somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হে নবীন লেখক, বাড়ান আপনার সৃজনশীলতা

২০ শে জানুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ১২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনি নবীন লেখক। কলম ধরেছেন একটা ভালো গল্প লেখার জন্য। কিন্তু কলমের ডগা দিয়ে কিছুই বের হচ্ছে না। আটকে গেছেন। আটকে গেছে আপনার লেখা।
এই অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আপনার সৃজনশীলতার দিকে চোখ ফেরান। অফুরান সৃজনশীলতা নিয়ে আপনি জন্ম নিয়েছেন। সেই সৃজনশীলতার খনিতে এবার খনন করুন।
কিভাবে ?
আপনাকে একটা অনুশীলনী করতে হবে। নিশ্চিত থাকেন, তাতে করে আপনি সৃজনশীলতাকে ব্যবহার করতে পারবেন। আপনার ভেতরে থাকা সুপ্ত আগ্নেয়গিরির মতো টগবগ করতে থাকা সৃজনশীলতা বেরিয়ে আসবে আপনার লেখায়।
এবার সহজভাবে বোঝা যাক। ভালো লেখার সবচেয়ে বড় গুণ হল সেটার দৃশ্যমানতা। যেই লেখা পড়লে পাঠক দৃশ্য দেখতে পায়, সেটা ভালো লেখা। সুতরাং একজন লেখককে লেখনীর মাধ্যমে দৃশ্য তৈরি করে যেতে হয়। তার বর্ণনার মাধ্যমে তুলে আনতে হয় একটা নিখুঁত দৃশ্য। কিন্তু সেই দৃশ্য লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরার পূর্ব শর্ত হল, নিজের মানস-চোখে সেই দৃশ্যটি দেখতে পারা।
সমস্যা হল, অনেক নবীন লেখক এই দৃশ্য মানস-চোখে দেখতে পান না। যারা তাদের মানস-চোখ ব্যবহার করতে পারেন না, তাদের জন্য একটা অনুশীলনী। এই অনুশীলনী আপনার কল্পনা শক্তি বাড়াবে। আপনার স্মৃতি শক্তি বাড়াবে।

দৃশ্য দেখার অনুশীলনী :
০১) মেরুদন্ড সোজা করে বসুন অথবা শুয়ে পড়–ন। বসে বা শুয়ে যে ভঙ্গি আপনার আরাম লাগে সেই ভঙ্গিতে যান। কিন্তু শর্ত হল, মেরুদন্ড সোজা রাখতে হবে। চোখ বন্ধ করে দিন। শরীর শিথিল করে দিন।

০২) এবার নাক দিয়ে গভীর শ্বাস গ্রহণ করুন। ধীরে ধীরে শ্বাস গ্রহণ করুন। ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে শ্বাস ত্যাগ করুন। পুরো প্রক্রিয়াটির মধ্যে কোন তাড়াহুড়ো করবেন না। ধীরে শ্বাস নিন এবং ত্যাগ করুন।

০৩) শ্বাস গ্রহণ এবং ত্যাগের সময় আপনি কোন শিথিলায়ন মিউজিক ব্যাবহার করতে পারেন। ধ্যান বা যোগ ব্যায়ামের সময়ে যে ধরনের শিথিলায়ন মিউজিক ব্যাবহার করা হয়, সেটা শুনতে পারেন।

০৪) ঘরে সুগন্ধি এয়ার ফ্রেশনার স্প্রে করে দিতে পারেন। নিজের গায়ে সুগন্ধি মাখাতে পারেন।

০৫) চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে থাকুন। এক সময় খেয়াল করবেন, আপনার শরীর সম্পূর্ণ শিথিল হয়ে গেছে।

এবার মূল কাজ । মানে এবার আপনি মানস-চোখে দৃশ্য দেখবেন।
০৬) নিজেকে একজন শিশু হিসেবে কল্পনা করুন। অথবা নিজের শৈশবে ফিরে যান।

০৭) নিজেকে কোন প্রাকৃতিক পরিবেশে দেখুন। যেমন : প্রান্তর, মরুভূমি, পাহাড়, বন বা সমুদ্রের তীর। একেক দিন একেক পরিবেশে যেতে পারেন।

০৮) সচেতন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আপনার পঞ্চ ইন্দ্রিয় ব্যবহার করুন। যেমন :
সমুদ্র সৈকতের ক্ষেত্রে -
সামুদ্রিক বাতাসের গন্ধ নিন। ( নাক)
পাখির গান শুনুন, পাতা ঝরার শব্দ শুনুন, সামুদ্রিক ঢেউয়ের শব্দ শুনুন । (কান)
সাগরের গভীর নীল সৌন্দর্য দেখুন। ( চোখ)
সাগরের লোনা জলের স্বাদ নিন। (জিহ্বা)
বাতাসের / পানির তাপমাত্রা (গরম/ঠান্ডা) অনুভব করুন । (ত্বক)

০৯) এবার কিছু প্রশ্নের উত্তর দিন।
ক) আপনি কী পরিধান করে আছেন ?
খ) আপনার চুলগুলো কেমন দেখাচ্ছে ?
গ) আপনার মুখের অভিব্যক্তি কেমন ?
ঘ) আপনি কি একা নাকি বন্ধুদের সহ আছেন ?
ঙ) আপনি কয়েক মুহূর্ত সেই এলাকায় অবস্থান করে ভাবুন, আপনার শৈশবে ফিরে যাওয়াটাকে কেমন লাগছে ? কেমন বোধ করছেন ? আপনি কি সুখী ? দুঃখী ? একাকী ? উচ্ছল ? মুক্ত ?
আপনার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কি আপনাকে কিছু বলছে ? কোন ইশারা কি পাচ্ছেন ? মনে হচ্ছে কি প্রকৃতি আপনার সঙ্গে কথা বলছে ?

