (এটা মার কাছে শোনা) । আমার বিদ্যালয়ে যাওয়াতে সবাই খুশিই ছিলো। আর কোন ভয় ছিলোনা কারন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষিকা শিক্ষক ছিলো আমার আপন আত্মীয়ের মাঝেই। তো বড় বোনের সাথে ভাইদের সাথে গিয়ে বসে থাকতাম।
প্রথম স্কুলে ভর্তি হয়ে আমি আমার বাবাকে চিঠি লিখেছিলাম। আর সেটা কিভাবে পোস্ট করবো, পাঠাবো সেটা নিয়ে ছিলো খুব চিন্তা । তো আমার চাচ্চু আমাকে চিঠির খাম এনে দিয়েছিলো। আর সেটা আমরা একসাথে গিয়ে ইউনিয়ন এর ডাকঘর এ ডাকবাক্সতে রেখে আসি।
সত্যি বলতে গেলে ওইটাই আমার জীবনের একমাত্র লেখা চিঠি। আর একমাত্র ব্যক্তিগত চিঠি। যেটা আমি আমার আব্বুর কাছে লিখেছিলাম। আর আবদার ছিলো ঢাকা থেকে একটা সাইকেল নিয়ে এসো। ছোট সাইকেল, যাতে আমি বিদ্যালয়ে যেতে পারি। লেখা ছিলো একেবারেই কাচা হাতের।
এখন মানুষ আর চিঠি লিখে না। ব্যক্তিগত চিঠি লেখেনা। ডাকঘর এখন শুধুই সরকারি অফিস আদালতের চিঠি আনা-নেওয়া করে। ডাকবিভাগ নিজেও এখন আধুনিক হয়ে গেছে,। তারাও মোবাইল ব্যাংকিং চালু করেছে নাম নগদ।
আজ সামুতে সবাই মুক্তি দিবস পালন করছে। আমার মতে এটাকে সামু মুক্তি দিবস ঘোষণা করা যেতেই পারে। কারন আমি এই কয়দিনে অনেক ব্লগার, জ্ঞানী গুণী লোককে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। আমি মাঝে মাঝেই তাদের নাম সার্চ দিয়ে সেখানে দেখে আসতাম যে, তারা কোন নতুন লেখা দিয়েছেন কি? অনেক ব্লগার এই কয়দিন ছিলেননা বললেই চলে। এখনো আসেননি অনেকে। তারপরও ব্লগে আজ ব্লগার সংখ্যা বেশি বেশি ছিলো । এটা একটা আনন্দের সংবাদ।
পাঠক সংখ্যা নিতান্তই কমে গিয়েছিল, অনেক ব্লগারদের খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিলোনা। তাই ব্লগ বাড়িটাকে ফাঁকা ফাঁকা লাগতো। তাই আজকের দিনকে ব্লগ মুক্তি দিবস বলা যেতেই পারে ।
একটা দিন ছিলো, আমাদের গ্রামে বিদ্যুৎ ছিলোনা। আমরা হারিকেন দিয়ে অন্ধকার দূর করতাম। সপ্তাহে দুইদিন বাজার থাকতো। আর সেই বাজারের দিন, বাজার থেকে কেরোসিন কিনে নিয়ে আসতাম, আর সেই কেরোসিন শেষ হয়ে গেলে, । যদি কোন রাতে এমন হতো সেই রাত অন্ধকারে থাকতো ঘর। তাই বেশি করে ঘরে মজুদ করে রাখতাম। আজ সেই দিন নাই, আমাদের ঘরে হারিকেন ও নাই, এসব এখন ইতিহাস।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১১:৫৪