নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সানি লিওন বা মিয়া খলিফার শারীরিক অঙ্গভঙ্গি আমাকে আর উত্তেজিত করে না।কোথায় যেন একটা বিষণ্ণতা-হতাশা-অপূর্ণতা খুজে পাই।
আচ্ছা,শারীরিক তৃপ্তিটাই কি সব?জৈবিক চাহিদা আর ক্ষুদার জন্যই কি আমরা ছুটে চলি?আত্মার সুখ বলতে কি সত্যিই কি কিছু নেই?
প্রশ্নগুলা আগে মনে জমাট বাঁধেনি, এখন খুব যন্ত্রণা করে,খুউউব।
আমার দুই জমজ ছেলে রাবার-শাবাব যতবার প্রশ্ন করে,"বাবা,বাবা, মা কোথায়?কখন আসবে?ফুপি কখন শপিং করে ফিরে এসেছে,মা আসেনি কেন?"
আমাদের প্রেমটা বাকিদের মত ছিল না,আমাদের পরিবার চাইত ;বেশ জোরই করেছিল।তাই অনেক মান-অভিমান-রাগ পেড়িয়ে আমরা প্রেমে পরেছিলাম।
আমার তখনো মনে হত,কেয়া বেশি ছাড় দিয়েছিল,এখনো তাই মনে হয়।আমি মোটেই সুদর্শন ছিলাম না।তাই সুন্দরি কেয়ার আমাকে মেনে নেয়া মোটেই সোজা ছিল না।আমি কালো,খাটো।মেয়ে ভোলানো আচরণও জানি না।কিন্তু পারিবারিক চাপেই মনে হয়,কেয়া মেনে নিয়েছিল।
আমি কোন সমঝোতা করিনি,তার প্রেমেই পরেছিলাম।টিউশনি, ক্লাস ফাকি দিয়ে তার সাথে দেখা করতাম।ভ্যান থেকে শপিং করা আমি,তার জন্য দামী গিফটই কিনতাম।না,তাকে মোহিত করার জন্য না।আমি পিয়াতে মোহিত ছিলাম তাই।বন্ধুরা তাকে আমার অলংকার বলতো, তাই!
কষ্ট করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি দেয়া আমি,তাকে নিয়ে দামী রেস্টুরেন্টেই যেতাম,তার সাথে সময় কাটাতে ভালো লাগতো, তাই!
উজ্জ্বল রঙের শার্ট বা গেঞ্জি, থকথকে স্যুপ,লা বাম্বা'র ফুচকা,রঙিন চাঊমিন আমার কখনো ভালো লাগতো না তবু কখনো বলি নি।আস্তে আস্তে সয়ে গেছে।তার একদল ছেলে বন্ধুও আমার পছন্দ ছিল না,কিন্তু কিছু বলিনি।কারণ তাকে আমি খুব ভালোবাসতাম!
তার সাথে শপিংএ গিয়ে সব সময় টেনশনে থাকতাম,সামনে পরিক্ষা আমাকে টপার পজিশন ধরে রাখতে হবে,ছাত্রের পরিক্ষা পড়াতে যেতে হবে।দেখা যেত,৩ ঘন্টা ঘোরাঘুরি করার পর সে কিছুই কিনেনি।খুব বিরক্ত হতাম,কখনো প্রকাশ করিনি।কারণ তাকে ভালোবাসতাম!
Fire on Ice রেস্টুরেন্ট আমাদের প্রথম স্পর্শের সাক্ষী! আমিই তাকে স্পর্ধা করার জন্য মুখিয়ে থাকতাম।স্বপ্নে কত রাত তাকে পেয়েছি ইয়ত্তা নেই।
আমাদের বিয়ে হয়েছিল ২০১২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি। বিয়ের আগে কখনো মনে হয়নি, সে নিমরাজি।
বাসরে তার চোখে তাকিয়ে, আমি আমার স্বর্গই দেখেছিলাম!আমার বুকে কেমন করে লুটিয়ে থাকতো!কই,আমিতো তার শারীরিক অপূর্ণতা বুঝতে পারিনি?তার চোখ,ঠোটের কোণে কখনো অপূর্ণতা দেখতে পাইনি!
প্রাচীন শারীরিক খেলা দুজন বেশ উপভোগ করেছি।তার চোখে,শরীরে তৃপ্তিই ছিল।তবে সেটাকি অভিনয় ছিল?
আমাদের ভালোবাসার ফসল হিসেবে দুনিয়ায় এসেছিল রাবাব-শাবাব ২০১৬ সালের ১লা নভেম্বর! নিজের জ্বীন-DNA নিজের হাতে হাতপা নাড়াচ্ছে,পিটপিট করে তাকিয়ে আছে!এটা দেখে আমার প্রায় মূরছা যাবার অবস্থা হয়েছিল!
লেবার পেইন ঊঠলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল।ডাক্তার আমাকে কিছুতে OT তে থাকতে দিবে না।কেয়া আমার হাত ছাড়েনি,শক্ত করে ধরে ছিল।আমার হাত,বুকের দাগ এখনো তার লেবার পেইনের প্রতিফলন বহন করে।
কই আমিতো কখনো তার মাঝে অতৃপ্তি-ঘৃণা দেখতে পাই নি?
