সংজ্ঞা অনুযায়ী “গড” বলতে এমন একজন স্বজ্ঞাত ও বুদ্ধিমান সত্তাকে বুঝানো হয় যিনি এই প্রাকৃতিক মহাবিশ্বকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি এই প্রাকৃতিক মহাবিশ্বের ঊর্ধ্বে (Transcendent)। গডের অস্তিত্বে বিশ্বাসীকে বলা হয় আস্তিক, আর গডের অনস্তিত্বে বিশ্বাসীকে বলা হয় নাস্তিক।
উদাহরণস্বরূপ, যদিও এই প্রাকৃতিক মহাবিশ্বকে বাস্তবে কোনো কিছুর সাথেই তুলনা করা সম্ভব নয় তথাপি যদি একটি ঘড়ির সাথে তুলনা করা হয় তাহলে যারা ঘড়ির নির্মাণকারীর অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন তারা আস্তিক, আর যাদের বিশ্বাস অনুযায়ী ঘড়ির কোন নির্মাণকারী নাই (!) বা থাকার দরকার নাই (!) তারা নাস্তিক।
এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার ক্ষেত্রে মাত্র দুটি সম্ভাব্য অনুসিদ্ধান্ত আছে:
১) স্রষ্টা আছে
অথবা,
২) স্রষ্টা নেই।
এই দু-এর বাইরে বা মাঝামাঝি কোনো সম্ভাবনা থাকতে পারে না। যেমন একটি ঘড়ির নির্মাণকারী আছে, অথবা নেই। টেবিলের উপর একটি গ্লাস আছে, অথবা নেই।
এবার নাস্তিকদের বিশ্বাস যদি সত্য হয় - অর্থাৎ এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা যদি না থাকে তাহলে তার অনস্তিত্ব প্রমাণ করা অসম্ভব। কারণ বাস্তবে যার কোনো অস্তিত্বই নাই তার অনস্তিত্ব কোনো ভাবেই প্রমাণ করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে আস্তিকদের বিশ্বাস যদি সত্য হয় - অর্থাৎ এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা যদি থেকে থাকে তাহলে তার অস্তিত্ব একদিন না একদিন প্রমাণ করা সম্ভব হতেও পারে। যেমন আজ থেকে কয়েক শতক আগে আমাদের দৃষ্টিতে অনেক কিছুরই অস্তিত্ব ছিল না। কিন্তু বিজ্ঞানের বদৌলতে আজ তাদের অস্তিত্বকে মেনে নিতে হচ্ছে।
অতএব, নাস্তিকতা নিঃসন্দেহে একটি অবৈজ্ঞানিক এবং সেই সাথে অখণ্ডনযোগ্য বিশ্বাস।