১০) এবার ধীরে ধীরে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গুনুন। মনে মনে বলুন, আমি ১০ বলার সঙ্গে চোখ খুলব এবং সম্পূর্ণ জেগে উঠব। ১০ গুনে চোখ খুলুন এবং সম্পূর্ণ জেগে উঠুন।
এবার লেখার পালা। আপনি এতক্ষণ যে দৃশ্য দেখেছেন, সেটা এবার লিখে ফেলবেন।

১১) কাগজ কলম নিন। ইচ্ছে করলে কম্পিউটারেও লিখতে পারেন। এতক্ষণ মানস চোখে যে দৃশ্য দেখলেন, এবার সেই দৃশ্য বিস্তারিত লিখে ফেলুন। প্রথম পুরুষে ও বর্তমান কালে লিখবেন। যা দেখেছেন, অনুভব করেছেন - সব লিখবেন।

১২) প্রথম ২০ মিনিট লেখা থামাবেন না। লিখে যেতে থাকুন। কী লিখছেন পড়বেন না। কেমন লেখা হচ্ছে সেটা নিয়ে ভাববেন না। বানান বা ব্যাকরণ নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। গড় গড় করে লিখে যান মনের খুশিতে। এটাকে বলা হয় মুক্ত লেখা বা ফ্রি রাইটিং।

১৩) আপনি যদি লিখতে গিয়ে আটকে যান, তবে এই আটকে যাওয়ার ফলে আপনার মধ্যে যে অনুভূতি তৈরি হয়েছে, সেটা লিখে ফেলুন। লিখে ফেলুন কেন আপনি লিখতে পারছেন না, লিখতে না পারার ফলে আপনার কেমন লাগছে। যাই ঘটুক না কেন ২০ মিনিটের আগে লেখা থামাবেন না। ইচ্ছে করলে মোবাইল ফোনে বা ঘড়িতে একটা ২০ মিনিটের টাইমার সেট করে নিতে পারেন।

শেষ কথা :
এই অনুশীলনীটাকে ‌'দিবা স্বপ্ন’ দেখা বলতে পারেন। এই 'দিবা স্বপ্ন’ দেখা এবং সেটাকে লিখে ফেলার চর্চার মধ্য দিয়ে আপনার লেখার ক্ষমতা বাড়বে। আপনি যে কোন দৃশ্য বর্ণনা করায় পারদর্শী হয়ে উঠবেন। আপনার লেখা হবে দৃশ্যময় এবং আকর্ষণীয়।
হে নবীন লেখক, তাহলে আজ থেকে সৃজনশীলতার এ চর্চা শুরু হোক। প্রতিদিন কমপক্ষে একবার করে যান এ চর্চা। সৃজনশীলতার এ জগতে আপনাকে স্বাগতম।

দ্বিতীয় পর্ব

শাহজাহান শামীম
(চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক)
০১৯১২৫৭৭১৮৭ বা ০১৬৮২৩০৩৩১৯
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ২:০৭
৩২টি মন্তব্য ২৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যে শহরে বৃষ্টি নেই

লিখেছেন রিয়াজ দ্বীন নূর, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৩০



শহরটা নিচে। অনেক নিচে। রিকশার টুংটাং, বাসের হর্ন, কারো হাসির শব্দ, কারো ঝগড়ার শব্দ — সব মিলিয়ে একটা জীবন্ত শহর। কিন্তু রিয়াজের কাছে এই সব শব্দ এখন অনেক দূরের।... ...বাকিটুকু পড়ুন

Dual Currency Card Needed for Meta Monetization. Urgent National Interest.

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬

ছবি

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছি প্রায় চল্লিশ মিনিট। এক জায়গায় এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে সাধারণত দুই ধরনের সন্দেহ হয়- এক, লোকটা কিছু করতে এসেছে। দুই, লোকটার করার কিছু নেই। আমি কোনোটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

’দেশ বিক্রির অভিযোগ, কাঠগড়ায় ইউনূস–জামাত–বিএনপি–এনসিপি”

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:১৩

’দেশ বিক্রির অভিযোগ, কাঠগড়ায় ইউনূস–জামাত–বিএনপি–এনসিপি”
==========================================
চুক্তি মানেই তো স্বার্থের ভারসাম্য। কিন্তু সেই ভারসাম্য যখন দেশের স্বার্থকে উপেক্ষা করে, তখন সেটি আর চুক্তি থাকে না প্রশ্নবিদ্ধ সমঝোতায় পরিণত হয়। ইউনূসের শেষ সময়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্তদের সকল অপকর্মের তদন্ত হোক....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮


সময় যত যাচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে অস্বস্তিকর সত্য!
সময় গড়িয়ে যাচ্ছে- আর অতীতের অনেক ঘটনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, সাক্ষ্য ও তথ্য সামনে আসছে-
যেখানে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত ইব্রাহীমের (আ.) কুরাইশ আহলে বাইতের মধ্যে হযরত আলীর (রা.) মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের সময় সবচেয়ে কম

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৫৯



সূরাঃ ২ বাকারা, ১২৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২৪। আর যখন তোমার প্রতিপালক ইব্রাহীমকে কয়েকটি বাক্য (কালিমাত) দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন, পরে সে তা পূর্ণ করেছিল; তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি তোমাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×