তারপর সে বিচ্ছিরি মোটা হয়ে গেল।মোটা মেয়ে আমার একদম পছন্দ না।প্রতিবার বিছানায় কেমন মরা মাছেরমত পরে থাকতো, আগের মত আবেদন নেই।তার চেয়ে বরং বাসার কাজের মেয়েটাকে দারুণ লাগতো।
কই,আমারতো নৈতিক পদস্খলন হয়নি?আমিতো তাকেই বিছানায় চাইতাম,তাকে নিয়েই খুশি ছিলাম।কখনো কখনো সে নিজেই রাজি হত না,আমি প্রায় জোর করেই.......
পরে কিছুদিন আমি তাকে জোর করিনি।ভেবেছি সে একটু সময় চাচ্ছে,থাকুক না কিছুদিন। সারাদিন একা বাসায় থেকে দুইটা জমজ বাচ্চার ঝামেলা পোহানো মোটেই সোজা না।তারপর রাতে আবার আমার শারীরিক অত্যাচার? তাই নিজের পৈশাচিক চাহিদাটাকে একরকম দাবিয়েই রেখেছিলাম!
আমি তাকে হারিয়ে ফেলেছি, আমি বুঝতেই পারিনি!যেমন বুঝতে পারেনি কামরুল ভাই।
তার বৌ আমাদের কাজের লোকের সাথে ভেগে গিয়েছিল।
অথচ কামরুল ভাইকে পাড়ার মেয়েরা সুপুরুষ হিসেবেই জানতো। এলাকায় চেংড়া ছেলেদের কাছে প্রচলিত ছিল,কামরুল ভাই নাকি এলাকার প্রায় সব মেয়েকেই পাট খেতে নিয়ে গিয়েছে!একটা ঘটনার সাক্ষীতো আমি নিজেই।
তবে এই সফল-সুপুরুষ লোকটির বৌ কেন কাজের লোকের সাথে ভেগে গেল?কাজের লোকটি তাকে সুন্দর জীবন দিতে পারবে?
সবাই বলে,কামরুল ভাই তার যুবক বয়সের পাপের ফল ভোগ করেছে।তবে, আমার সাথে কেন এমন হল?আমিতো কখনো অমন পাপ করিনি!
আমিতো তার এলোকেশে আমার স্বর্ণ খুঁজতাম।অপেক্ষায় থাকতাম,কখন ছেলেগুলা ঘুমিয়ে গেলে সে আমার কাছে আসবে।
আজ ১২ দিন হল,কেয়া আমাদের বাসার ড্রাইভারের সাথে চলে গিয়েছে।ড্রাইভার ছেলেটিকে মাত্র ২ মাস হল রাখা হয়েছে,সে এমন কি করলো, যা আমি ৭ বছরেও করতে পারিনি?খুব জানতে ইচ্ছে করে।
আমার ছেলেগুলা না হয় ছোট,একটা সময় আর মায়ের কথা মনে করবে না!আমার কি হবে,আমার এই ব্যর্থতা আমাকে সারাটা জীবন কুড়ে খাবে।
মানুষ যখন বলে,"আহারে এমন দুধের শিশু ছেড়ে কেমনে গেল মাইয়াটা?"
খুব খারাপ লাগে,রাগ হয়!
হয়তো আমি তাকে সুখ দিতে পারিনি,সে তো আমায় ঠিকই সুখের সাগরে ভাসিয়েছিল।
কখনো দেখা হলে প্রশ্নগুলা জিজ্ঞেস করবো.......
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ৮:২৯
মেহরাব হাসান খান বলেছেন: এটা নিছক গল্প।
হরহামেশাই অনেকে ফেলে যাচ্ছে,পরের সংসারে দেখা যায় সুখেই থাকে।আমিই ২ টা দেখেছি।অবাক লাগে খুব অবাক লাগে!
২| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৪৭
বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: মুুগ্ধ পাঠ!
আসলেই ধুলোর প্রাসাদই বটে!
প্রশ্নের উত্তর পেলে- আমাদের জানাতে ভুলবেন না যেন হা হা হা
+++++
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ৮:২২
মেহরাব হাসান খান বলেছেন: এটাতো গল্প,উত্তর পাওয়ার সুযোগ নেই।
ধন্যবাদ!প্রশংসা করলে উৎসাহ পাই।
৩| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১১:১৫
সাইন বোর্ড বলেছেন: অসাধারন অাপনার লেখা, চরিত্রের মধ্যে এভাবে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে সবাই পারেনা ।
০১ লা মার্চ, ২০১৮ রাত ১১:১০
মেহরাব হাসান খান বলেছেন: ধন্যবাদ, উৎসাহ পেলাম।
৪| ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১১:০৭
রাজীব নুর বলেছেন: হুম।
৫| ০১ লা মার্চ, ২০১৮ রাত ১১:২০
দিশেহারা রাজপুত্র বলেছেন: ক্যাজুয়াল রাইটিং। আমার ভাল লাগে। মনে হয় আড্ডা দিচ্ছি। টানা পড়া যায়।
ধুলো/ধূলি বানানটা মনে হয় এইরকম।
©somewhere in net ltd.
১| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:১৯
পালক পালক বলেছেন: জানিনা গল্প নাকি সত্যি তবে যে নিজের সন্তানদের এভাবে ফেলে যেতে পারে সে ভালবাসতে পারেনা। কাউকেই না